
বয়স বাড়লেই বেশির ভাগ মানুষেরই শুরু হয় বাতের (Arthritis) ব্যথা। মেয়েদের ক্ষেত্রে এই বয়সের সীমা ৪০, এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে সাধারণত ৫০-এর কাছাকাছি। বাতের ব্য়থায় ভোগান্তি হলে শুধু গাদা গাদা ওষুধপত্র নয়, বরং ঘরোয়া টোটকাতেও ভরসা রাখা দরকার। বিশেষ করে খাওয়াদাওয়ার দিকে নজর দিন।
অস্থিসন্ধিতে কার্টিলেজের ক্ষয়ের ফলে বাতের ব্যথা বা আর্থ্রাইটিসের (Arthritis) ব্যথা শুরু হয়। সাদা রাবারের মতো এই কার্টিলেজের উপস্থিতি অস্থিসন্ধিতে দুটি হাড়ের মধ্যে ঘর্ষণ কমায়। তাই এর ক্ষয়ের পর শুরু হয় হাড়ের ক্ষয়, যার পরের ধাপই হল বাতের ব্যথা। মূলত দু’ ধরণের বাত বেশি দেখা যায়— অস্টিও আর্থ্রাইটিস ও রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস। বিশেষজ্ঞরা বলছেন শরীরচর্চা ও পরিশ্রমের অভাব, অনিয়ন্ত্রিত খাওয়া-দাওয়া প্রভৃতি কারণে এই বাতের আধিক্য আমাদের দেশে।
ফ্যাট নাকি শরীরের শত্রু। ফ্যাট খেলেই নাকি মোটা হয়ে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা। এমন বিশ্বাস বদ্ধমূল অনেকের। ডায়েট চার্ট বানাতে গিয়ে বহু মানুষ তাই প্রথমেই তালিকা থেকে ফ্যাট জাতীয় খাবারগুলোকে বাদ দিয়ে দেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমনটা একেবারেই ঠিক নয়। শুধু শরীরের গঠনের জন্য নয়, শারীরবৃত্তীয় কাজ সুষ্ঠভাবে করে যাওয়ার জন্য ফ্যাটও প্রয়োজন। ফ্যাটেরও ভাল খারাপ রয়েছে। খারাপ ফ্যাট যেমন শরীরের ক্ষতি করে, তেমন ভাল ফ্যাট অনেক অসুখ বিসুখ থেকে শরীরকে রক্ষা করে।
ভাল ফ্যাট হিসেবে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের বেশ সুনাম রয়েছে। হার্টের রোগে, কোলেস্টেরলের সমস্যায়, প্রদাহ কমানোয় কাজে আসে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। আর্থ্রারাইটিস বা বাতের ব্যথা কম করতেও কার্যকরী এই ফ্যাট।
খাবারের মধ্যে দিয়ে দু’ধরনের ফ্যাট মূলত আমরা পেয়ে থাকি। পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট। এই দুটির মধ্যে পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট আমাদের শরীরের জন্য বেশি উপযোগী। ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটেরই অংশ। আমাদের শরীর নিজে নিজে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড তৈরি করতে পারে না। তাই এই ফ্যাটের উপকারী দিকটুকু পাওয়ার জন্য আমাদের বাইরের খাবারের ওপরই নির্ভর করতে হয়।
বাতের (Arthritis) ব্যথায় ভোগান্তি? ডায়েটে রাখুন ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড
পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড মূলত দুই প্রকার। ওমেগা-৩ আর ওমেগা-৬। শিশুর গর্ভে থাকা অবস্থাতেই মস্তিষ্কের বৃদ্ধি ও গঠনে কাজে আসে ওমেগা-৩। তারপর বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নানান শারীরবৃত্তীয় কাজে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সাহায্য করে। ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড ভীষণভাবে প্রদাহ বা ইনফ্ল্যামেশন ঘটায়। অপরদিকে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডে আছে প্রদাহ বিরোধী বা অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি উপাদান। আমাদের খাদ্যতালিকায় কিছু ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবারেরও প্রয়োজন রয়েছে। তবে ওমেগা-৩ র সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রেখে খেলে তা আর শরীরের জন্য ক্ষতিকর হয় না।
বাতের ব্যথা বা আর্থ্রারাইটিস মূলত প্রদাহ থেকেই হয়। তাই এই রোগের রোগীরা যদি খাদ্যতালিকায় অল্প হলেও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রাখতে পারেন, তাহলে প্রদাহ কম হয়। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার খান, তাঁদের হাঁটু ব্যথা বা জয়েন্ট পেইন কম হয়। এমনকি এসব কারণে খুব একটা ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজনও পড়ে না।
কোন কোন খাবার থেকে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড পাব?
মূলত সামুদ্রিক মাছ, বেশ কিছু শাকসবজি ও ফল থেকে ওমেগা-৩ পাওয়া যায়। যেমন-
ফ্ল্যাক্সসিড
আখরোট
উদ্ভিজ্জ তেল
সার্ডিন মাছ
সলমন মাছ
আটলান্টিক ম্যাকেরেল
টুনা মাছ ইত্যাদি
অনেকে স্বাস্থ্যের জন্য ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সাপ্লিমেন্টও গ্রহন করে থাকেন। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সাপ্লিমেন্ট না নেওয়াই ভাল।