টেনিস এলবোয় ভুগছেন! খুন্তি ধরাও চলবে না কিন্তু

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পোশাকি নাম ‘টেনিস এলবো’। সাধারণত আঘাতজনিত হাতের সমস্যা। নাম শুনে অনেকেই হয়তো ভাবছেন, যারা লং টেনিস খেলেন তাঁরাই শুধুমাত্র এই সমস্যায় ভোগেন। তা নয়, অন্যান্য খেলার তুলনায় টেনিস খেলোয়াড়দের একটু বেশি ভোগালেও যাঁরা টেনিস র‌্যাকেট ছুঁয়েও দেখেননি, তাঁদেরও এ অসুখ হতে পারে। বলা যায় আমার–আপনার মতো যে কেউই টেনিস এলবোতে ভুগতে পারেন।

কেন হয়?

নির্দিষ্ট কোনও কারণ নেই। সাধারণতভাবে বলা যায়, বেকায়দায় কোনও আঘাতের ফলে কিছু মাস্‌ল ফাইবার, যেগুলো কবজিকে ওপরে তুলতে সাহায্য করে, সেই মাস্‌ল ফাইবারগুলোয় ক্ষতি হলে ব্যথা অনুভূত হয়।

উপসর্গ

● সাধারণত কনুইয়ের বাইরের অংশ, যেখান থেকে অনেক মাস্‌ল তৈরি হয় সেখানে প্রচণ্ড ব্যথা
● একটু কাজ করলে, কোনও ভারী জিনিস তুললে, এমনকী ল্যাপটপে কিছুক্ষণ কাজ করার পর হাতে ব্যথা

চিকিৎসা

ব্যথা হলে আমরা সাধারণত ব্যথার ওষুধ খাই। এতে হয়তো ব্যথা কিছুটা কমে, তবে সেটা কখনোই টেনিস এলবোর চিকিৎসা নয়। এর চিকিৎসায় সবার আগে দরকার সঠিক রোগ নির্ণয়। যদি টেনিস এলবো হয় তা হলে—

● চিকিৎসকের পরামর্শমতো চলবে ফিজিওথেরাপি
● দরকার ‌সপ্তাহ দুয়েক আলট্রাসাউন্ড নেওয়া।
● ‌কবজির নির্দিষ্ট কিছু ব্যায়াম আছে, সেগুলো নিয়মিত করে যেতে হবে
● এলবো গার্ডের সাহায্যে কনুইকে সুরক্ষা দেওয়া
● ‌যতদিন না ব্যথা কমছে ততদিন ভারী জিনিস না তোলাই ভাল
● ওষুধ, ফিজিওথেরাপি‌তেও যদি ব্যথা না কমে, তখন সাধারণত স্টেরয়েড ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়
● কিছু কিছু ক্ষেত্রে টেনিস এলবোতে সার্জারির প্র‌য়োজন পড়ে। তবে এর চিকিৎসায় সার্জারি খুব একটা গ্রহনযোগ্য নয়। সাধারণের সার্জারির প্র‌য়োজন পড়ে না। অনেক সময় হাই–লেভেলের খেলোয়াড়দের প্রয়োজন পারে। কারণ, ওইসব খেলোয়াড়ের কনুইয়ের কিছু মাস্‌ল টিস্যু এমনভাবে ছিঁড়ে যায়, যেগুলো রিপেয়ার বা রিকন্সট্রাকশন করতে হয়।

চিকিৎসার পাশাপাশি জীবনযাপনেও দরকার কিছু সতর্কতা

● যাঁদের টেনিস এলবো হয় তাঁরা বুঝতে পারেন হাতের কোন কোন মুভমেন্টে ব্যথা হচ্ছে। সেই মুভমেন্টগুলো না করা
● যাঁদের রান্না করতে হয়, টেনিস এলবো হলে তাঁদের কিন্তু খুন্তি ধরা চলবে না
● ওপর থেকে কোনও ভারী জিনিস নামানো বা ভারী কিছু না তােলাই ভাল

চিকিৎসার পাশাপাশি এগুলো মেনে চললে কিছুটা ব্যথা উপশম হয়। ব্যথা কমলে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফেরা যায়। তবে ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শমতো নির্দিষ্ট কিছু এক্সারসাইজ নিয়মিত করতে হবে, যাতে রোগটি পুনরায় না ফেরে।