বাতের ব্যথা নাকি পেশির খিঁচুনি? আইস প্যাক না হিট থেরাপি, কোনটা কীসে সারবে

গুড হেলথ ডেস্ক

বয়স বাড়লেই কাবু করে বাতের ব্যথা (Treating Pain), এই ধারণা এখন বাতিলের খাতায়। সেডেন্টারি লাইফস্টাইলে যে কোনও মুহূর্তেই হানা দিতে পারে আর্থ্রাইটিস। শুধু বাতের ব্যথা নয়, পেশির টান, মাইগ্রেনের সমস্যা এখন ঘরে ঘরে। সারাদিন টান হয়ে বসে কম্পিউটারে চোখ, একনাগাড়ে দীর্ঘক্ষণ কাজ, নিয়মিত শরীরচর্চার অভাব- পেশি ব্যথার অন্যতম কারণ।

চিকিৎসাশাস্ত্রে বহু রকমের বাতের উল্লেখ রয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত ধরনের বাত হল অস্টিও-আর্থ্রাইটিস এবং রিউমাটয়েড (Rheumatoid) আর্থ্রাইটিস। তবে আমাদের দেশে বেশি হয় প্রথম ধরনের বাত অর্থাৎ অস্টিও-আর্থ্রাইটিস। এই ধরনের বাত সাধারণত বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হয়ে থাকে। অস্থিসন্ধিতে থাকা কার্টিলেজ ক্ষয়ে যাওয়ার ফলে এই ধরনের বাত হয়। আর রিউমাটয়েড বাতটি হয় সাধারণত দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা অতিসক্রিয় হলে। এই অতিসক্রিয়তা অস্থিসন্ধির কার্টিলেজে প্রভাব ফেলে। কার্টিলেজ নষ্ট হলে বাতের ব্যথা (Treating Pain) শুরু হয়।

Hot and Cold Therapy

ব্যথা মানেই ঘরোয়া টোটকা হিসেবে তার উপশমের সহজ পন্থা হল আইস প্যাক অথবা হিট থেরাপি। তবে কোন ব্যথায় কোন উপায় বেশি কাজ দেয় সেটা জেনে নেওয়া ভালো। না হলে, ব্যথা দূর করতে গিয়ে উল্টে সেটাই বেশি করে ঘাড়ে চেপে বসবে।

আর্থ্রাইটিস

অস্থিসন্ধি বা দু’টি হাড়ের সংযোগস্থলে অর্থাৎ, হাড়ের আগায় সাদা রঙের রবারের মতো দু’টি তন্তুর মতো বস্তু থাকে। এদের কাজ অস্থিসন্ধির দু’টি হাড়ের মধ্যে ঘর্ষণ কমানো। তা ছাড়া কোনও আঘাত লাগলে এগুলি ‘শক অ্যাবজরভার’ হিসাবে কাজ করে। কোনও কারণে ওই কার্টিলেজ ক্ষয়ে গেলে হাড়ের ক্ষয় শুরু হয় এবং বাতের উপসর্গ দেখা দিতে শুরু করে। হাঁটু, কনুই, কাঁধ, আঙুল ইত্যাদি জায়গায় টান বা ব্যথা অনুভব করলে সেখানে গরম সেঁক দিন। অবশ্যই উষ্ণ গরম যেন হয়।

 Heat Therapy

গাউট বা গেঁটে বাত

গোড়ালি, পায়ের পাতা, হাঁটু, কনুই, হাত ও পায়ের আঙুল ইত্যাদি জায়গায় মাঝে মাঝেই একটা ব্যথা চাগাড় দেয়। জয়েন্টের কার্টিলেজ ক্ষয়ে গিয়ে এই ব্যথা তৈরি হয়। উপযুক্ত চিকিৎসা না হলে অনেকসময়ই এই ব্যথা স্থায়ী হয়ে যায়। গেঁটে বাতে আরাম পাওয়ার সহজ উপায় হল আইস প্যাক। ব্যথার জায়গায় বেশ কিছুক্ষণ প্যাক ধরে রাখলে জায়গাটা অবশ হয়ে যায়, কিছুক্ষণের জন্য যন্ত্রণা থেকে মুক্তি।

মাথা ব্যথা

নাগাড়ে টিভি দেখলে বা কম্পিউটারে কাজ করলে মাথা ধরা আশ্চর্যের নয়। অনেকসময় দেখা যায় মাইগ্রেনের সমস্যা যাদের রয়েছে, এই ব্যথা থেকে মাথা ঘোরা, ব্ল্যাক আউটের সম্ভাবনা থেকে যায়। অনেক সময় শিরায় টান লেগে গলায় ব্যথা হতেও দেখা যায়। সে ক্ষেত্রে গরম সেঁক বা হিট প্যাক এবং আইস প্যাক দুইই উপকারি। মাথা ব্যথা কমাতে আইস প্যাক এবং গলা ও আশপাশে ব্যথায় আরাম পেতে হিট প্যাক ব্যবহার করতে পারেন।

Hot and Cold: Polar Opposites for Pain Relief - RebalancePT

পেশি টান

আজকালকার দিনে এটা খুবই পরিচিত সমস্যা। রাস্তায় চলতে গিয়ে, মাঠে খেলার সময় বা অনেকক্ষণ বসে থাকলে পেশি টান ধরা স্বাভাবিক। তাতে ব্যথাও কিছু কম হয় না। বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, আইস প্যাক পেশিতে চেপে ধরলে ফোলা ভাব বা লালচে ভাব কমে যায়, ব্যথা থিতিয়ে আসে। আর পেশি টান বা স্টিফনেস কমাতে গরম সেঁকের বিকল্প নেই।

লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়া

আইস প্যাক এ ক্ষেত্রে আরাম দেয়। তিন ঘণ্টা অন্তর টানা আইস প্যাক দিন। অন্তত ১০-১৫ মিনিট ধরে (Treating Pain)। এতে ব্যথার জায়গা অবশ হবে, রক্ত চলাচল বাড়বে, ফলে অনের আরাম পাবেন।

খেলতে গিয়ে পেশিতে ব্যথা, শিরায় টান

স্পোর্টস ফিজসিয়ানরা বলেন, খেলতে গিয়ে চোট সারানোর মোক্ষম দাওয়াই হল আইস প্যাক। নিমেষের মধ্যে ব্যথা এবং প্রদাহজনিত জ্বালা গায়েব করতে এর জুরি মেলা ভার। তবে গরম সেঁকও কিছু কম যায় না। দীর্ঘসময়ের জন্য পেশির ব্যথা, স্টিফনেস কমাতে ব্যথার জায়গায় সেঁক দিলে অনেকটা আরাম পাওয়া যায়।

আইস প্যাক নাকি হিট থেরাপি? কোন প্যাক কীভাবে ব্যবহার করবেন?

বরফের কুঁচি, ফ্রিজে জমানো কড়াইশুঁটি বা কর্ন ছোট ব্যাগে ভরে বা ফ্রোজেন জেল প্যাকে ব্যথার জায়গায় চেপে ধরুন। টানা ২০ মিনিট ধরে আইস প্যাক দিতে হবে। এক-দু’ঘণ্টা অন্তর এই ভাবে প্যাক দিয়ে যেতে হবে। ৪৮ ঘণ্টা এই ভাবে আইস প্যাক দিলে ব্যথা গায়েব হবে গ্যারান্টি।

কলকাতায় প্রথম আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স ক্যাথ ল্যাব খুলল নারায়ণ মেমোরিয়াল হাসপাতাল

Heat vs Cold

বরফ জেল প্যাকে ভরে বা কাপড়ে পেঁচিয়ে ব্যথার জায়গায় মালিশ করুন। আইস ম্যাসাজেও কাজ হয় খুব ভালো।

দোকানে কোল্ড মাস্ক কিনতে পাওয়া যায়। সেটা দিয়ে ব্যথার জায়গায় মালিশ করলেও উপকার পাওয়া যায়। চটজলদি উপায় হিসেবে রুমাল বা টাওয়েলে বরফ পেঁচিয়ে মাথা, কাঁধ বা যে কোনও ব্যথার জায়গায় বার কয়েক চেপে থাকুন। অনেকটা আরাম পাবেন।

উষ্ণ গরম জলে স্নান ব্যথা দূর করার আদর্শ উপায়। জলের তাপমাত্রা যেন বেশি না হয় খেয়াল রাখতে হবে।

হিট ম্যাসাজও অনেক উপকারি (Treating Pain)। দোকান থেকে কেনা হিট প্যাক ব্যথার জায়গায় জড়িয়ে রাখুন। আরাম পাবেন।

বাজারচলতি হিট প্যাডও পাওয়া যায়। তবে অবশ্যই তাপমাত্রা সেট করতে নিতে ভুলবেন না। তাপ বাড়তে থাকলে মিনিট কয়েক বিরতি দিন, না হলে ব্যথার জায়গা পুড়ে যেতে পারে।