পিরিয়ডের সমস্যায় জেরবার, সমাধান দিতে পারে আয়ুর্বেদই, বলছেন বিশেষজ্ঞ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্যানিটারি ন্যাপকিনের বিজ্ঞাপনে যতোই মেয়েদের হেসেখেলে ঘুরে বেড়াতে দেখা যাক না কেন, মাসের পাঁচদিন কিন্তু একেবারে ভ্রু কুঁচকে থাকে অনেকের। পিরিয়ড মানেই খানিকটা অতিরিক্ত টেনশনে কাটে কয়েকটা দিন। পেটে যন্ত্রণা যেমন হয়, তেমনই কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গিয়েও পিরিয়ড হচ্ছে না। এর ফলে শারীরিক নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়। কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় পরবর্তীতে প্রেগনেন্সির সময় বেশ কিছু সমস্যার সম্মুখীন হন মেয়েরা। তাই সমস্যা দেখা দিলে তৎক্ষণাৎ ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত, বলছেন আশা আয়ুর্বেদার আয়ুর্বেদিক ইনফার্টিলিটি স্পেশালিস্ট ডঃ চঞ্চল শর্মা।

সাধারণত ১৩ বা ১৪ বছর বয়সে মাসিক শুরু হয় মেয়েদের। ২১ থেকে ৩৫ দিন অন্তর হলেই পিরিয়ডের সার্কেল স্বাভাবিক ধরে নেওয়া হয়। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় ২১ দিনের আগেই বা ৩৫ দিন পরে গিয়ে পিরিয়ড হচ্ছে। সেক্ষেত্রে এটাকে অস্বাভাবিক ধরে নেওয়া হয়। বছরে ১১ থেকে ১৩ বার মাসিক হলে তাকে স্বাভাবিক ধরা হয়। একটি সমীক্ষায় জানা গেছে ৩৫ শতাংশ মেয়ে অনিয়মিত মাসিকের সমস্যায় ভোগেন।

অনিয়মিত মাসিকের কারণ কী –

১. হরমোনের সমস্যা থাকলে সেটার প্রভাব মাসিকের উপর পড়ে। হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলেই দেখা যায় মাসিক নির্দিষ্ট সময়ের আগে বা পরে শুরু হচ্ছে।

২. টিবি, থায়রয়েড, জ্বর এর সমস্যায় দীর্ঘদিন ভুগলেও অনিয়মিত মাসিকের সমস্যা দেখা দেয়।

৩. ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটি কম হলে, বা একেবারেই না হলে সেক্ষেত্রেও পিরিয়ড বন্ধ থাকতে পারে।

৪. কন্ট্রাসেপটিভ ড্রাগ বা পিল খেলেও পিরিয়ডের তারিখ পিছিয়ে যায়।

৫. অতিরিক্ত ট্রেস বা টেনশনের কারণেও সমস্যা দেখা দিতে পারে।

৬. পিসিওডির সমস্যা থাকলে কোনও কোনও মাসে পিরিয়ড হয়ই না।

৭. অতিরিক্ত ধূমপান করলে যেমন শরীরের উপর খারাপ প্রভাব পড়ে, তেমনই মাসিকেও সমস্যা দেখা দেয়।

অনিয়মিত মাসিকের সিম্পটম –

১. ২১ থেকে ৩৫ দিনের মধ্যে পিরিয়ড না হলেই বুঝে নিতে হবে অনিয়মিত মাসিকের সমস্যা রয়েছে।

২. মাসিকের তারিখ পিছিয়ে গেলে, বা সমস্যা হলে মেয়েদের ইউটেরাসে প্রচন্ড যন্ত্রণা হয় অনেক সময়।

৩. খিদে কমে যায়। কখনও কখনও খাবারের প্রতি অনীহা জন্মায়।

৪. লোয়ার অ্যাবডোমেন, পা, হাতেও ভীষণ যন্ত্রণা শুরু হয়।

৫. ফ্যাটিগ, ডায়রিয়া, কনস্টিপেশনের সমস্যা দেখা দিলে, সেক্ষেত্রেও সময়ের আগেই মাসিক হয় অনেকের।

আয়ুর্বেদিক উপায়ে অনিয়মিত মাসিকের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন –

১. প্রতিদিন ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটি বাড়াতে হবে। যোগাসন, প্রাণায়াম, এক্সারসাইজ করলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন। আবার বাইরে বেরিয়ে হাঁটাচলা করাটাও জরুরি।

২. মাসিক চলাকালীন অতিরিক্ত ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটি না করাই ভাল। ভারি জিনিসপত্র সেই সময় না ওঠানোই উচিত।

৩. উত্তর বস্তি থেরাপি বা পঞ্চকর্মা থেরাপিও ভীষণ উপকারী। এই থেরাপি নিলে শরীরের অতিরিক্ত টক্সিন বের হয়ে যায়। সকালের দিকে সাধারণত নিতে হয় এই থেরাপি। ৪, ৫ বার নেওয়ার পরেই অনেক সময় সমস্যা দূর হয়।

৪. বিশেষ কিছু হার্বাল হার্ব বা মেডিসিনাল অয়েল আছে, যেগুলো মাসিকের সমস্যা দূর করে।

৫. স্ট্রেস কমানোর চেষ্টা করুন। এতে শরীরের হরমোনের ভারসাম্য ঠিক থাকবে। ফলে অনিয়মিত মাসিকের সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন।

৬. সঠিক ডায়েট মেনটেন করে খাওয়া দাওয়া করা উচিত। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে সবজি, ফল খাওয়ার অভ্যাস করলে, অনেক সময় অনিয়মিত মাসিকের সমস্যা কেটে যায়।