রাতে বার বার প্রস্রাবের বেগ, শিরদাঁড়ায় ব্যথা? চল্লিশ পেরলে একবার টেস্ট করিয়ে নিন ছেলেরা

গুড হেলথ ডেস্ক

রাতের দিকে বার বার প্রস্রাবের বেগ, প্রস্রাব করার সময় ব্যথা, সেই সঙ্গে টনটনিয়ে উঠছে কোমর-পিঠ, এমন সব লক্ষণ দেখা দিলে সাবধান হতেই হবে। বার বার প্রস্রাব পেলে অনেকে ডায়াবেটিস ভেবে ফেলেন। তা নাও হতে পারে। বয়স যদি চল্লিশ পেরিয়ে যায় এবং এইসব সমস্যা দেখা দিতে থাকে তাহলে বাড়তি সতর্কতা দরকার (Prostate Cancer) । হতেই পারে আপনি যে লক্ষণগুলোকে সাধারণ সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাচ্ছেন, সেগুলোই মারণ রোগের কারণ হয়ে উঠছে।

কোলন, স্তন ক্যানসারের মতো প্রস্টেট ক্যানসারে (Prostate Cancer) আক্রান্তের সংখ্যাও বেড়ে চলেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেব মানলে ফুসফুসের ক্যানসারের পরেই ভারতীয় পুরুষরা সবচেয়ে বেশি প্রস্টেটের ক্যানসারে আক্রান্ত হন। এমনিতে এই ক্যানসার প্রাথমিক স্তরে ধরা পড়লে মৃত্যু ভয় একেবারেই থাকে না। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই প্রাথমিক পর্যায়ে প্রস্টেট ক্যানসারের লক্ষণগুলি চিনতে পারা যায় না, তখন রোগ বড় আকার নেয়।

প্রস্টেট ক্যানসার (Prostate Cancer) কী?

পুরুষদের মূত্রথলির নীচে প্রস্টেট গ্ল্যান্ড রয়েছে। ওই গ্ল্যান্ড থেকে হরমোন বের হয়। হরমোনের সমস্যার জন্য মূত্রনালীতে সমস্যা শুরু হয়। সেখান থেকে ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। ওই অঞ্চলের কোষগুলির অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি থাকে।

এই ধরনের ক্যানসার (Prostate Cancer) পুরুষদের শরীরে নীরবে বাসা বেঁধে থাকে। সাধারণত আগে থেকে এর লক্ষণগুলি বোঝা যায় না। ৫০ পার হওয়া পুরুষদের মধ্যে প্রস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি থাকে।

Prostate Cancer

লক্ষণ কী কী?

১) প্রস্রাবের পথে বাধা তৈরি হবে। পরে ওখানে টিউমার হতে পারে, তখন প্রস্রাব একদম বন্ধ হয়ে যাবে (Prostate Cancer)।

২) প্রস্টেট গ্ল্যান্ড ফুলে বড় হয়ে যাবে।

 Prostate Cancer

৩) বার বার প্রস্রাব পাওয়া প্রস্টেট ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে। বিশেষত, রাতের দিকে বার বার মূত্রত্যাগের প্রবণতা দেখা দিতে পারে।

৪) মূত্রত্যাগের সময়ে ব্যথা হওয়া মোটেই ভাল লক্ষণ নয়। যদি প্রতিবারই মূত্রত্যাগের সময়ে জ্বালা-যন্ত্রণা হতে থাকে তাহলে সতর্ক হতে হবে।

৫) মূত্রের সঙ্গে রক্ত বের হলে সাবধান হতে হবে। এই লক্ষণকে বলে হিমাচুরিয়া যা প্রস্টেট ক্যানসারের কারণ হতে পারে।

৬) কোমরের নীচের দিকে একটানা ব্যথা হতে থাকলে ডাক্তার দেখিয়ে নেওয়াই ভাল। পিঠের নীচের দিক, কোমর, নিতম্ব, কুচকি ও থাইয়ের ব্যথা প্রস্টেট ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে।

কী কী টেস্ট করাতে হবে?

এখন টিউমার দু’ধরনের হতে পারে। প্রথম হল বিনাইন টিউমার। দ্বিতীয় হল ম্যালিগন্যান্ট টিউমার। সাধারণত হরমোন ঘটিত কারণে বিনাইন টিউমার তৈরি হয়। আবার কয়েকটি ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে অনেক সময় কিডনির সমস্যা থেকেও বিনাইন টিউমার তৈরি হয়েছে। অন্য টিউমার হল ম্যালিগন্যান্ট টিউমার। পরীক্ষায় ম্যালিগন্যান্ট টিউমারের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রাথমিক ভাবে ক্যানসার হয়েছে ধরে নিয়ে চিকিৎসা শুরু করতে হবে।

প্রস্টেট ক্যানসার ক্রমশই ছড়িয়ে পড়তে থাকবে। ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি হয়ে মেরুদণ্ডে এর প্রভাব পড়তে পারে। ফলে সেখানেও ব্যথা হবে।

প্রস্রাবে সমস্যা তৈরি হলে প্রথমেই ইউরোলজিস্টের কাছে যেতে হবে। আলট্রা সোনোগ্রাফি (ইউএসজি) করলে প্রস্টেটের মাপ বোঝা যাবে। প্রস্টেটের আকার বড় হচ্চে কিনা, তাতে কী সমস্যা হচ্ছে তা টেস্ট করলেই বোঝা যাবে। যদি দেখা যায় প্রস্টেটটি অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে গিয়েছে তা হলে পরের ধাপে হিস্টোপ্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা করাতে হবে।

হিস্টোপ্যাথলজিক্যাল টেস্ট হল ইউএসজি গাইডেড বায়োপসি। চিকিৎসার পরিভাষায় যাকে ট্রান-রেক্টাল আন্ডার সাউন্ড (ট্রাস) বায়োপসি বলা হয়। হিস্টোপ্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার শুরুতেই এই ধরনের বায়োপসি
করা হয়। প্রস্টেটে ক্যানসার কোষ ছড়াচ্ছে কিনা তার জন্য পিএসএ বা প্রস্টেট স্পেসিফিক অ্যান্টিজেনের পরীক্ষাও করেন ডাক্তারবাবুরা।