বাচ্চাদের মৃগীর লক্ষণ দেখলেই সতর্ক হন, নিয়ম করে চিকিৎসা করালেই সেরে যাবে

গুড হেলথ ডেস্ক

মৃগী (Epilepsy) হল নিউরোলজিক্যাল ডিসঅর্ডার। স্নায়ুজনিত সমস্যার কারণে এই রোগ হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই জিনগত কারণে এই সমস্যা দেখা যায়। সদ্যোজাত থেকে শুরু করে বয়স্কদেরও এই রোগ হতে পারে।

মৃগী কেন হয় বাচ্চাদের?

পরিবারে এরকম ইতিহাস থাকলে, গর্ভকালীন জটিলতা বা প্রি-ম্যাচিয়োরড শিশুদের ক্ষেত্রে শরীরে ক্যালসিয়াম কম থাকলে বা হঠাৎ শরীরে সুগারের মাত্রা কমে গেলে মৃগী হতে পারে। গর্ভকালীন সময়ে মাথার আঘাতজনিত কারণে, জন্মের পরই জন্ডিসের মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ার জন্যও এ রোগ হয়ে থাকে। তাছাড়া ছোট বেলায় কোনও কারণে মস্তিষ্কে ইনফেকশনের কারণে পরে খিঁচুনি হতে পারে (Epilepsy)।

epilepsy

ডাক্তারবাবুরা বলছেন, মৃগীর লক্ষণ দেখা দিলেই তার ট্রিটমেন্ট শুরু করতে হবে। প্রত্যন্ত এলাকায় বাচ্চাদের মৃগীর খিঁচুনি হলে নানা রকম কুসংস্কারে তার উপাচার চলে। ফলে বাচ্চার শরীরের অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। অথচ ওষুধ দিয়ে ৭০-৮০ ভাগ রোগীর খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

কী কী লক্ষণ দেখে সতর্ক হতে হবে

মৃগীর (Epilepsy) ক্ষেত্রে জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি একটা বড় লক্ষণ ঠিকই। তবে জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি হলেই মৃগী— তা কিন্তু নয়। খিঁচুনি যদি ১০-১৫ মিনিটের বেশি স্থায়ী হয়, ঘন ঘন হয় ও শরীরের কোনও একটি পাশে খিঁচুনি হতে থাকে তাহলে সতর্ক হতে হবে।

Epilepsy

এমন হলে শিশুর মস্তিষ্কের এমআরআই ও ইইজি করিয়ে রাখতে হবে। মৃগী থাকলে তা ধরা পড়বে সহজেই।

সতর্কতা জরুরি

সঠিক সময়ে চিকিৎসা ও নিয়ম করে ওষুধ খেলে মৃগী (Epilepsy) নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। এই রোগ ছোঁয়াচে নয়, তাই মৃগী হলে সেই শিশুকে অবহেলা করা ঠিক নয়।

শিশু সুস্থ থাকলেও নিয়ম করে কয়েক মাস অন্তর চিকিৎসকের কাছে যান, রুটিন পরীক্ষাগুলো করিয়ে রাখুন। জ্বর কোনও ভাবেই বাড়তে দেওয়া যাবে না। তাই জ্বরের ওষুধ বাড়িতে রেখে দিন। শিশুর স্বাভাবিক ঘুমে যেন কোনও প্রকার ঘাটতি না হয়। খিঁচুনি হওয়ার সময় শিশুকে নির্দিষ্ট একটা পাশ ফিরিয়ে শুইয়ে দিন। ১০-১৫ মিনিটের বেশি খিঁচুনি থাকলে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।

খিঁচুনি আক্রান্ত রোগী যখন তখন জ্ঞান হারাতে পারে এবং জ্ঞান ফিরে পাওয়ার পরও কিছু সময়ের জন্য তার মানসিক বিভ্রম হতে পারে। তাই পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় আসার আগে তার পরিচর্যা করতে হবে।