সদ্যোজাতের জন্ডিস? কেন হয়, কখন তা বিপজ্জনক

গুড হেলথ ডেস্ক

জন্মের পরেই জন্ডিসে (Neonatal Jaundice) আক্রান্ত হয় অনেক শিশু। প্রসবের পরে বোঝা যায় না। তবে পরে ধরা পড়ে নিওনেটাল জন্ডিসে আক্রান্ত হয়েছে সদ্যোজাত। ত্বকে দেখা দেয় হলদেটে ভাব। অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দুর্বল হতে পারে। এই সময় সদ্যোজাতকে নীল আলোর নীচে রাখেন ডাক্তারবাবুরা। যতক্ষণ না শিশুর শরীরে বিলিরুবিন কমে যাচ্ছে ততক্ষণ নীল আলোর নীচেই রাখা হয় নবজাতককে।

ডাক্তারবাবুরা বলছেন, জন্মের পরে শিশুর জন্ডিস ধরা পড়লে বাবা-মায়েরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। আর শিশুকে বাড়ি ফিরিয়ে আনার পরে যদি জন্ডিস দেখা দেয় তখন রোগের লক্ষণ চেনা না থাকায় চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয়। ফলে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির সম্ভাবনা থেকে যায়।

সদ্যোজাতের জন্ডিস কেন হয়?

শিশু জন্মানোর পরে তার রক্তে লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে গিয়ে বিলিরুবিন বের হয়। গর্ভে থাকার সময় শিশু মায়ের ধমনী থেকেই অক্সিজেন পায়। সেক্ষেত্রে অক্সিজেনের উৎস লোহিত রক্তকণিকা। তাই শিশুর অক্সিজেন স্যাচুরেশন এর সময় কম থাকে। কিন্তু ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরে তার নিজের ফুসফুস কাজ করা শুরু করে। তখন অতিরিক্ত লোহিত রক্তকণিকাগুলো ভাঙতে শুরু করে। এই বিলিরুবিনের পরিমাণ যদি বেড়ে যায় তাহলেই জন্ডিস ধরা পড়ে। সদ্যোজাতের যকৃৎ পরিণত হয় না, তাই বিলিরুবিনের পরিমাণ বাড়লে তা বের করে দিতে পারে না। তখন ডাক্তারবাবুরা বলেন শিশু নিওনেটাল জন্ডিসে আক্রান্ত।

প্রি-ম্যাচিওর শিশু যার যকৃৎ বেশ অপরিণত, তার ক্ষেত্রে বা যে শিশু স্তন্যপান করছে তার ক্ষেত্রেও জন্ডিসটা একটু বেড়ে যায়।

Baby Has Jaundice

মা আর সন্তানের রক্তের গ্রুপ আলাদা হলেও এমন হতে পারে। মায়ের রক্তের গ্রুপ যদি ‘ও’ হয় আর বাচ্চা যদি ‘এ’ বা ‘বি’ গ্রপের হয় তাহলে নিওনেটাল জন্সি হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়। আবার  মায়ের যদি আরএইচ নেগেটিভ রক্ত হয় আর সন্তানের যদি আরএইচ পজিটিভ হয়, তখনও প্রসবের পরে সন্তানের জন্ডিস হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়।

প্রি-টার্ম ডেলিভারির ক্ষেত্রে যদি ৩৮ সপ্তাহ আগেই শিশু জন্ম হয়, তাহলে ইনফ্যান্ট বা নিওনেটাল জন্ডিসের ঝুঁকি থেকে যায়। প্রি-ম্যাচিওর বেবির যকৃৎ অনেক বেশি দুর্বল থাকে। ফলে বিলিরুবিনের পরিমাণ বেড়ে যায়।

মাতৃগর্ভে থাকাকালীন অথবা জন্মের সময়ের কোনও সংক্রমণের জন্যও সদ্যোজাতের জন্ডিস হতে পারে। রুবেলা, সাইটোমেগালো ভাইরাস, হারপিস ভাইরাস জন্ডিসের কারণ হতে পারে।

baby jaundice

সদ্যোজাতের জন্ডিসের আরও কারণ থাকতে পারে। লিভার সংক্রমণ, শিশুর জিনগত রোগ সিস্টিক ফাইব্রোসিস থেকেও জন্ডিস হতে পারে।

মায়ের যদি হাইপোথাইরয়েডিজম থাকে বা মেটাবলিক ডিসঅর্ডার থাকে, তাহলে তার থেকেও জন্ডিস হতে পারে শিশুর।

মায়ের দুধ থেকেও জন্ডিস ছড়াতে পারে শিশুর শরীরে। ডাক্তারবাবুরা বলছেন, ৬০ শতাংশ ফুল-টার্ম নিউবর্ন ও ৮০ শতাংশ প্রি-ম্যাচিওর শিশুদের নিওনেটালের জন্ডিস ধরা পড়ে।

লক্ষণ কী কী?

১) শিশুর ত্বকে হলদেটে আভা, চোখে হলুদের ভাব দেখলেই সতর্ক হতে হবে।

২) যদি জন্মের পরে শিশুর শরীর লালচে থাকে, তখন চোখের রঙ দেখে জন্ডিস চিনতে হবে

নিওনেটাল জন্ডিস সারানো হয় মূলত ফোটোথেরাপি দিয়ে। নীল রঙের আলোর নীচে রাখা হয় শিশুকে। শিশুকে যেখানে শোওয়ানো হয় তার নীচে বিলিব্ল্যাঙ্কেট রাখেন ডাক্তাররা। রক্তের অতিরিক্ত বিলিরুবিন কমানোর জন্যই এই পদ্ধতি।

 Neonatal Jaundice

নিওনেটাল জন্ডিস কখন বিপজ্জনক?
ব্রেনে জন্ডিস চলে গেলে মস্তিষ্কের কিছু ক্ষতি হতে পারে। ফলে কানে কম শোনা, ব্যালান্স হারিয়ে ফেলার মতো অসুবিধে দেখা দিতে পারে। ডাক্তারবাবুরা বলছেন, আগেভাগেই জন্ডিস ধরে না ফেললে বাচ্চার মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। শিশুর জন্মের পর প্রথম সাত দিন এই ভয়টা বেশি। সাত দিন পরে ‘ব্লাড-ব্রেন ব্যারিয়ার’ পরিণত হয়ে যায়। তখন বিপদ কমে যায়।