বাচ্চাদের কিডনিতে কী কী সমস্যা হতে পারে? কখন সতর্ক হবেন বাবা-মায়েরা

গুড হেলথ ডেস্ক

কিডনির নানা রোগ হতে পারে বাচ্চাদেরও। দিল্লির এইমসে তিন মাসের একটি শিশুর মিনিমাল ইনভ্যাসিভ অপারেশন হয়েছে কিছুদিন আগে। দেশে হয়ত এই প্রথম এত ছোট বাচ্চার কিডনিতে ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি হয়েছে। ডাক্তারবাবুরা বলছেন, কিছু রোগ থাকে, যেগুলো নিয়ে শিশুদের ছোটবেলায় বা জন্মের ঠিক পরে পরেই আমরা অতটা মাথা ঘামাই না, যেমন ওবেসিটি, আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস ইত্যাদি। কিডনির অসুখও (Kidney Disease) এদের মধ্যে অন্যতম। আমরা ভাবি কিডনির ব্যামো শুধু বয়সকালেই বুঝি হয়। তবে এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। ছোটদেরও হতে পারে কিডনির সমস্যা।

ছোটদের ক্ষেত্রে মূলত স্ট্রাকচরাল, জেনেটিক, ইনফেকশন এবং ইমিউনোলজিক্যাল কারণে কিডনির সমস্যা দেখা দেয়। কারও হয়তো একটি কিডনি নেই, এটি স্ট্রাকচরাল সমস্যা। জেনেটিক বা জন্মগত সমস্যাগুলো ধরা পড়তে সময় নেয়।

Kidney Disease In Children

বাচ্চাদের কিডনির অসুখ (Kidney Disease) কী কী ক্ষেত্রে হতে পারে?
● সময়ের অনেক আগে বাচ্চা জন্মালে
● বাচ্চার কিডনিতে জন্মগত ত্রুটি থাকলে
● ডায়েরিয়া এবং নিউমোনিয়া থেকে সারা শরীরে সংক্রমণ হলে
● জন্মের পর একাধিকবার মূত্রনালির সংক্রমণ ঘটলে
● কোনও ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে
● প্রস্রাবে বাধা পেলে
● রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে
● প্রস্রাবে প্রোটিন স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকলে

কী কী সমস্যা হতে পারে?

১) ছোটদের সবচেয়ে চেনা সমস্যা হল ইউরিনারি ট্র্যাক ইনফেকশন (ইউটিআই)। এটা বিভিন্ন বয়সের শিশুর, বিভিন্ন কারণে হতে পারে। একদম ছোট শিশুদের অনেক সময়েই ডায়াপার থেকে সংক্রমণ (kidney disease) হয়। মেয়েদের মধ্যে ইউরিন সংক্রমণের প্রবণতা বেশি। মলের জায়গা থেকে নোংরা প্রস্রাবের পথে ঢুকে যেতে পারে।  অনেক সময়েই ছোটরা টয়লেট চেপে রাখে, সেটাও ইনফেকশনের একটা কারণ। আরও একটা সমস্যা হল কনস্টিপেশন। জল কম খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য হয় এবং তার থেকেও ইউরিনে সমস্যা হতে পারে।

দেশে প্রথম তিন মাসের শিশুর কিডনি অপারেশন সফল, মাত্র দু’ঘণ্টায় জটিল সার্জারি করেছে এইমস

Kidney DiseaseKidney Disease - Find Successful Diagnoses and Treatments

২) প্রস্রাব বেরোনোর পথে সমস্যা হতে পারে। অনেক সময়ে প্রস্রাবের রাস্তায় ব্লক থাকে। এতে ইউরিন পাস হতে সমস্যা হয়, চাপ পড়ে কিডনির উপরে।

৩) খুব ছোট শিশুদের যদি বারবার ইউটিআই হয়, তা হলে রিফ্লাক্সের সমস্যার সম্ভাবনা থাকে। চিকিৎসকেরা এটিকে ভেসিকিউরিটেরাল রিফ্লাক্স (VUR) বলে থাকেন। এই সমস্যায় ইউরিন উল্টো রাস্তায় অর্থাৎ ব্লাডার থেকে আবার কিডনিতে ফেরত যায়। এটা বারবার হলে কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ভয় থাকে।

৪) অনেক সময়ে ইমিউনলজিক্যাল কারণে কিডনিতে সমস্যা দেখা দেয়। শরীরের অন্য কোনও অসুখের প্রভাব কিডনির উপরে পড়তে পারে। অ্যালার্জির ধাত থাকলে বা কোনওরকম ওষুধ একটানা খেতে থাকলে তার থেকেও কিডনির রোগ হতে পারে।

বাচ্চাদের মধ্য়ে কী কী লক্ষণ দেখে সতর্ক হতে হবে

ঘন ঘন প্রস্রাব করা

প্রস্রাবের জায়গায় ইনফেকশন

বিছানায় প্রস্রাব করে ফেলা (৬ বছরের বেশি বয়সে)

তলপেটে ব্যথা, ঘন ঘন বমি, কোমরে ব্যথা

পেট ফুলে যাওয়া

উচ্চ রক্তচাপ

জন্মের পরে শিশুর ওজন কম থাকলে বা প্রিম্যাচিওর বার্থের পরে এসব সমস্যা দেখা দিলে দেরি করা ঠিক হবে না।

চিকিৎসকদের মতে, কিডনি সুস্থ রাখার বা কিডনির রোগ প্রতিরোধ করার সে অর্থে কোনও নিয়মবিধি নেই। কারণ এই অসুখ ধরা পড়তে সময় নেয়। প্রথম দিকে জ্বর হওয়া ছাড়া লক্ষণও তেমন দেখা যায় না। লাইফস্টাইল এবং হাইজিনের দিকে নজর দিতে হবে। পরিমাণ মতো জল খাওয়া, দু’-তিন ঘণ্টার মধ্যে প্রস্রাব করা— এগুলো শিশুদের শেখাতে হবে। বাচ্চাদের টয়লেট চেপে রাখার প্রবণতাও দূর করতে হবে।