‘বি’ লিখতে ‘ডি’, অক্ষর নাচে, শব্দ গুলিয়ে যায়, আপনার বাচ্চার এই সমস্যা নেই তো!

গুড হেলথ ডেস্ক

রাহুলের স্কুল থেকে প্রায়ই নালিশ শুনতে হত রিনাকে। পাঁচ বছরের বাচ্চাটা নাকি পেনসিলই ধরতে পারে না ঠিক করে। ক্লাসে শিক্ষিকা কিছু বললে তা বুঝেই উঠতে পারে না রাহুল। ‘বি’ কে লিখে ফেলে ‘ডি’, কখনও শব্দ লেখে মিরর ইমেজে (Dysgraphia)। ছোট হাতের লেখার সঙ্গে ক্যাপিটাল লেটার গুলিয়ে ফেলে। খেলাধূলাতেও তার সমস্যা। কিছুতেই বল গ্রিপ করে ধরতে পারে না। কথা বলার সময়েও সব গুলিয়ে যায় তার।

রাহুল মানসিকভাবে অসুস্থ, এটাই বলেছিল স্কুল। তাকে স্পেশাল চাইল্ডও দাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ছেলের নামে নালিশ শুনতে শুনতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন রিনা। স্কুলে, পাড়ায়, আত্মীয়স্বজনের মাঝে সবসময়েই রাহুলকে নিয়ে চর্চা, হাসাহাসি।

 Dysgraphia

শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন সমস্যা অনেক বাচ্চারই দেখা যায়। একে ডাক্তারি ভাষায় বলে ডিসগ্রাফিয়া (Dysgraphia)। ‘তারে জামিন পার’ সিনেমার কথা মনে আছে? ছোট্ট ইশান অবস্তিরও এই সমস্যা ছিল। লিখতে, পড়তে, কথা বুঝতে সমস্যা হত তার। ইশানের যে রোগ ছিল তার নাম ডিসলেক্সিয়া। মূলত পড়াশোনা করতে, বুঝতে সমস্যা হওয়া। আর ডিসগ্রাফিয়া হল লেখার সমস্যা। তবে এক্ষেত্রেও কথা বুঝে সেটা গুছিয়ে লিখতে পারে না রোগী। গ্রিপ করতেও সমস্যা হয়। যেমন, পেন-পেনসিল ধরা, ব্যাগ বা বইখাতা হাতে ধরা, কোনও কিছু দিলে তা গ্রিপ করতেও সমস্যা হয়। শুধু বাচ্চারা নয়, বড়দেরও ডিসগ্রাফিয়া হয়।

 Dysgraphia

কেন হয় ডিসগ্রাফিয়া (Dysgraphia)? কী কী লক্ষণ দেখে বোঝা যাবে?

ডিসগ্রাফিয়া হল স্নায়ুর রোগ, একধরনের নিউরোলজিক্যাল ডিসঅর্ডার। সাধারণ মস্তিষ্কে কোনও আঘাত থাকলে এমন হতে পারে। জন্মগতভাবেও হতে পারে। মস্তিষ্কে আঘাত লাগার কারণে হলে তাকে অ্যাকোয়ার্ড ডিসগ্রাফিয়া এবং জন্মগত ক্ষেত্রে হলে তাকে ডেভেলপমেন্টাল ডিসগ্রাফিয়া বলা হয়।

দেখবেন, অনেক বাচ্চাই বি আর ডি-এর মধ্যে গুলিয়ে ফেলে। সহজ বানানও ভুল হয়। ভাল করে বুঝিয়ে দিলেও লেখার সময় সব জট পাকিয়ে যায়। কোনও নির্দেশ শুনে সেটা বোঝা এবং লেখাতে সমস্যা তৈরি হয়। লিখতে গেলে অক্ষর বিকৃত হয়ে যায়, ওভাররাইটিং হয়, মিরর ইমেজ হয়। কোনও বাক্য লেখার সময় কিছু শব্দ বাদ দিয়ে দেবে এরা, স্মল লেটার, ক্যাপিটাল লেটার মিশিয়ে লিখবে। বেশিরভাগ শব্দই হবে মিরর ইমেজে।
নিজের বুদ্ধি খাটিয়ে কিছু লিখতেই পারবে না। এক শব্দের সঙ্গে অন্য শব্দ মিশে যাবে বা পরপর দুটো শব্দ জুড়ে লিখবে। লেখা অনুকরণ করতেও পারবে না। ছবি আঁকার সময়েও এমন সমস্যা হবে। সোজা লাইন টানা, ছবিকে আকার দেওয়া, রঙ করা–এসব পারবেই না ডিসগ্রাফিয়ার (Dysgraphia) রোগীরা।

Is Your Child Dysgraphic

ডিসগ্রাফিয়া কি সারে?

সাধারণত ডিসগ্রাফিয়া (Dysgraphia) সারে না। সারা জীবন স্পেশাল থেরাপির মধ্যে থাকতে হয়। তবে স্পেশল এডুকেশন সিস্টেমে বাচ্চাদের অভ্যাস করালে অনেক সমস্যা কমে যায়।

যেমন, বকাবকি করলে হবে না, ধরে ধরে হাতের লেখা অভ্যাস করাতে হবে। ছোট ছোট বাক্য বা প্যারাগ্রাফ লিখতে দিতে হবে। কোন কোন শব্দ ভুল হচ্ছে তা লিখে দেখিয়ে দিতে হবে।

হাতের লেখার বদলে কম্পিউটারে টাইপ করতে দিলে ভাল হবে। ইলেকট্রনিক নোট টেকার থাকলে সুবিধা হবে। সঙ্গে থাকতে হবে অডিও ইনস্ট্রাকশনের ব্যবস্থা। লেখার বদলে মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া যেতে পারে এই বাচ্চাদের। হাতের লেখার বদলে অডিও ও ভিডিওতে প্রজেক্ট বানাতে দিতে হবে।

ডান দিকে হার্ট? বিরল এই শারীরিক অবস্থা কেন হয়

Learning Disability In Children

অনেক সময় ডিসগ্রাফিয়ার সঙ্গেই বাচ্চার অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপার অ্যাক্টিভ ডিসঅর্ডার হয়ে যায়অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপার অ্যাক্টিভ ডিসঅর্ডার’ হল একটি জটিল অসুখ। হয়তো আপনার বাচ্চাও এই অসুখে আক্রান্ত, কিন্তু আপনার এ বিষয়ে বিন্দুমাত্র জানা নেই। আপনি ভাবছেন এ বুঝি নিছকই দুষ্টুমি। কিন্তু তা নাও হতে পারে। সব কাজে অস্থিরতার লক্ষণ ছ’মাসেরও বেশি দেখা গেলে মনোবিদের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। ৩-১২ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে এডিএইচডি-র প্রবণতা বেশি দেখা যায়। সেই সঙ্গে ডিসগ্রাফিয়া থাকলে অস্থিরভাব ও মনোযোগের অভাব দুটোই থাকে। সেক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।