শিশুরাও ডায়াবেটিসের শিকার, স্থূলতা ডেকে আনছে বিপদ, বাবা-মায়েরা সতর্ক হন এখন থেকেই

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডায়াবেটিস নিয়ে একটা স্তরের মধ্যে সচেতনতা বাড়লেও দেশের ২৫ শতাংশ মানুষ এই রোগের নামটাই শোনেননি। অথচ প্রতি ৮ সেকেন্ডে ১ জনের মৃত্যু হয় এই রোগে। প্রাপ্তবয়স্করা নয়, শিশুরাও ডায়াবেটিসের শিকার। কম বয়সেই ওবেসিটি বা স্থূলতাও এই রোগ ডেকে আনছে। অল্পেই ক্লান্তি, ঝিমুনি, খেলাধূলা করার বদলে নেতিয়ে পড়ছে বাচ্চা, তখনই সতর্ক হতে হবে। ডাক্তারবাবুরা বলছেন, লাইফস্টাইলে ছোট ছোট বদল, নিয়ম করে খাওয়া, রুটিন মেনে এক্সারসাইজ করলেই অনেক রোগ থেকে রেহাই পাওয়া যায়। রক্তে শর্করার পরিমাণও থাকে নিয়ন্ত্রণেই।

JIA Patients at Higher Risk for Type 1 Diabetes

টাইপ ১ ডায়াবেটিসের শিকার হয় শিশুরা

গবেষকদের বক্তব্য, আমাদের সাধারণত দু’ধরনের ডায়াবেটিস হয়। টাইপ-ওয়ান আর টাইপ-টু। টাইপ-ওয়ান ডায়াবেটিস আসলে একটি বংশগত রোগ। আমাদের অগ্ন্যাশয় বা প্যাংক্রিয়াস ওই রোগে কিছুতেই ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না। ফলে, ওই ধরনের ডায়াবেটিস রোখার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন রোগীরা। যে কোনও বয়সেই এই ডায়াবেটিস হতে পারে। তবে হলে, তা ৪০ বছর বয়সে পৌঁছনোর আগেই হয়। বংশগত বলে শৈশব থেকেই এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাটা বেশি। তবে ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রেই যে ডায়াবেটিস হয়, সেটা টাইপ-টু। অনিয়মিত খাদ্যাভাস, শরীরচর্চার অভাব, অধিক ধূমপান, নেশার প্রবৃত্তি ইত্যাদি নানা কারণ এই রোগের রিস্ক-ফ্যাক্টর।

Type 1 Diabetes and Insulin - Types of Insulin, Where to Inject It, and the Best Methods for Insulin Delivery

রোগের লক্ষণ দেখেও এড়িয়ে যান অভিভাবকরা, সচেতনতার অভাব বিপদ ডেকে আনে

আগে জেনে নেওয়া যাক, কী কী লক্ষণ দেখে সতর্ক হতে হবে—

ঘন ঘন প্রস্রাব, গলা শুকিয়ে যাওয়া এই রোগের অন্যতম লক্ষণ।

ঝপ করে ওজন কমে যেতে পারে।

বিছানায় প্রস্রাব করে ফেলে অনেক শিশুই, দশ-বারো বছরের পরেও এমন অভ্যাস দেখা যায় অনেকের।

যোনিতে সংক্রমণ হতে পারে, খেয়াল রাখতে হবে।

ত্বক শুকিয়ে যায়, র‍্যাশ, চুলকানি হতে পারে।

অল্পেই ক্লান্তি, ঝিমুনি, খিদে কম, ঘুমের সমস্যা ও শরীরে সবসময় অস্বস্তিভাব থাকবে।

চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছোটদের ডায়াবেটিস ধরা পড়ে অনেক দেরিতে। কারণ, বাবা-মায়েরা সচেতন থাকেন না অনেক সময়েই। শিশুদের যে ডায়াবেটিস হতে পারে এমন ধারণাই নেই অনেকের। তাই অসুস্থ হলে ডায়াবেটিস ছাড়া অন্যান্য রোগের পরীক্ষা করানো হয়। ফলে ডায়াবেটিস ধরা পড়তে অনেক দেরি হয়ে যায়।

ডাক্তারবাবুরা বলেন, এমনও দেখা গেছে, বাচ্চা আইসিইউ-তে ভর্তি। সব পরীক্ষা হয়েছে, কিন্তু রক্তের শর্করা পরীক্ষা হয়নি। দিন কয়েক অপেক্ষার পরে অবশেষে ডায়াবেটিস পরীক্ষা করে দেখা গেল তার রক্তে শর্করার মাত্রা অতিরিক্ত পরিমাণে বেড়ে গিয়েছে। আবার সদ্যোজাতের রক্তে শর্করার মাত্রা ৬০০, এমনও দেখা গেছে। সেক্ষেত্রে বংশগত কারণে বা জিনবাহিত হয়ে রোগ ছড়াতে পারে।

Pilot program aims to test children before type 1 diabetes symptoms show

স্থূলতাও ডায়াবেটিসের কারণ

কমবয়সে বেশি ওজন, স্থূলতা নানা রোগ ডেকে আনে, যার মধ্যে ডায়াবেটিসও আছে। ডায়াবেটিসের থাবা থেকে রক্ষা পেতে ছোট থেকেই নিয়ম মেনে খাওয়া এবং কায়িক পরিশ্রম করা জরুরি। কিন্তু দু’টি জিনিসই বর্তমানে মেনে না চলায় বাচ্চাদের মধ্যে ওবেসিটি বা স্থূলতার সমস্যা বাড়ছে যা ভবিষ্যতে ডায়াবেটিসের আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলছে।

High-fibre diet can help treat Type 2 diabetes | Health News | Zee News

ডাক্তারবাবুরা বলছেন, ছোটবেলা থেকেই শিশুকে নির্দিষ্ট নিয়মে অভ্যস্ত করে তুলতে হবে। মা-বাবাকেও মানতে হবে কিছু নিয়ম। রান্না করতে ইচ্ছে করছে না বলে শিশুকে যথেচ্ছ সাপ্লিমেন্ট বা হেলথ ড্রিঙ্ক খাইয়ে রাখা, কিংবা যখন তখন বায়না করলেই চকোলেট দিয়ে বায়না মেটানো, ঘুম থেকে তুলে পড়তে বসানো এ সব অভ্যাস বদলাতেই হবে।

রাতে আট ঘণ্টা ঘুম, সকালে তাড়াতাড়ি উঠে শরীরচর্চা করা জরুরি। ঘুমনোর সময় ও খাওয়ার সময় নির্দিষ্ট করে দিতে হবে বাচ্চাদের। সেই সঙ্গে টিভি দেখার সময়ও কমিয়ে দিতে হবে। তা হলেই শিশুদের শরীর তো বটেই মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে, যা পরবর্তী কালে ওবেসিটির ঝুঁকিও অনেক কমিয়ে দিতে পারে।