ভারতে কমবয়সিদের মধ্যে বাড়ছে ডায়াবেটিস, কারণটা কি জিনঘটিত

চুপিসাড়ে আসে। ঘাপটি মেরে থাকে। তারপর একেবারে ফণা তুলে ছোবল বসায়। ডায়াবেটিস এখন ঘরে ঘরে। আট থেকে আশি কাউকেই ছাড়ছে না ডায়াবেটিস (Diabetes)। শিশু থেকে প্রবীণ, ডায়াবেটিস যে কারও শরীরেই বাসা বাঁধতে পারে। পুরুষ-মহিলা নির্বিশেষে। এই রোগকে তো সাইলেন্ট প্রোগ্রেসিভ ডিসঅর্ডারও বলেন ডাক্তারবাবুরা।

শিশু ও কমবয়সিদের মধ্যে ডায়াবেটিস মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে। ডান্ডি স্কুল অব মেডিসিনের গবেষকরা বলছেন, ইউরোপিয়ানদের থেকে অনেক বেশি ভারতীয়রা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। বিশেষ করে কমবয়সিদের মধ্যে মধুমেহ রোগ বেড়েই চলেছে। বাচ্চাদের অনেকের মধ্যেই টাইপ ১ ডায়াবেটিসের লক্ষণ ধরা পড়েছে। অর্থাৎ তাদের অগ্ন্যাশয় সম্পূর্ণভাবে ইনসুলিন ক্ষরণ বন্ধ করে দিয়েছে।  চিকিৎসকরা বলছেন, টাইপ টু ডায়াবেটিসের উপসর্গও ধরা পড়েছে বাচ্চাদের মধ্যে। অর্থাৎ অগ্ন্যাশয় আংশিকভাবে কাজ করছে, ইঞ্জেকশন নেওয়ার দরকার এক্ষেত্রেও।

বিশ্বের মধ্যে চিনে সবচেয়ে বেশি মানুষ এই রোগে আক্রান্ত, আর তার পরেই ভারত! কিন্তু ভারতে যে দ্রুততার সঙ্গে ডায়াবেটিক রোগীর সংখ্যা বাড়ছে তাতে মনে হচ্ছে আগামী ২০-৩০ বছরের মধ্যে ভারত চিনকে পিছনে ফেলে দেবে।

গবেষকরা বলছেন, একটা প্রচলিত ধারণা ছিল ৬০-৭০ বয়সে গিয়ে মানুষের এই রোগ হতে পারে। কিন্তু এখন মধুমেহ বয়সের ধার ধারছে না। ২৫-৩০ বয়সে কিংবা তার আগেও এই রোগ হতে পারে। এতে শুধু একজন ব্যক্তির ক্ষতি নয়, একটা দেশের যুব সমাজ যদি এই রোগে ক্রমশ আক্রান্ত হয়, তা হলে সেটা দেশের পক্ষে বড় ক্ষতি। এ দেশে তেমনটাই হচ্ছে। গবেষকদের দাবি, ভারতে কমবয়সিদের ডায়াবেটিস হওয়ার কারণ কিছুটা জিন ঘটিত কারণে এবং কিছুটা বর্তমান জীবনযাত্রার ধরনই এর কারণ। অনেক সময় খুব ছোট বয়সে অর্থাৎ সাবালক হওয়ার আগেই ডায়াবেটিক হয়ে পড়ে বাচ্চারা। এই ধরনকে জুভেনাইল বা টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিস বলে। পরিণত বয়সের সমস্যাকে বলে টাইপ টু।

বাচ্চাদের সাঁতার শেখা কতটা জরুরি, স্বাস্থ্যের কী কী উন্নতি হয় বলছেন ডাক্তারবাবুরা

সাধারণত অগ্ন্যাশয়ের সমস্যা থেকে টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিস হয়, এ ক্ষেত্রে সুস্থ থাকার জন্য ইনসুলিন প্রধান অস্ত্র। বেশি চিন্তা টাইপ টু নিয়ে। টাইপ টু ডায়াবেটিস হওয়ার পিছনে জিন অন্যতম প্রধান কারণ। বাবা-মা’র ডায়াবেটিস থাকলে সন্তানের তা হওয়ার সম্ভাবনা থাকেই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন,  আজকের এই গতিময় জীবনে কর্মক্ষেত্রের টেনশন, বাতানুকূল পরিবেশে বসে কাজ করার অভ্যাস, কম পরিশ্রম, অতিরিক্ত ফাস্টফুড খাওয়া এবং ধূমপান, পুরুষ ও মহিলা নির্বিশেষে সকলকেই ঠেলে দিচ্ছে বিপদের মুখে। তা ছাড়াও রয়েছে ওবেসিটি ও ডায়াবেটিস। ডাক্তারবাবুরা বলছেন, আগে হাতে গোনা আট থেকে দশ জন রোগী আসতেন হার্টের রোগের সমস্যা নিয়ে। এখন সেই সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ। বিশেষত কমবয়সি মহিলাদের ডায়াবেটিস ধরে গেলে হার্টের রোগের ঝুঁকি চড়চড় করে বেড়ে যাচ্ছে।

এই মুহূর্তে প্রত্যেক অভিভাবকের উচিত সন্তানদের মধ্যে পুষ্টিকর ডায়েট ও এক্সারসাইজের অভ্যেস করিয়ে দেওয়া। এতে পরের প্রজন্ম হয়তো এই রোগের হাত থেকে অনেকটা দূরে থাকতে পারবে, অন্তত কম বয়সে ডায়াবেটিক হয়ে পড়াটা আটকানো যাবে।