বর্ষায় ঘরে ঘরে কনজাংটিভাইটিসে ভুগছে বাচ্চারা, কী করে সাবধান থাকবেন

গুড হেলথ ডেস্ক

ঘরে ঘরে ভাইরাল জ্বর। ভুগছে আট থেকে আশি। বাচ্চাদের এই সময় সর্দি-কাশি, জ্বর ভোগাচ্ছে। তাপমাত্রা ১০২-১০৩ ডিগ্রি উঠছে। জ্বল ছাড়তেও দেরি হচ্ছে। সেই সঙ্গে কাশি, বুকে কফ বসে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ডাক্তারবাবুরা বলছেন, ঘরে ঘরে কনজাংটিভাইটিসের (Conjunctivitis) সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। 

চোখের খুব সাধারণ একটি অসুখ কনজাংটিভাইটিস (Conjunctivitis)। লোকমুখে যার পরিচিতি ‘‌জয় বাংলা’‌ নামে। চোখ ফুলে লাল হয়ে ওঠা, যন্ত্রণা, ক্রমাগত চোখ থেকে জল পড়া এই রোগের লক্ষণ। ভাইরাল জ্বরের সঙ্গে এখন কনজাংটিভাইটিসও ছড়াচ্ছে। 

চিকিৎসকরা বলছেন, কনজাংটিভাইটিসের ক্ষেত্রে মোটামুটি সাত দিনের মধ্যে সুস্থ হওয়া গেলেও এই ক্ষেত্রে সময় লাগছে প্রায় ১১ দিন। কোনও কোনও ক্ষেত্রে পুরোপুরি সুস্থ হতে লাগছে তারও বেশি সময়। চোখের পাতা ফোলা, চোখ করকর করা, চোখে জ্বালা ভাব, সর্দি-জ্বর, কানের কাছে গ্ল্যান্ড ফোলাও দেখা যাচ্ছে বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা।

Conjuntivitis

কনজাংটিভাইটিস হল কনজাংটিভার ইনফ্ল্যামেশন বা প্রদাহ। কনজাংটিভা হল চোখের স্বচ্ছ লেয়ার বা স্তর, অর্থাৎ চোখের সাদা অংশের ওপরের আস্তরণ। কর্নিয়ার মার্জিন থেকে স্‌ক্লেরা এবং আই লিডের পেছনের অংশ পর্যন্ত বিস্তৃত এই কনজাংটিভা।

কী কী সমস্যা দেখা দেয় (Conjunctivitis)?

১.‌ চোখ লাল হয়ে ফুলে যায়।
২.‌ চোখ কটকট করে।
৩.‌ জ্বালা করে।
৪.‌ চোখ দিয়ে জল পড়তে পারে।
৫.‌ চোখে সব সময় একটা অস্বস্তি ভাব থাকে।
৬.‌ ডিসচার্জ বেশি হলে দৃষ্টিও কিছুটা কমতে পারে।
‌৭.‌ কিছু কিছু কনজাংটিভাইটিস, যেমন ব্যাকটেরিয়াল কনজাংটিভাইটিসে চোখে এতটাই ডিসচার্জ থাকে যে, ঘুম থেকে ওঠার পর চোখের পাতা জুড়ে যেতে পারে। চোখে সামান্য ব্যথাও হতে পারে।
৮.‌ আলোর দিকে তাকালে সমস্যা হতে পারে।
৯.‌ জল পড়া এবং চোখ কটকট করাটাই কনজাংটিভাইটিসে প্রধান সমস্যা।

conjunctivitis treatment

কীভাবে সাবধান থাকবেন

১. কনজাংটিভাইটিস বা চোখের যে কোনও সমস্যায় কখনওই বারবার চোখে হাত দেবেন না।

২.‌ প্রয়োজন হলে কোনও টিস্যু দিয়ে চোখ মুছলে, সেটা ফেলে দিন। ওটা দ্বিতীয়বার ব্যবহার করবেন না। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে পরিচ্ছন্নতার দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

৩.‌ অ্যালার্জিক কনজাংটিভাইটিসে প্রকাশ্য স্থানে যাওয়ায় কোনও বিধিনিষেধ নেই। কিন্তু ব্যাকটিরিয়াল বা ভাইরাল কনজাংটিভাইটিস হলে না যাওয়াই ভাল। তখন বিশ্রামে থাকাই ভাল।

৪.‌ কনজাংটিভাইটিস হলে স্যুইমিং পুলে না যাওয়াই ভাল। 

৫. কখনও স্টেরয়েড ড্রপ দেবেন না। সাময়িক আরাম লাগলেও সারতে সময় নেবে।

৬. অ্যান্টিবায়োটিক মলম লাগিয়ে শুতে হবে। তাতে পিচুটির জন্য চোখ আটকে যাবে না।

কানে কটকট, অসহ্য ব্যথা, আরাম পেতে পারেন ঘরোয়া উপায়ে