চশমা-লেন্স পরতে হবে না, চোখের পাওয়ার শূন্যে নামিয়ে আনবে ল্যাসিক সার্জারি

গুড হেলথ ডেস্ক

চোখে মোটা পাওয়ারের চশমা পরতে ভাল লাগে না? কনট্যাক্ট লেন্স তো টানা সাত-আট ঘণ্টার বেশি পরা যায় না। দূরের পাওয়ার হোক বা কাছের, এই চশমা-লেন্সের ঝঞ্ঝাট থেকে রেহাই পেতে কার না ইচ্ছা করে! চোখের পাওয়ার একেবারে শূন্যে নামিয়ে আনার কোনও পদ্ধতি এতদিন জানা ছিল না। পাওয়ার ধরা পড়েছে মানে চশমা পরতেই হবে। হালে লেন্স। তবে এখন চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতিতে এমন অপারেশনের পদ্ধতি বেরিয়েছে যা চোখের পাওয়ার নির্মূল করতে পারে। যাঁদের পাওয়ার খুব বেশি, তাঁরা সারাজীবনের মতো চশমা থেকে অব্যাহতি পেতে পারেন।

অবাক লাগলেও সত্যি। ভারতেও এই ধরনের অপারেশন বা আই সার্জারি (Eye Surgery) হচ্ছে এখন, এর নাম ল্যাসিক সার্জারি (LASIK Surgery)।

ল্যাসিক সার্জারি কী? কীভাবে করা হয়?

চোখের সামনে দিকে গোল কাচের মতো  অংশের নাম কর্নিয়া। আলোর প্রতিফলন ও প্রতিসরণের ৬০% হয় এর উপরেই। তাই কর্নিয়ার গঠনগত সমস্যার ফলে যাঁদের দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ, তাঁদের ক্ষেত্রে কর্নিয়ার সামান্য অংশ অস্ত্রোপচার করে বাদ দিয়ে মোটা কোষকে পাতলা করে কর্নিয়ার তল ঠিক করে দেওয়া হয়। এই পদ্ধতির নাম হল ‘লেজার অ্যাসিস্টেড ইন-সিটু কেরাটোমিলিউসিস’, সংক্ষেপে ল্যাসিক।

এই সার্জারিতে লেজারের সাহায্যে মণির আকার একটু পরিবর্তন করে রিশেপিং করে দেওয়া হয়। এর ফলে আলোর প্রতিসরণ বা রিফ্র্যাকটিভ এরর (refractive surgery) সংক্রান্ত যে সমস্যা, তা দূর হয়। ফলে চোখের পাওয়ার কমতে কমতে শূন্যে চলে আসে।

Lasik Surgery

কারা ল্যাসিক সার্জারি করাতে পারে?

১৮ বছর বয়স না হলে চোখে ল্যাসিক সার্জারি করানো যায় না। চোখের পাওয়ার যেন অবশ্যই ৬ মাস থেকে ১ বছর স্থায়ী থাকে।

সার্জারির আগে কী কী টেস্ট করানো হয়?

চোখের কর্নিয়াল টেমোগ্রাফি-পেন্টাক্যাম করে দেখে নেওয়া হয় মণি কতখানি পুরু। সব স্বাভাবিক থাকলে অপারেশন করা হয়।

কত মাত্রা অবধি পাওয়ার ঠিক করা যায়?

দূরের পাওয়ার মাইনাস ১১ ও কাছের পাওয়ার প্লাস ৪ ও ৫ এবং সিলিন্ড্রিকাল পাওয়ার ঠিক করা যায় ল্যাসিক সার্জারিতে।

ল্যাসিক সার্জারির সমস্যা কী কী?

চোখের এই অপারেশন কতটা নিরাপদ সে নিয়ে দ্বিমত আছে। ডাক্তাররা বলছেন, সকলের চোখ এই সার্জারির উপযুক্ত নয়। অপারেশনের আগে অবশ্যই পরীক্ষা করে দেখে নিতে হবে। যদি ব্যবসার স্বার্থে সকলকেই এই সার্জারি করানো শুরু হয় তাহলে বিপদ হতে পারে। তাতে রোগীর ক্ষতির আশঙ্কাই বেশি।

চর্মরোগে ভুগছেন? কলকাতার কোথায় কোথায় চিকিৎসা হয়

চক্ষু চিকিৎসকরা বলছেন, ল্যাসিক সার্জারিতে কর্নিয়া থেকে টিস্যু কেটে বাদ দিতে হয়, তাই পরবর্তী সময়ে কর্নিয়ার অন্য অস্ত্রোপচারে সমস্যা হতে পারে। তাতে অনেকাংশেই দৃষ্টি হারানোর ঝুঁকি থেকে যায়। তা ছাড়া ল্যাসিক করালে অনেক ক্ষেত্রেই চোখের বায়োমেট্রিতে ভুলের সম্ভাবনা থেকে যায়। গর্ভবতী বা চোখের কোনও অসুখ থাকলেও এই সার্জারি এড়িয়ে চলতে হবে। কর্নিয়ার মাপ নেওয়া থেকে শুরু করে, চোখের পাওয়ার ও রেটিনা পরীক্ষা পর্যন্ত সব নিশ্চিত হওয়ার পরেই ল্যাসিক করতে হবে।