ছানি কেন পড়ে, শুধু কি বয়স বাড়লেই এই সমস্যা? চিকিৎসা কী? জানুন বিস্তারিত

গুড হেল্থ ডেস্ক: বয়স বাড়লেই ভয় বাড়ে, এই বুঝি চোখে ছানি পড়ল! যদিও আগের মতো এখন আর চোখে কালো কাপড় বা চশমা পরে ঘুরে বেড়াতে হয় না ছানি অপারেশনের পরে। ছুরি, কাঁচির ভয়ও কমেছে কিছুটা। তবুও অনেকে ভয়ে ছানির চিকিৎসা করাতে চান না।

ছানি অপসারণের প্রক্রিয়া এখন অনেক বেশি ব্যথাহীন ও নির্ঝঞ্ঝাট। বিশেষত ফেকো-র মতো আধুনিক পদ্ধতিতে ছানি অপারেশনে সাফল্য বেড়েছে বেশ কয়েক গুণ।

ছানি কী?

একজন স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন মানুষের চোখের ভেতর একটা স্বচ্ছ লেন্স থাকে। এই লেন্সই আমাদের দেখতে সাহায্য করে। বয়স বাড়লে ধীরে ধীরে এই লেন্স অস্বচ্ছ হয়ে যেতে থাকে। ফলে বাইরে থেকে আলো আর ভেতরে প্রবেশ করতে না। ফলে স্পষ্টভাবে দেখতে অসুবিধা হয়। একদম সহজ ভাষায়, বার্ধক্যজনিত কারণে মানুষ যখন চোখে কম দেখে, তখন তাকে ছানি বলে।

তবে কি শুধু বয়স বাড়লেই ছানি?

বার্ধক্যজনিত অসুখ হলেও অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় জন্মগত কারণেও ছানি হয়েছে। গর্ভাবস্থায় মায়ের কোনও বড় রোগ হলে সেক্ষেত্রে শিশুর ছানি হওয়ার একটা সম্ভাবনা থাকে।

এছাড়া নানারকম শারীরিক সমস্যার কারণেও ছানি হতে পারে। যেমন ইনবর্ন এরর অফ মেটাবলিজম
চোখে আঘাত লাগলে ছানি হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। এমনকি ব্লাড সুগার থেকে অনেকসময় অল্প বয়সেই ছানি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

চিকিৎসা কী?

ছানি থাকলে অপারেশন করে আধুনিক পদ্ধতিতে কৃত্রিম লেন্স প্রতিস্থাপন করে ছানি আক্রান্ত ব্যক্তিকে ফিরিয়ে দেওয়া হয় তার পুরনো দৃষ্টিশক্তি।

ফেকো কী?

ছানি অপারেটের এক আধুনিক পদ্ধতি হলো ফেকো। ফেকো সার্জারিতে ইঞ্জেকশন দেওয়ার কোনও প্রয়োজনই হয় না, শুধুমাত্র চোখে ড্রপ দিয়ে অসাড় করেই সার্জারি করা যায়। কোনও ধরনের কাটাছেঁড়ার প্রয়োজন পড়ে না। শুধুমাত্র নিডলের মাধ্যমে একটা ছোট্ট ফুটো করে ইন্ট্রাঅকুলার লেন্স প্রতিস্থাপন করা হয়।

ফেকোতে রোগীর কোনও ধরনের কোনও কষ্ট হয় না। ফেকো-র জটিলতা একেবারেই নেই বললেই চলে। এই পদ্ধতিতে রিকভারিও খুব তাড়াতাড়ি হয়। তাই ছানির সমস্যা ভয় পেয়ে ফেলে না রেখে চিকিৎসা করান। সবাই ভালো দেখুন। ভালো থাকুন।