ট্যারা চোখের চিকিৎসা কী? বাচ্চাদের এই রোগ সারে কি

গুড হেলথ ডেস্ক

ট্যারা চোখ বা স্কুইন্ট (squint eye) হল চোখের একধরনের ত্রুটি। সমস্যাটি হতে পারে জন্মগত বা পরে হয়েছে কোনও কারণে। সাধারণত আমরা দুই চোখে দেখি বা ‘ফোকাস’ করি। দুটি চোখ যা দেখে য়ার সঙ্কেত পাঠায় মস্তিষ্কে। ব্রেন থেকে সিগন্যাল এলে আমরা যা দেখছি তার সম্পর্কে ধারণা তৈরি হয়। এই পদ্ধতিকে বলে বাইনোকুলারিটি। যদি দুটি চোখ একই সঙ্গে একই সময় নির্দিষ্ট বস্তুর উপর ফোকাস করতে না পারে. তাহলেই সমস্যা শুরু হয়।

স্কুইন্টের (squint eye) সমস্যা নানা রকম হতে পারে। দেখা গেছে, একটি চোখের মণি একদিকে সরে গেছে বা কানের দিকে সরে এসেছে। অনেক সময় মণি চোখের উপর দিকে উঠে যায় বা গালের দিকে নেমে আসে।

squint eye

ট্যারা চোখের সমস্যা চার ধরনের হয়–১) ইসোট্রপিয়া ২) একজোট্রপিয়া ৩) হাইপারট্রপিয়া ৪) হাইপোট্রপিয়া।

রোগের (squint eye) কারণ

ট্যারা চোখ জন্মগত কারণে হতে পারে। আবার বংশে কারও ট্যারা চোখের সমস্যা থাকলে তা পরবর্তী প্রজন্মে আসতে পারে।

প্রাপ্তবয়স্কদের হঠাৎ করেই এই রোগ হতে পারে। ব্রেন স্ট্রোক হলে পেশি পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়, তখন এই সমস্যা হতে পারে।

ডবল ভিশন থেকে ট্যারা চোখ বা স্কুইন্টের সমস্যা হতে পারে।

ব্রেন টিউমার হলে তার থেকে স্কুইন্টের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

Squint eye

দুর্ঘটনার কারণে চোখের পেশিতে আঘাত লাগলে তার থেকে এই রোগ হতে পারে।

বাচ্চার অপুষ্টি থেকে চোখে ট্যারাভাব আসতে পারে। চোখের পাওয়ারে সমস্যা থাকলে তার থেকেও এই রোগ হতে পারে।

ট্যারা চোখের চিকিৎসা কী?

ট্যারা চোখের চিকিৎসা মূলত তিন ধরনের। পাওয়ার চেক, এক্সারসাইজ় এবং সবশেষে সার্জারি।

বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এক দলের হাই প্লাস পাওয়ার দেখা যায়, যাদের চোখ দু’টি নাকের দিকে সরে গিয়েছে। তাকে বলা হয় আইসোট্রোপিয়া। আবার এক দলের হাই মাইনাস পাওয়ার, যাদের বাইরের দিকে চোখ দু’টি সরে গিয়েছে। এটিকে বলা হয় এক্সোট্রোপিয়া। চোখের মণি উপরের দিকে সরে গেলে, সেটিকে বলে হাইপারট্রোপিয়া। আর নীচের দিকে সরে এলে সেটিকে বলে হাইপোট্রোপিয়া। সব ক্ষেত্রেই চশমা দিয়ে এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হয়।

রোগীকে চোখের কিছু এক্সারসাই দেওয়া হয় যাকে বলে কনভারজেন্স এক্সারসাইজ বা ডাইভারজেন্স এক্সারসাইজ। কী ধরনের স্কুইন্ট তার উপর চোখের ব্যায়াম নির্ভর করে।

সবশেষ হল সার্জারি দিয়ে চোখ ঠিক করা।  একে বলে স্ট্রবিসমাস সার্জারি বা এক্সট্রাঅ্যকুলার মাসল সার্জারি। যদি দু’টি চোখের দৃষ্টি তৈরি না হয়, সে ক্ষেত্রেও সার্জারি করে চোখ দু’টিকে সোজা করা যায়। সার্জারির উদ্দেশ্য দু’টি, কসমেটিক বা দেখতে ভাল লাগা এবং দৃষ্টিশক্তির গুণগত মান বাড়ানো। কম বয়সে সার্জারি করালে থ্রি ডি ভিশন ফিরে আসতে পারে। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এটা খুবই জরুরি। সাধারণত ২ বছরের বয়সের পর থেকেই সার্জারি করানো যায়। ৩ থেকে ৪ বছরের পরেও অপারেশন করলে দ্রুত ফল হয়। খুব বিরল ক্ষেত্রে ৬ মাসের বাচ্চার অপারেশন করানো হয়। ছোটবেলায় অপারেশন করিয়ে নিলে ট্যারা চোখ ঠিক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

প্রাপ্তবয়স্করাও চাইলে সার্জারি করিয়ে ট্যারা চোখ ঠিক করতে পারেন। তবে বয়স বাড়লে অন্যান্য অসুখবিসুখ দেখে ডাক্তাররা অপারেশন করার সিদ্ধান্ত নেন। সেক্ষেত্রে রোগীর কোমর্বিডিটি দেখে তবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।