রোজ গড়ে ২০ কিলোমিটারের বেশি হাঁটছেন রাহুল গান্ধী, সুস্থ থাকতে কখন ও কতটা হাঁটা ভাল?

গুড হেলথ ডেস্ক

ডাক্তারবাবুরা বলেন ‘Walking is a good exercise’।

ভারী ব্যায়াম যদি না করতে পারেন, তাহলে হাঁটুন (Walking)। হাঁটার মতো ভাল এক্সারসাইজ আর হয় না। নীরোগ-সুস্থ শরীর ধরে রাখতে হাঁটার থেকে ভাল আর কিছু হয় না। হাঁটলে শরীর কতটা ফিট থাকে সেটা সাম্প্রতিক সময় আমরা কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীকে (Rahul Gandhi) দেখেই বুঝতে পারছি। ভারত জোড়ো যাত্রায় (Bharat Jodo Yatra) ভোর ৬টার সময় ঘুম থেকে উঠে হাঁটা শুরু করছেন রাহুল। তারপর কিলোমিটারের পর কিলোমিটার হেঁটেই চলেছেন। বেলায় খানিক বিশ্রাম, আবার বিকেল থেকে হাঁটা শুরু করছেন।  রোজ গড়ে ২০ কিলোমিটারের বেশি হাঁটছেন (Walking)। কখনও আবার দিনে ২৫ কিলোমিটারও হয়ে যাচ্ছে। দশ দিন পরপর বিশ্রাম। মোট সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটারের মতো পথ হাঁটা হবে। 

তা হাঁটছেনও কংগ্রেস সাংসদ। কখনও ঢোল বাজাচ্ছেন, কখনও দেখা যাচ্ছে ‘পুশ আপ’ করতে। আর হাঁটার তো বিরাম নেই। তাঁর সঙ্গে এত পথ হাঁটতে হিমশিম খেতে হচ্ছে অনেককেই। ৫৭তম দিন চলছে, ১৫০ দিন ধরে হবে এই পদযাত্রা। গত ৭ সেপ্টেম্বর তামিলনাড়ুর কন্যাকুমারী থেকে শুরু হয়েছে রাহুলের ওই যাত্রা। ১২টি রাজ্য ঘুরে ওই যাত্রা শেষ হবে শ্রীনগরে। ইতিমধ্যেই তামিলনাড়ু, কেরল, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং কর্নাটক সফর শেষ করে রাহুলের ‘ভারত জোড়ো যাত্রা’ এখন তেলঙ্গানায়। এখনও দীর্ঘ পথ বাকি। হেঁটেই পাড়ি দেবেন কংগ্রেস সাংসদ।

এখন প্রশ্ন হল, এত হাঁটাহাঁটি কি শরীরের জন্য ভাল? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি হার্টের অসুখ বা বয়সজনিত অন্য সমস্যা না থাকে তাহলে হাঁটা মন্দ নয়। তবে হ্যাঁ, যদি সদ্য কোনও অস্ত্রোপচার হয়ে থাকে বা নানাধরনের কোমর্বিডিটি থাকে তাহলে কতটা হাঁটা ভাল সেটা বিশেষজ্ঞের থেকে জেনে নেওয়াই ভাল। প্রতিদিন কিছুটা করে হাঁটাহাঁটি করা সকলের জন্যই ভাল, তবে একটানা এত পথ হাঁটা সবার শরীরে সইবে কিনা সেটা জেনে নেওয়াই ভাল।

এখন জেনে নেওয়া যাক, হাঁটার উপকারিতা কতটা! তবে হাঁটারও নিয়‌ম আছে। কতটা লাভ হবে সেটা নির্ভর করছে কোন সময়ে হাঁটবেন, কতটা হাঁটবেন , সবকিছুর ওপরেই।

হাঁটুন, তবে নিয়মগুলো জেনে নিন

  • হাঁটার (Walking) জন্য সবচেয় ভাল সময় ভোরবেলা ও বিকেলবেলা। 
  • রোজ অন্তত আধ ঘণ্টা হাঁটলে সবচেয়ে ভাল। ধীরে ধীরে হাঁটার সময় বাড়াতে পারেন।
  • একদম খাওয়ার আগে বা পরে হাঁটা ঠিক নয়। অন্তত ১০ মিনিটের ব্যবধান থাকলে ভাল।
  • খুব ধীর গতিতে হাঁটলে হাঁটার উপকার সঠিকভাবে পাওয়া যায় না। তার চেয়ে একটু জোরে হাঁটাই ভাল। তবে খেয়াল রাখতে হবে, হাঁটাটা যেন দৌড়নো না হয়ে যায়। একটা মাঝামাঝি গতি হাঁটার সময় বজায় রাখুন।
  • যাঁরা রোজ হাঁটছেন তাঁরা খাওয়াদাওয়ার দিকেও নজর দিন। খুব ভারী খাবার খেয়ে হাঁটা মোটেও স্বাস্থ্যকর নয়। জানা গেছে, রাহুল গান্ধী হাঁটবেন বলে এখন ভাত-রুটি কম খাচ্ছেন, বরং বেশি খাচ্ছেন লিন মিট (চিকেন)।

কখন হাঁটা ভাল? কতটা হাঁটলে উপকার হবে?

  • সকালে ৩০ মিনিট হাঁটার (Walking) অভ্যাস থাকলে হার্টের রোগের ঝুঁকি কমবে ৩৫ শতাংশ। 
  • ব্রেনের স্বাস্থ্যের জন্যও হাঁটা ভাল। স্মৃতিনাশ, অ্যালঝাইমার্সের মতো ব্যধির ঝুঁকি কমবে।
  • প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটলে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে।
  • হাঁটলে শরীরের রক্ত সঞ্চালন ঠিক থাকে, ফলে আর্টারি ব্লক হওয়ার সম্ভাবনাও কমে। কমে স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি।
  • রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে হাঁটা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। গবেষণায় দেখা গেছে, হাঁটলে টাইপ টু ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও কম।
  •  নিয়মিত হাঁটলে ৬০%‌ পর্যন্ত কোলন ও স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে।
  • সাধারণ ভাবে, এক ঘণ্টা হাঁটলে আপনি ৪০০ ক্যালোরি ঝরাতে পারবেন। যদি আপনি গড়ে ঘণ্টায় ৬ কিলোমিটার বেগে হাঁটতে পারেন তা হলেই ৪০০ ক্যালোরি পর্যন্ত ঝরাতে পারবেন। সহজ করে বললে,  ১০০ ক্যালোরি ঝরাতে হলে আপনাকে ২,০০০ পা হাঁটতে হবে যা প্রায় দেড় কিলোমিটারের মতো।
  • সামনে তাকিয়ে হনহনিয়ে হাঁটা নয়। চারপাশ দেখুন। প্রাতঃভ্রমণ হলে গায়ে মুখে রোদের স্পর্শের অনুভূতি নিন। হাঁটার অভ্যাসে শরীর যেমন তরতাজা থাকবে তেমনি আর্থ্রাইটিসের সমস্যাও কমবে।