৪০ পেরোলেও বয়সের ছাপ পড়বে না, রোজের এই ব্যায়ামগুলোই অ্যান্টি-এজিং দাওয়াই

গুড হেলথ ডেস্ক

অ্যান্টি-এজিং (Anti Aging) নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে হইচই হচ্ছে। চল্লিশ পেরিয়েও কীভাবে শরীর ও মনে তরতাজা থাকা যায়, সে নিয়ে বিস্তর গবেষণাও হচ্ছে। বয়স ধরে রাখার ওষুধপত্র থেকে প্রসাধনী–নানারকম বেরিয়ে গেছে এখন। এমনকি যথেচ্ছ হরমোন থেরাপিও হচ্ছে। আর এইসব করতে গিয়ে শরীরের বারোটা বাজিয়ে ফেলছেন লোকজন। অকালেই ঘনিয়ে আসছে মারণ রোগ। 

চল্লিশের কোঠায় বয়স ঢুকে পড়লে মনে হয়, জীবনটা তো কাটিয়েই দিলাম। তার পর বয়স যখন ধীরে ধীরে পঞ্চাশের দিকে এগোতে থাকে এই ধারণা আরও জাঁকিয়ে বসে। সেই সঙ্গেই আলস্য আর অবসাদ গ্রাস করে। ডায়াবেটিস, প্রেশার, সুগার, হাঁটুর ব্যথা কাবু করতে থাকে। মহিলারা মেনোপজের দিকে এগোতে থাকেন। শরীর ও মনে বয়সের ছাপ পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বয়সের কাঁটা যতই এগোতে থাকুক, সুস্থ থাকতে হলে সঠিকভাবে খাওয়া-দাওয়া করার পাশাপাশি প্রয়োজন নিয়মিত শরীরচর্চা (Fitness) করার। অনেকেই হয়তো প্রতিদিন জিমে গিয়ে ওয়ার্কআউট করতে পারেন না। তাছাড়া এমন কিছু কোমর্বিডিটি থাকে যাতে সব ধরনের ব্যায়াম করা যায় না। ভারী কার্ডিও বা ওয়েট ট্রেনিং করতে গিয়ে হয়ত হার্টের অসুখই হয়ে গেল। কাজেই এমনকিছু এক্সারসাইজ বেছে নিতে হবে যা সকলেই কমবেশি করতে পারবেন। আর এই ধরনের ব্যায়াম শরীর ও মনের পুষ্টির জন্য খুবই উপকারি।  তবে যে কোনও ধরনের ব্যায়ামই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে করাই ভাল।

 jogging running

রোজ হাঁটুন

পায়ে পায়ে এগিয়ে যান। পিছিয়ে পড়বে হাজারো সমস্যা। বাড়তি ওজন, কোলেস্টেরল, রক্তে শর্করা, হৃদরোগের মতো খলনায়কদের ঝেরে ফেলতে মর্নিং ওয়াকের কোনও বিকল্প নেই (Fitness))। তাজা হাওয়ায় হাঁটাহাঁটি করলে শরীরও তরতাজা থাকবে। হাঁটাহাঁটির সবচেয়ে ভাল সময় হল ভোরবেলা। প্রাতঃভ্রমণের উপকারিতার কথা সবসময়েই বলেন ডাক্তাররা। একটু তাড়াতাড়ি উঠে হাঁটার অভ্যাস করলে বিশুদ্ধ অক্সিজেনও পাওয়া যায়, শরীর-মনের ক্লান্তিও কাটে। একঘেয়েমি, অবসাদ, স্ট্রেস, এমনকি কম ঘুমের সমস্যা থেকেও রেহাই মেলে। নিয়মিত হাঁটলে স্মৃতিনাশ, অ্যালঝাইমার্সের মতো ব্যধির ঝুঁকিও কমবে।

Exercise

সাঁতার কাটুন

নিয়মিত সাঁতার কাটলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে (Fitness) । সারা শরীরে ব্যায়াম হয়। শরীরের সমস্ত অঙ্গ-প্রতঙ্গ সচল থাকে। হার্ট ও ফুসফুসের জোর বাড়ানোর জন্যও সাঁতার ভাল। 

সাইকেল চালানো অভ্যাস করুন

জিমে গিয়ে ট্রেডমিলে হাঁটার প্রয়োজন নেই। নিয়মিত সাইকেল চালানোর অভ্যাসেই শরীর ভাল থাকতে পারে। ওজন কমে, নিয়মিত সাইক্লিং হার্টের পক্ষে খারাপ কোলেস্টেরল কমায় এবং ভাল কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। স্ট্রোক ও ডায়াবেটিসের সম্ভবনা কমে। মানসিক স্বাস্থ্যেরও উন্নতি হয়।

cycling

অ্যারোবিকস অনেক অসুখ দূরে রাখে

অ্য়ারোবিকস হল রিদম বা মিউজকের তালে তালে ওয়ার্কআউট। এতে সারা শরীরের ব্যায়াম হয়। ওজন তো কমেই, মানসিক অবসাদ, একঘেয়েমি, একাকীত্ব বোধ, অতিরিক্ত উদ্বেগও কমে যায়। নিয়মিত অ্যারোবিকস করেন যাঁরা তাঁরা শরীর ও মনে অনেক তরতাজা থাকেন। অসুখবিসুখও কমে যায় অনেক। ফলে চেহারায় তারুণ্য বজায় থাকে।