অম্বল আর গ্যাস কিন্তু এক নয়, ভুক্তভোগী হলে জেনে নিন কোনটা কী কারণে হচ্ছে

গুড হেলথ ডেস্ক

বাঙালি চর্ব-চোষ্য খাবে না আর গ্যাস-অম্বলে ভুগবে না তাই কখনও হয় নাকি! 

 কথাতেই আছে- চর্ব চোষ্য লেহ্য পেয়। ভোজনরসিক বাঙালি একটু বেশিই ভোগে পেটের রোগে। ঘন ঘন পেটের সমস্যা, কিছু খেলেই পেটে মোচড়, প্রকৃতির ডাকে বাথরুমে ছুটে যাওয়া, অসময়ে মলত্যাগের অভ্যাস।  তারিয়ে তারিয়ে রসাস্বাদন করতে গিয়ে কখন যে পেট রসাতলে যেতে থাকে তা বোঝেন কতজনে! গলা অবধি ঝালেঝোলে অম্বলে (Acidity) খেয়ে তারপর গলা জ্বালায় হাঁসফাঁস করাটা মোটেও কাজের কথা নয়। ঘন ঘন অম্বল, গ্যাসের সমস্যা (Gastric Problems) হতে হতে একসময় হজমের প্রক্রিয়াটাই বিগড়ে যায়। তখন পেটে আলসার, ইরিটেবল বাওয়েল সিন্ড্রোম ইত্যাদি রোগে ভোগা শুরু হয়।

অনেকেই মনে করেন অম্বল (Acidity) আর গ্যাসের সমস্যা বুঝি এক। আদতে তা নয়। যদিও খাদ্যরসিক বাঙালি একইসঙ্গে দুটোতেই ভোগে। একদিকে যেমন বুক জ্বালা, চোঁয়া ঢেঁকুর, তেমনি অন্যদিকে পেটে বুদবুদ। গলা থেকে পেট অবধি, সমস্যা কোণায় কোণায়।

Acidity And Gas Problem

এই অম্বল আর গ্যাসের ব্যাপারটা বুঝতে হলে আগে জানতে হবে, কোনটা কী কারণে হয়।

অম্ল থেকে অম্বল, ব্যালান্স বিগড়ে গেলেই খটামটি শুরু

শরীরে বিপাক ক্রিয়ার জন্য অম্ল ও ক্ষারের ভারসাম্য সঠিক রাখা দরকার। মানুষের শরীরে যে অম্ল বা অ্যাসিড থাকে তার গুণ অনেক। আমরা যে খাবার খাচ্ছি তার বিপাকের জন্য এটি দরকার। কিন্তু যদি ব্যালান্স বিগড়ে যায় এবং অম্লের মাত্রা বেড়ে যায় তখনই অ্যাসিডিটি হতে শুরু করে। মনে হয় বুক-গলা দিয়ে অ্যাসিড উঠে আসছে।

ICMR: পেটের সমস্যা-গ্যাস-অম্বলে কী ওষুধ খাবেন, কোন ডাক্তার দেখাবেন, ঝটপট বলে দেবে অ্যাপ

Gas Trouble

প্রোটিন জাতীয় খাবার হজমে অ্যাসিড দরকার। তাই মাংস ম্যারিনেট করতে টক দই, ভিনিগার বা লেবুর রস ব্যবহার করি আমরা। আসলে সহজপাচ্য করতেই খাবারে অ্যাসিড যোগ করা হয়। প্রোটিন ভেঙে অ্যাসিড মেটা প্রোটিন তৈরি হয়, যা হজমে সাহায্য করে। এই অ্যাসিড ব্যালান্স ঠিক রাখা খুব দরকার। যদি প্রোটিন খুব বেশি খেতে শুরু করি বা খুব তেলমশলাদার খাবার খাই তাহলে সেগুলিকে সহজপাচ্য করতে অ্যাসিড বেশি দরকার হবে। অতিরিক্ত অ্যাসিডই তখন অম্বলের কারণ হয়ে উঠবে। তখন মনে হবে খাবার পরে গলা-বুক জ্বলছে। 

গ্যাস কেন হয়?

গ্যাস (Gastric Problems) আর অম্বল এক কারণে হয় না। দুইয়ের মধ্যে কোনও যোগাযোগও নেই। তবে হ্যাঁ, দুটোই যখন একসঙ্গে জাঁকিয়ে বসে তখন অবস্থা তথৈবচ হয়ে যায়। ঘন ঘন গলা-বুক জ্বালা, ঢেঁকুর, পেট ফুলে ঢোল। 

Gas Problems

আমরা রোজ যে খাবার খাই তার মধ্যে ফাইবার জাতীয় খাবারও থাকে। খাবার যখন পরিপাক হয় তখন আমাদরে অন্ত্রে থাকা কিছু ভাল ব্যাকটেরিয়া (গাট মাইক্রোবস) এই ফাইবার জাতীয় খাবারগুলোকে জারিত করে বা বার্ন করে। তখন বুদবুদ তৈরি হয়। অতিরিক্ত ফাইবার জাতীয় খাবার খেলে এই বুদবুদের মাত্রাও বেশি হয়। তখন তা মুখ দিয়ে বা পায়ুদ্বার দিয়ে বের হয়। যেমন ধরা যাক রুটি। অনেকেরই রুটি খেয়ে ভাল হজম হয় না। বা ময়দা জাতীয় কোনও খাবার। এইসব বেশি খেলে তখন গ্যাস হবেই। তাই বিকল্প হিসেবে ওটস, ব্রাউন রাইস খেতে পারেন।

কিছু মানুষের গ্যাস বেশি হয়। এর কারণও আলাদা আলাদা। খাবার ধরনের ওপর নির্ভর করে। অনেকেরই দুধ (Milk Products) জাতীয় খাবার সহ্য হয় না। এই সমস্যার নাম হল ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স (Lactose Intolerance)। সেই কারণেও গ্যাস হয়। আবার দেখা গেছে যে বিনস, বরবটি জাতীয় খাবারও অনেকের সহ্য হয় না। এই কারণেও গ্যাস হয়। আবার ফুলকপি, বাঁধাকপির মতো খাবার থেকেও এই সমস্যা হতে পারে।

গ্যাসের সমস্যা বাড়লে খিদে না হাওয়া, খিদের ইচ্ছা চলে যাওয়া, সামান্য কিছু খেলেই পেট ফাঁপার মতো সমস্যা দেখা দেবে। গ্যাসের ব্যথা মারাত্মক। যার হয় সেই বোঝে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্যাস, অম্বলের সমস্যায় মানুষ মুড়িমুড়কির মতো প্যান্টোপ্রাজ়ল জাতীয় ওষুধ খান। এই ধরনের ওষুধ অ্যাসিডের ব্যালান্স নষ্ট করে দেয়। পাশাপাশি অন্ত্রে ভাল ব্যাকটেরিয়ারও ক্ষতি করে। । তা ছাড়াও তিন বছর টানা পিপিআই গ্রুপের ওষুধ খেলে হাড় ভঙ্গুর হয়ে যাওয়া, কিডনির সমস্যাও হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে ডাক্তারি করে অম্বল বা গ্যাসের ওষুধ খেতে যাবেন না। তার চেয়ে বরং ব্যালান্স ডায়েটে থাকুন। ভাজাভুজি, তেলমশলা কম খান, বাড়িতে তৈরি হাল্কা রান্না খান। আর স্ট্রিট ফুড-নৈব নৈব চ।