দেশে প্রথম তিন মাসের শিশুর কিডনি অপারেশন সফল, মাত্র দু’ঘণ্টায় জটিল সার্জারি করেছে এইমস

গুড হেলথ ডেস্ক

বয়স মাত্র তিন মাস। দুটি কিডনিই বিকল হতে বসেছিল। এমন অবস্থায় এইটুকু বাচ্চার কিডনি অপারেশন কতটা ঝুঁকির তা বিলক্ষণ জানতেন ডাক্তারবাবুরা। কিন্তু সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হয়নি। পুরনো পদ্ধতি নয়, মিনিমাল ইনভ্যাসিভ ল্যাপারোস্কোপিক পদ্ধতিতে শিশুটির কিডনি (Congenital Kidney Condition) সার্জারি করে দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্স (এইমস)। মাত্র দু’ঘণ্টায় দুটি কিডনিতেই অপারেশন সফল হয়েছে বলে জানা গেছে। ডাক্তারবাবুরা বলছেন, আমাদের দেশে এইটুকু শিশুর কিডনির এমন জটিল অপারেশন আর হয়নি।

জন্মের পরে দুটি কিডনির গঠন সম্পূর্ণ হয়নি শিশুটির। দিল্লির এইমস জানাচ্ছে, বাচ্চাটির যে সমস্যা ছিল তার নাম ইউরিটেরোপেলভিক জাংশন অবস্ট্রাকশন ( ureteropelvic junction obstruction)। এই সমস্যা সারাতে যে ধরনের অপারেশন দরকার হয় তা অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ। তাই ডাক্তাররা বাচ্চাটির ক্ষেত্রেও মিনিমাল ইনভ্যাসিভ পদ্ধতির প্রয়োগ করেন। এইমসের পেডিয়াট্রিক বিভাগের সহ অধ্যাপক ডা. বিশেষ জৈন বলছেন, জন্ম থেকেই বাচ্চাটির কিডনির গঠন এমন ছিল যে ব্লাডারে প্রস্রাব আসছিলই না। ফলে বাচ্চাটির প্রস্রাব একেবারে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিডনির যেখানে বাধা তৈরি হচ্ছিল সেই জায়গাটাতে অপারেশন করার জন্যই ইনভ্যাসিভ ল্যাপারোস্কোপিক পদ্ধতির প্রয়োগ করা হয়।

কম ঘুমোলে অ্যালঝাইমার্সের ঝুঁকি বাড়ে? রোজ রাত জাগলে এই মারাত্মক রোগও হতে পারে

ডাক্তারবাবুরা বলছেন, খুব ছোট ছিদ্র করে তার ভেতর দিয়ে ক্যামেরা ঢুকিয়ে সমস্যার জায়গাটা চিহ্নিত করা হয়। তারপর ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি করা হয়। মাত্র দু’ঘণ্টাতেই নিখুঁত অপারেশন করা হয় দুটি কিডনিতেই। বাচ্চাটির অবস্থা এখন স্থিতিশীল। অপারেশন করার তিন দিনের মধ্যেই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাক্তাররা।

পেডিয়াট্রিক সার্জন বলছেন, এই অপারেশনের তিন মাস পরে রেনোগ্রাম নামে ফের একটি টেস্ট হবে শিশুটির। এই টেস্ট করলে বোঝা যাবে অপারেশনের পরে আর কোনও সমস্যা হচ্ছে কিনা বা কিডনি থেকে ব্লাডারে যে প্রবাহ হয় তাতে আর কোনও বাধা তৈরি হচ্ছে কিনা।

ডাক্তাররা বলছেন, ছোটবেলা থেকেই কিডনির অসুখ (Kidney disease) হয়েছে ভাবতেই পারেন না অনেকে। তাই লক্ষণ দেখা দিলেও এড়িয়ে যান অধিকাংশ বাবা-মায়েরাই। ফলে রোগ বাড়তে থাকে ভেতরে ভেতরে। ছোটদের ক্ষেত্রে মূলত স্ট্রাকচরাল, জেনেটিক, ইনফেকশন এবং ইমিউনোলজিক্যাল কারণে কিডনির সমস্যা দেখা দেয়। অনেক সময়ে প্রস্রাবের রাস্তায় ব্লক থাকে। এতে ইউরিন পাস হতে সমস্যা হয়, চাপ পড়ে কিডনির উপরে। বিষয়টি ব্যাখ্যা করে ডাক্তাররা বলেছেন, অনেকের কিডনি থেকে ইউরিন বেরোনোর পথ সরু থাকে। একে আমরা হাইড্রোনেফ্রোসিস বলে থাকি। ছেলেদের যেমন পেনিসের মধ্যে পস্টিরিয়র ইউরিথাল ভাল্ভ থাকে। পিইউভি থাকলে ইউরিন পাস হতে সমস্যা হয়। এগুলোর জন্যও ইনফেকশন হয়। এই রোগ যত তাড়াতাড়ি ধরা পড়বে, কিডনির ক্ষতি তত কম হবে। তবে সমস্যা থেকে রেহাই পেতে সার্জারিই একমাত্র উপায়।