মদের নেশায় বুঁদ জেন এক্স-জেন ওয়াই, চল্লিশের নীচে কমবয়সীরাই বেশি বিপদে

গুড হেলথ ডেস্ক

মদ না সিগারেট, কোন বেশি পছন্দ? এই প্রশ্ন করা হলে এখনকার ছেলেমেয়েরা উত্তর দেবে মদ। বন্ধুদের জমাটি আড্ডা হোক বা সান্ধ্য় পার্টি, মদের (Alcohol) আসর না বসলে মনটা যেন ঠিক তৃপ্ত হয় না। এমনকি হোটেল-রেস্তোরাঁয় খেতে গেলেও মদ মাস্ট। আগে কমবয়সীরা দল বেঁধে ক্যাফেতে যেত আড্ডা দিতে, এখন বারে যায়। নিরীহ ক্যাফেতে গিটারের সুরে ‘আড্ডাটা আজ আর নেই’। বরং মদের গ্লাসে চিয়ার্স করে চিকেন চিবিয়েই সুখ বেশি। এর সঙ্গে হার্ড রকে কোমর দোলাতে পারলে তো কথাই নেই। এক হাতে সিগারেট, অন্য হাতে পানপাত্র, এটাই এখনকার সময়ের স্টাইল স্টেটমেন্ট। নেশাতেই মজেছে কৈশোর-যৌবন। আর এতেই বিপদ ঘনিয়ে আসছে দেশের নবীন প্রজন্মের।

alcohol

‘কফি হাউসের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই’, বলে যতই নস্ট্যালজিয়ায় ডুবুন না কেন, এর নেপথ্য কারণটা কিন্তু অন্য। রসকসহীন আড্ডা এখনকার ছেলেমেয়েরা ঠিক পছন্দ করছে না। মদের ফোয়ারা না ছুটলে যেন জীবনটাই বৃথা। তাই ‘খাও আর বুঁদ হয়ে ডুবে যাও’– এতেই সুখ, এতেই স্বস্তি। মন খুশি হলেও মদ, আবার বিষাদে ডুবে গেলেও মদ। আনন্দেও মদ, আবার অবসাদেও মদ (Alcohol) । জেন এক্স-জেন ওয়াইয়ের জীবনের সঙ্গে যেন ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে মদ।

বৃষ্টি পড়লেই মদ, বন্ধুদের আড্ডায় চিয়ার্স! সঙ্গে এই খাবারগুলোও বিষাক্ত করছে শরীর

 alcohol

একটা সময় কমবয়সীরা মদ (Alcohol) ছুঁতে ভয় পেত। বাড়ির বড়দের আড়ালে আবডালে নেশা করতে দেখে দেখে কৌতুহল হত ঠিকই, কিন্তু কড়া অনুশাসনে সে দিকে মন দেওয়া ছিল নিষিদ্ধ। বাড়ির সবচেয়ে কনিষ্ঠ সদস্য মদ খেয়ে ফেলেছে মানে ছিল গর্হিত অপরাধ। ছোটরাও তাই তখন মদকে নিষিদ্ধ কোনও জিনিস বলেই জানত। কিন্তু এখন সময় পাল্টেছে। বড়দের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছোটরাও পাশাপাশি বসে মদ গিলছে। ওটাই ফ্যাশন। আর এই ফ্যাশনেই শরীরে বারোটা বেজে যাচ্ছে। বিশ্বজুড়েই সমীক্ষা বলছে, এখন প্রবীণদের চেয়ে নবীনদের মদের নেশা বেশি। চল্লিশ বছরের নীচে কমবয়সীরাই বেশি আসক্ত। সেখানে ছেলে-মেয়ে কোনও প্রভেদ নেই। ছেলেরাও যতটা অ্যালকোহলে-আসক্ত, মেয়েরাও ততটাই। আর সে কারণেই কমবয়সীদের মধ্যে ওবেসিটি, হার্টের রোগ, কিডনির অসুখ, মেটাবলিক ডিজিজের প্রকোপ বেশি। ডাক্তারবাবুরা প্রায়ই বলেন, হার্ট অ্যাটাক বা কার্ডিওভাস্কুলার রোগ এখন আর বয়স দেখে আসে না। কমবয়সীরাই এখন হার্টের অসুখে বেশি ভুগছে, মৃত্যুহারও বেশি। এর নেপথ্য কারণটাই হল জীবনযাপনে অসংযম ও মাত্রাতিরিক্ত নেশার প্রভাব। আসক্তি এতটাই যে তা সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। মদের সঙ্গে দেদার ফাস্ট ফুড খাওয়াও চলছে। পাকস্থলীও তাই বিদ্রোহ ঘোষণা করছে। মেদের পরে মেদের স্তর জমছে। ফ্যাট গিয়ে বাসা বাঁধছে হার্টের চারপাশেও। হাসফাঁস করে মৃত্যু ঘনিয়ে আসছে অজান্তেই।

alcohol

১৯৯০ থেকে ২০২০ সাল অবধি বিশ্বের ২০৪টি দেশে ১০০ কোটির বেশি কমবয়সীদের ওপর সমীক্ষা চালিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। দেখা গেছে, ১৫ থেকে ৩৯ বছর বয়সীরাই অ্যালকোহলের নেশায় বুঁদ। বেশিরভাগেরই কার্ডিওভাস্কুলার রোগ রয়েছে অথবা ওবেসিটি, ব্লাড প্রেসার-সুগার বা ইউরিক অ্যাসিড রয়েছে। কোলেস্টেরলের মাত্রাও বেশি। শরীরজুড়েই পরতে পরতে অসুখ বাসা বেঁধেছে।

Alcohol

লিভার বলে শরীরে আর কিছু নেই। গোটাটাই ঝাঁঝরা হয়ে গেছে। ডাক্তারবাবুরা বলছেন, অতিরিক্ত মদ্যপানের (Alcohol)  কারণে, লিভারে মেদ জমতে থাকে। এটা রোগের প্রাথমিক পর্যায়। ক্রমশই তা বিরাট আকার ধারণ করে। যার থেকে অ্যালকোহলিক হেপাটাইটিস এবং অন্তিম পরিণতি লিভার সিরোসিস। আমরা রোজ যে খাবার খাই তার থেকে পুষ্টিরস ছেঁকে নিয়ে বর্জ্য টক্সিনকে বার করে দেওয়াই লিভারের কাজ। অ্যালকোহল সেই টক্সিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। একটা সময় লিভার আর ছাঁকনির কাজ করতে পারে না, ফলে টক্সিন জমতে থাকে এবং লিভারে মেদ বাড়তে থাকে। লিভার ফুলতে শুরু করে দেয়, ইনফ্ল্যামেশন বা প্রদাহ তৈরি হয়। একে বলে অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার।  পরের ধাপ ফাইব্রোসিস। এই অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ (এএফএলডি)-এর চতুর্থ পর্যায় হল লিভার সিরোসিস বা লিভার ফেলিওর। এআরএলডি-র আরও একটা পর্যায় হল অ্যাকিউট অ্যালকোহলিক হেপাটাইটিস। জ্বালাপোড়ার মতো যন্ত্রণা হয় শরীরে। কোষে সিস্ট জমতে থাকে। অনেক সময় হেপাটোসেলুলার কার্সিনোমা বা লিভার ক্যানসারও দেখা দেয়।