স্তন ক্যানসার ধরা যাবে আগেভাগেই, আধুনিক প্রযুক্তিতে রক্ত পরীক্ষা করছে অ্যাপোলো

কোনও লক্ষণ বোঝা যাচ্ছে না। এদিকে ভেতরে ভেতরে ছড়িয়ে পড়ছে মারণ রোগ। ক্যানসারের ডায়াগনসিস অনেকসময়েই এত দেরিতে হয় যে রোগীকে বাঁচানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। কিন্তু অভিজ্ঞ অনকোলজিস্টরাই বলেন, এখন ক্যানসারের ট্রিটমেন্ট এতটাই উন্নত হয়েছে যে গোড়ায় রোগ ধরা পড়লে এবং সঠিক চিকিৎসা হলে রোগীকে বাঁচানো গেলেও যেতে পারে। ভারতীয় মহিলাদের মধ্যে স্তন ক্যানসার দিনে দিনে বাড়ছে। যদি উপসর্গ দেখে ধরা নাও যায়, তাহলেও এমন রক্ত পরীক্ষার পদ্ধতি আছে যা ক্যানসার ধরা ফেলবে সহজেই। এমনই উন্নত পদ্ধতি নিয়ে এসেছে অ্য়াপোলো ক্যানসার সেন্টার (Apollo Cancer Centre)।

দাতার ক্যানসার জেনেটিক্সের সহযোগিতায় স্তন ক্যানসার নির্ণয় করার যুগান্তকারী রক্ত পরীক্ষার পদ্ধতি নিয়ে এসেছে অ্যাপোলো ক্যানসার সেন্টার (Apollo Cancer Centre)। অ্য়াসিম্পটোমেটিক রোগী যার কোনও লক্ষণ বোঝা যাচ্ছে না তার শরীরে ক্যানসার ছড়াচ্ছে কিনা এবং রোগী কোন স্টেজে রয়েছে তা ধরা যাবে আধুনিক রক্ত পরীক্ষার পদ্ধতিতে। চিকিৎসকদের দাবি, নির্ভুল ভাবে ক্যানসার নির্ধারণ করা যাবে এই পদ্ধতিতে।

স্তন ক্যানসার সম্পর্কে অজ্ঞতা, স্তন নিয়ে অহেতুক স্পর্শকাতর হওয়া, লজ্জা পাওয়া এবং ‘সেল্ফ এগজামিনেশন’ বা নিজেই নিজের স্তন কী ভাবে পরীক্ষা করা যায়, সে সম্পর্কে ধারণা না-থাকার জন্য এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এমনও দেখা গেছে, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ ধরা পড়লেও কয়েক মাসের মধ্যে হু হু করে সেটা বেড়ে গিয়ে স্টেজ-ফোরে পৌঁছে যাচ্ছে। উন্নত মানের কেমোথেরাপিও রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। এক বার রোগ সেরে যাওয়ার কয়েক বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বার ক্যানসারের কবলে পড়েছেন এমন উদাহরণ অজস্র। কাজেই শুরুতেই যদি রোগ ধরা যায় তাহলে তাকে প্রতিরোধ করার উপায়টাও সহজ হয়ে যায়।

হাসপাতাল (Apollo Cancer Centre) সূত্রে জানা গেছে, ইজিচেক ব্রেস্ট ক্যানসার পদ্ধতিতে খুব সামান্য পরিমাণ রক্ত নিয়েও টেস্ট করা সম্ভব। ২২ জুন থেকে ভারতের সব অ্য়াপোলো ক্যানসার সেন্টারগুলিতে এই সুবিধা পাওয়া যাবে বলে জানা গেছে।

এই বিষয়টি নিয়ে অ্য়াপোলো হাসপাতালের কর্ণধার ও চেয়ারম্যান ডা. প্রথাপ রেড্ডি বলছেন, “বিশ্বমানের ক্যানসারের চিকিৎসা দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। ইজিচেক ব্রেস্ট চালু হলে সঠিক সময় রোগনির্ণয় ও চিকিৎসা করা যাবে। মৃত্যুহার কমবে। বছরে অন্তত একবার চেক করানোর অনুরোধ করছি। ”

দাতার ক্যানসার জেনেটিক্সের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান রঞ্জন দাতারের কথায়, “দুর্ভাগ্যবশত বেশিরভাগ ক্যানসারই এত দেরিতে ধরা পড়ে যে চিকিৎসার খরচ অনেক বেড়ে যায়। তাছাড়া রোগীর নানারকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও দেখা দেয়। ইজিচেক-ব্রেস্ট অনেক উন্নত পদ্ধতি নিয়ে এসেছে যাতে সহজেই অ্য়াসিম্পটোমেটিক রোগীদের অসুখ ধরা যাবে প্রাইমারি স্টেজেই।”

অ্য়াপোলো হসপিটাল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের অঙ্কোলজি ও ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপের প্রেসিডেন্ট দীনেশ মাধবন বলেছেন, “দাতার ক্যানসার জেনেটিক্সের হাত ধরে আমরা সবচেয়ে আগে ক্যানসার নির্ণয় করার আধুনিক পদ্ধতি নিয়ে এসেছি। ক্যানসার জয় করার এটাই প্রথম পদক্ষেপ।”