সিগারেটের থেকেও ক্ষতিকর, বাড়ায় ক্যানসারের ঝুঁকি, শহরে হুক্কা বার বন্ধের সিদ্ধান্তে কী বললেন ডাক্তারবাবু

ডা. শুভদীপ চক্রবর্তী

একটা পরিসংখ্যান বলছে সারা আমাদের দেশে যত ক্যানসার হয়, তার চল্লিশ শতাংশই আক্রান্ত ‘হেড অ্যান্ড নেক’ ক্যানসারে। অর্থাৎ ‘মুখ ও গলার’ ক্যানসার। এই ধরনের ক্যানসারের কারণ বিশ্লেষণ করতে গেলে দেখা গিয়েছে, মোট আক্রান্তের মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ কখনও না কখনও কোনও না কোনও ভাবে তামাকজাত দ্রব্যের (Tobacco) নেশা করেছেন। অর্থাৎ হেড অ্যান্ড নেক ক্যানসার ও টোব্যাকো পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত। সিগারেট, হুক্কা, গুটখার মতো নেশার জিনিসে ক্যানসারের ঝুঁকি বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়।

Hookah bars

কলকাতা শহরে হুক্কা (Hookah) বার বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে পুরসভা। খুবই ভাল সিদ্ধান্ত যদি তা সঠিকভাবে কার্যকরী হয়। হুকা (Hookah) নিয়মিত টানলে বা আসক্ত হয়ে পড়লে শ্বাসকষ্টের সমস্যা অনেক বেড়ে যায়। হুকার ধোঁয়ায় অনেক বেশি বিষাক্ত রাসায়নিক থাকে যা শ্বাসনালীর ক্ষতি করে। ফুসফুসের ক্যানসার, হৃদরোগের সম্ভাবনা বহুগুণে বাড়িয়ে দেয় হুকা। অন্তঃসত্ত্বা মহিলারা বেশ হুকা খেলে গর্ভপাতের আশঙ্কা বেড়ে যায়।

হেড অ্যান্ড নেক ক্যানসারের জন্য তামাক ভীষণ ভাবে দায়ী। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অর্থাৎ হু জানিয়েছে, টোব্যাকো থেকে দূরে থাকলে ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকটা কমবে। এটা গবেষণালব্ধ ও তথ্যপ্রমাণ-সহ নির্ধারিত। দেখা যাচ্ছে, আমাদের দেশে গুটখা, পানমশলা, সিগারেট, বিড়ি, হুক্কা (Hookah)– সব রকম নেশার জিনিস নেওয়ার অভ্যেস মানুষের। এগুলোই কিন্তু ওরাল ক্যানসারের প্রধান কারণ।

Hookah

সিগারেটের ধোঁয়ায় থাকে নিকোটিন যা ফুসফুসের জন্য বিষ। হুক্কার ধোঁয়া তৈরি হচ্ছে চারকোল থেকে। এর সঙ্গেই মিশছে তামাক। দুয়ে মিলে বিষাক্ত টক্সিন ঢুকছে ফুসফুসে। ফলে শ্বাসনালী ও ফুসফুসের ক্ষতি অনেক বেশি হচ্ছে। কমবয়সীদেরই ভিড় বেশি হয় হুক্কা বারে। তাই কম বয়স থেকেই ক্যানসারের মতো মারণ রোগ ধরছে অনেকের।

একটা আস্ত সিগারেট খেতে কম করেও ২০ বার টান দিতে হয়, হুক্কায় অন্তত ২০০ বা তার বেশি টান দিতে হয়। প্রতি টানে বিষাক্ত টক্সিন ঢোকে শরীরে। একটা হুক্কা শেষ করা মানে পাহাড়প্রমাণ বিষ ঢোকে শরীরে। সিগারেটের ধোঁয়ার থেকে আড়াই গুণ বেশি নিকোটিনও ঢোকে শরীরে।

ই-সিগারেটের মতোই আজকাল ই-হুক্কা বা ইলেকট্রিক হিট হুক্কা (Hookah)বাড়বাড়ন্ত। একটা ই-সিগারেটে যতটা নিকোটিন ঢুকবে ফুসফুসে, ই-চারকোল পুড়লে ফুসফুসের ৮০ শতাংশই ক্ষতিগ্রস্থ হবে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ফুসফুস জবাব দেবে। এক ঘণ্টা ধরে হুক্কা খেলে তা ১০০টি সিগারেট খাওয়ার সমান হয়। এ ছাড়া, একই পাইপ একাধিক লোকের মুখে ঘোরার ফলে সংক্রামক ব্যাধি ছড়ানোর আশঙ্কাও থাকে।অ্যামোনিয়া, হাইড্রোজেন সায়ানাইড, ফরম্যালডিহাইডের মতো রাসায়নিকও থাকে হুক্কায়।