স্ট্রোক হওয়ার ৪ ঘণ্টার মধ্যে দিতে হবে এই ইঞ্জেকশন

গুড হেলথ ডেস্ক

মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলে বিঘ্ন হলেই স্ট্রোক হয়। কোনও কারণে মস্তিষ্কের রক্তবাহী ধমনীর পথ সংকীর্ণ হয়ে বা বাধাপ্রাপ্ত হয়ে রক্ত চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়, তখন অক্সিজেনের অভাবে ব্রেন (Brain Stroke) কাজ করা বন্ধ করে দেয়। তখন যে শারীরিক অবস্থা তৈরি হয় তাকে স্ট্রোক (Brain Stroke) বলে। স্ট্রোক হলে বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে হাসপাতালে যাওয়ারই পরামর্শ দেন ডাক্তারবাবুরা। স্ট্রোক হওয়ার পরবর্তী চার ঘণ্টা সময়েই সবচেয়ে দামি। এই সময়টাকে বলে ‘গোল্ডেন আওয়ার’। এই সময়তে সঠিক পদক্ষেপ করতে পারলে তবেই রোগীর প্রাণে বাঁচার সম্ভাবনা থাকে।

স্ট্রোকের (Brain Stroke) পরের চার ঘণ্টায় কী কী চিকিৎসা করেন ডাক্তাররা?

ডাক্তারবাবুরা বলছেন, সঠিক সময় হাসপাতালে নিয়ে এসে চিকিৎসা শুরু করলে রোগীকে বাঁচানো যেতে পারে। গোল্ডেন আওয়ারের মধ্যে হাসপাতালে নিয়ে এসে সবচেয়ে আগে রোগীর সিটি স্ক্যান করতে হবে। এমআরআই (MRI) করার ব্যবস্থা থাকলে আরও ভাল।

রোগীর শারীরিক অবস্থা দেখে ডাক্তারবাবুরা প্রয়োজন মতো সিটি স্ক্যান, এমআরআই, ডপলার আলট্রাসাউন্ড পরীক্ষা করেন।

রোগীর যদি ইস্কিমিক স্ট্রোক (Ischemic Stroke) হয় তাহলে সবচেয়ে আগে টিপিএ (টিস্যু প্লাসমিনোজেন অ্যাক্টিভেটর) ইঞ্জেকশন দিতেই হবে। স্ট্রোক হওয়ার চার ঘণ্টার মধ্যে এই ইঞ্জেকশন দিতে পারলে ব্রেনের যে অংশে রক্ত জমাট বেঁধেছে, সেখানে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে।

Brain Stroke

মস্তিষ্কে যদি ব্লাড ক্লট (Blood Clot) বেশি হয় তাহলে গুরুত্ব বুঝে মস্তিষ্কে স্টেন্টও বসানো হয়।

রোগীর যদি হেমারেজিক স্ট্রোক  (Brain Stroke)  হয়, তাহলে অন্যান্য কোমর্বিডিটি যেমন হার্টের অসুখ, ডায়াবেটিস, হাই কোলেস্টেরল আছে কিনা দেখে নিয়ে রোগীকে ভেন্টিলেশনে রেখে পর্যবেক্ষণ করেন ডাক্তাররা। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়।

ব্রেন স্ট্রোকের কারণে শরীরের একদিক যদি অসাড় হয়ে যায় বা রোগী পঙ্গুত্বের শিকার হন তাহলে নিয়ম মেনে চিকিৎসার পর উপযুক্ত রিহ্যাবিলিটেশনের ব্যবস্থা করেন ডাক্তাররা।

চশমা-লেন্স পরতে হবে না, চোখের পাওয়ার শূন্যে নামিয়ে আনবে ল্যাসিক সার্জারি

মিনি স্ট্রোক বা টিআইএ হলেও সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে আসা উচিত । তাড়াতাড়ি চিকিৎসা শুরু করলে ভবিষ্যতে বড় রকম দুর্ঘটনা এড়ানো যেতে পারে। হার্টে রক্ত চলাচলের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হলে তবু কিছু ক্ষণ লড়াইয়ের সুযোগ থাকে। কিন্তু মস্তিষ্ক বেশি ক্ষণ বাঁচতে পারে না। ইস্কিমিক স্ট্রোক হলে প্রতি সেকেন্ডে মস্তিষ্কের ৩২ হাজার কোষের মৃত্যু হতে থাকে। ফলে সময়টা এ ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকরা বলেন,‘টাইম ইজ ব্রেন’। চিকিৎসায় দেরি হলে প্যারালিসিস হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে। সুতরাং স্ট্রোকের লক্ষণ দেখলেই হাসপাতালে ভর্তি করে দেওয়া উচিত।