Brain Tumour: ব্রেন টিউমার সারাতে আসছে নতুন ওষুধ, সার্জারি বা রেডিয়েশনের বিপদ কমবে

গুড হেলথ ডেস্ক

মাথার ভেতর অসহ্য যন্ত্রণা। বমি বমি ভাব। ঝাপসা হয়ে আসছে দৃষ্টি। মাইগ্রেনের ব্যথা নয় তা টের পাওয়া যাচ্ছে ভালভাবেই। তাহলে কি টিউমার (Brain Tumour)? ব্রেন টিউমার হয়েছে শুনলে আতঙ্কেই রোগী মরমর দশায় পৌঁছে যায়। আর যদি সে টিউমর ম্যালিগন্যান্ট হয়, মানে ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি হতে থাকে, তাহলে তো কথাই নেই। সার্জারি বা রেডিয়েশন থেরাপি ছাড়া গতিই নেই। এতদিন ব্রেন টিউমারের জন্য তেমনভাবে কোনও ওষুধের থেরাপি আসেনি। প্রথমবার ব্রেন টিউমারের চিকিৎসার জন্য ওষুধ আনতে চলেছেন বিজ্ঞানীরা।

স্তন ক্যানসারের থেরাপিতে এই ওষুধ কাজে লাগে। এর নাম অ্যাবেম্যাকসাক্লিব। এক ধরনের সেল সাইকেল ইনহিবিটর যা কোষের অনিয়ন্ত্রিত বিভাজন বন্ধ করে। ফলে রোগগ্রস্থ কোষগুলি বিভাজিত হয়ে সংখ্যায় বাড়তে পারে না। টিউমারের (Brain Tumour) বাড়বৃদ্ধি হয়। ‘নেচার জেনেটিক্স’ মেডিক্যাল জার্নালে এই গবেষণার খবর সামনে এসেছে।

Brain Tumour

মস্তিষ্কের ঠিক কোন জায়গায় টিউমার বাসা বেঁধেছে, বা সেই টিউমার ম্যালিগন্যান্ট কিনা তা সঠিকসময় চিহ্নিত করা যায় না। রোগ ধরতে দেরি হওয়ায় চিকিৎসা শুরু হতেও দেরি হয়। অনেক সময়েই দেখা যায় বিনাইন টিউমারও ম্যালিগন্যান্ট হয়ে উঠেছে শুধু ঠিক সময় থেরাপির অভাবে। কাজেই প্রাইমারি হোক বা সেকেন্ডারি টিউমার তা চিহ্নিত করা জরুরি। আর মাথার ঠিক কোন জায়গায় টিউমার হয়েছে বা কোষের অনিয়মিত বৃদ্ধি হতে শুরু করেছে, তাও জানতে পারলে ট্রিটমেন্ট ঠিকভাবে হওয়া সম্ভব।

The Most Common Symptoms of a Brain Tumor | University of Utah Health

ব্রেন টিউমারের (Brain Tumour) লক্ষণ এক এক সময়ে এক এক রকম হতে পারে। এর প্রধান বা স্বাভাবিক লক্ষণ হচ্ছে মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া এবং দৃষ্টিশক্তি ক্রমশ কমে যাওয়া। এ ছাড়াও অনেক সময় রোগীর অন্য লক্ষণও দেখা দিতে পারে। যেমন, রোগীর খিঁচুনি হতে পারে অথবা শরীরের যে কোনো এক দিকের হাত বা পা দুর্বল হয়ে যায় অথবা তার মানসিক অবস্থার পরিবর্তন হতে পারে অর্থাৎ তার আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখা দেবে। অনেক ক্ষেত্রে হরমোনের নিঃসরণের আধিক্য বা ঘাটতি দেখা দিতে পারে। পোস্ট সার্জারি পর্বেও অনেকের হাতে-পায়ে ব্যথা, খিঁচুনি হতে দেখা যায়।

Cancer: ব্রেকফাস্টে এই তিনটে জিনিস নিয়মিত খান? স্তন ও লিভার ক্য়ানসারের ঝুঁকি বাড়ছে

Abemaciclib

ক্যালিফোর্নিয়ার নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি ও হংকং-এর বিজ্ঞানীরা এই ওষুধ নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছেন। এই ওষুধের মূল কাজ হল সেইসব প্রোটিনগুলোকে ব্লক করে দেওয়া যারা ক্যানসার কোষগুলির বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। ওই প্রোটিনগুলোকে খুঁজে বের করে তাদের নিষ্ক্রিয় করে দিলেই ক্যানসার কোষের বিভাজন বন্ধ হবে। ফলে রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারবে না। ইঁদুরের মস্তিষ্কের কোষ নিয়ে গবেষণা চালিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ের রিপোর্ট দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। পরীক্ষা আরও অনেক বাকি। সবকটি টেস্টে সাফল্য এলে ব্রেন টিউমারের থেরাপি অনেক সহজ ও কম যন্ত্রণাদায়ক হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।