গলব্লাডারে স্টোনের সঙ্গেই জরায়ুতে সিস্টের অপারেশন, নজির গড়ল কল্যাণীর হাসপাতাল

গুড হেলথ ডেস্ক

গলব্লাডারে স্টোন নিয়ে কল্যাণীর জেএনএম হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন প্রৌঢ়া। ডাক্তারবাবুরা সার্জারির আগে টেস্ট করতে গিয়ে দেখেন সমস্যা শুধু একটা নয়। প্রৌঢ়ার জরায়ুতেও সিস্ট রয়েছে। একদিনে গলব্লাডারে স্টোন, অন্যদিকে ওভারিয়ান সিস্ট, দুয়ের সার্জারি হাসপাতালের দুই পৃথক বিভাগে হওয়ার কথা। কিন্তু জেনারেল মেডিসিন ও গাইনিকোলজি দুই বিভাগের ডাক্তাররাই একসঙ্গে অপারেশন করানোর সিদ্ধান্ত নেন। আর তাতেই সাফল্য আসে।

সাধারণত জেনারেল মেডিসিন ও গাইনিকোলজির ট্রিটমেন্ট একসঙ্গে করেন না ডাক্তারবাবুরা। কিন্তু এক্ষেত্রে ৬৮ বছরের এক মহিলার এমন শারীরিক অবস্থায় দুই বিভাগই একসঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেয়। কল্যাণীর জেএনএম হাসপাতালে তৈরি হয় মেডিক্যাল টিম।

Kalyani Hospital

জেএনএম হাসপাতালের গাইনিকোলজিস্ট সহকারী অধ্যাপক মৃগাঙ্ক মৌলী সাহা ও শল্য শল্য চিকিৎসক ডা. রাসবিহারী হেমব্রমের নেতৃত্বে একই সঙ্গে গলব্লাডারে স্টোন ও ওভারিয়ান সিস্টের অপারেশন হয় ওই মহিলার। ডাক্তারবাবুরা বলছেন, মহিলার বয়স ৬৮ বছর পেরিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আলাদা আলাদা করে সার্জারি করার ঝুঁকি নিতে চাননি ডাক্তারবাবুরা।

এই শতাব্দীর মেয়েদের সবচেয়ে বড় শারীরিক সমস্যা ওভারিয়ান সিস্ট। হরমোনের সমস্যা, অনিয়মিত পিরিয়ড, অল্পবয়সে ঋতুস্রাব শুরু হওয়া, অতিরিক্ত ইত্যাদি নানা কারণে সিস্টের সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন মহিলারা। বয়ঃসন্ধিতে সমস্যা শুরু হলেও, দেরিতে বিয়ে, দেরিতে সন্তানের কারণে ক্রমশই বাড়ছে সমস্যা। ওভারিতে সিস্ট হওয়ার অন্যতম কারণ ইস্ট্রজেন হরমোনের সাম্য নষ্ট হওয়া। ইস্ট্রজেনের পরিমাণ বেড়ে গেলে ওভিউলেশন অনিয়মিত হয়। যার ফলে ওভারিতে সিস্ট তৈরি হয়।  সিস্ট ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রেই বিনাইন অর্থাৎ ক্যানসারহীন। তবে সিস্ট হলে সংশ্লিষ্ট অংশে ব্যথা-যন্ত্রণা হতে পারে। ওই অঙ্গের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হতে পারে। ওভারিয়ান সিস্ট হলে তা সার্জারি করে দেন ডাক্তারবাবুরা। সিস্টের অস্ত্রোপচারে বাকি ডিম্বাশয়ের কোনও ক্ষতি হয় না।

পাঁচ জন চিকিৎসক এক ঘণ্টা ধরে অপারেশন করেন। অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর। ডাক্তারবাবুরা বলছেন, সরকারি হাসপাতালে দুই বিভাগের ডাক্তরাবাবুদের একসঙ্গে এমন অপারেশন করার সিদ্ধান্ত নজিরবিহীন। কল্যাণীর জেএনএম হাসপাতাল সেখানে দারুণ কাজ করেছে।