পাহাড়ে গেলে ফ্রায়েড মোমো খান, সৈকতে মাছ ভাজাও চলবে, সুগার রোগীদের বেড়াতে যাওয়ার ডায়েট

গুড হেলথ ডেস্ক

অষ্টপ্রহর ডায়েট ডায়েট করে মাথা ঘামিয়ে লাভ নেই। বাইরে ঘুরতে গিয়ে একটু আধটু রসালো খাবার খেতে কার না ইচ্ছা করে! আর সুগার রোগীদের (Diabetes Diet) তো বিষম জ্বালা। এটা খাওয়া যাবে না, ওটা না। মনে হয় জীবন থেকে অনেক কিছু চলে গেল। ঘুরতে গিয়ে পরিবারের সকলে বা বন্ধুবান্ধবেরা যখন রসিয়ে খাবেন, তখন নেহাত ডায়াবেটিসের কারণে কি শুধু দেখেই তৃপ্তি পাবেন! তেমনটা মোটেও নয়। বাইরে গিয়ে নিয়ম মেনেও ভালমন্দ খাওয়া যায়, পুষ্টিবিদরা বলে দিচ্ছেন উপায়।

ডায়াবেটিস রোগীদের (Diabetes Diet) জন্য সমস্যা তখনই হয় যখন রক্তে কার্বোহাইড্রেটের মাত্রা অনেকটা বেড়ে যায়। তখন সুগারের মাত্রাও বাড়ে। এইভাবে ক্রমাগত সুগার ওঠানামা করতে থাকলে তখন তা শরীরের নানা অঙ্গ যেমন চোখ, কিডনি, নার্ভের ক্ষতি করে। বাড়িতে বা অফিসে থাকলে অর্থাৎ চেনা চৌহদ্দির মধ্যে খাবারদাবার নিয়ম মেনে খাওয়া যায়। কিন্তু বাইরে ঘুরতে গেলে সেই পরিচিত নিয়মের গণ্ডিতে থাকা সম্ভব হয় না। বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি পথে সমস্যা বেশি হয়। তখন নিজের সঙ্গে শুকনো খাবার রাখতেই হবে। তাই শুরু থেকেই সামান্য কিছু নিয়ম মানলে পরে গিয়ে সমস্যা হয় না।

Travel Tips For Diabetes Patients

ঘুরতে গিয়ে যে হোটেলেই উঠবেন সেখানে আগে থেকে বলে রাখুন ব্রেকফাস্টে টোস্ট, ডিম সেদ্ধ বা হাতে গড়া রুটি খাবেন। লাঞ্চে ভাত, ডাল, সব্জি, হাল্কা মাছের ঝোল খেয়ে নেওয়া যায়। রাতের খাওয়ায় চিকেন কষা খেতেই পারেন। সঙ্গে রুটি, সব্জি, স্যালাড রাখুন।

যতদিন থাকবেন মোটামুটি এই রুটিন মানুন। এখন মনে হতেই পারে, বাড়িতেও একই খাবার আবার বেড়াতে গিয়েও সেই চেনা খাবার আর মুখে রুচছে না। তাহলে খুচরো খিদে মেটাতে চটপটা স্ন্যাকস রাখতেই পারেন। পাহাড়ে গেলে ফ্রায়েড মোমো খান, এক আধবার ইচ্ছে হলে নুডলস খান, তবে আটা নুডলস খাওয়াই ভাল। চেষ্টা করুন কার্বোহাইড্রেট কম খেতে। আলু পরোটা, কাবাব, বিরিয়ানি খাবার সাধ জাগলে আর রসনাকে কষ্ট দেবেন না। তবে হ্যাঁ, হামলে পড়ে কোনও কিছুই একগাদা খেয়ে ফেলবেন না। রসনাকে তুষ্ট করুন ঠিক আছে, কিন্তু বুঝে খান। ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য সারাদিনের ক্যালোরি মেপে খাওয়াটা খুবই জরুরি। যেদিন লাঞ্চে বিরিয়ানি আর কাবাব খেলেন, সেদিন ডিনারে হাল্কা স্যুপ আর স্যালাড রাখুন। সেদিনটা অন্যান্য কার্বোহাইড্রেট বাদই দিন। আর হ্যাঁ, বিরিয়ানির পরে কিন্তু কোল্ড ড্রিঙ্কস খেলে চলবে না। 

বন্ধ্যত্বের কারণ কি টিউবাল ব্লকেজ, কী ধরনের চিকিৎসায় মা হওয়া সম্ভব

 Fish Fry

মনে রাখবেন, ডায়াবেটিসে সময়ে সময়ে খাওয়াটা জরুরি। পাহাড়ে ঘুরতে গেলে সেটা সম্ভব হয় না অনেকসময়েই। হতেই পারে পরবর্তী গন্তব্য ঘণ্টা পাঁচেকের দূরত্বে। এই পাঁচ ঘণ্টা পেট খালি রাখলে চলবে না। তাতে রক্তে সুগারের মাত্রা নেমে গিয়ে হাইপোগ্লাইসেমিয়া হতে পারে। তাই সঙ্গে শুকনো খাবার যেমন ছোলা ভাজা, পপকর্ন রাখুন। নিয়ে যেতে পারেন ফল। তবে চিনি দেওয়া ফলের রস খাবেন না।

সমুদ্র সৈকতে গিয়ে যদি লাল লাল ডিপ ফ্রাই করা মাছ ভাজা খেতে ইচ্ছে করে, তাহলে খান না! তবে দেখে নেবেন তেল যেন পোড়া না হয় আর দোকানের পরিচ্ছন্নতার দিকটাও মাথায় রাখবেন। সন্ধের সময় মাছ ভাজা আর স্যালাড মন্দ হবে না। দুপুরে ডাবের জলও খেতে পারেন। গরমে সমুদ্রে বেড়াতে গেলে ঘাম হয় খুব। তখন শরীর থেকে ঘামের সঙ্গে ইলেকট্রোলাইটস বেরিয়ে যায়। তাই ডাবের জল সেক্ষেত্রে উপকারি। 

ঘোরাঘুরি করার সময় মনে দুশ্চিন্তা রাখবেন না। মন খুলে ঘুরুন। এতে মানসিক চাপ কম হবে। আর মন ভাল থাকলে শরীরও তরতাজা থাকবে।