মৃগী কেন হয়? আতঙ্ক নয়, বিশ্ব এপিলেপ্সি দিবসে রোগ জয়ের বার্তা দিচ্ছেন ডাক্তারবাবুরা

গুড হেলথ ডেস্ক

মৃগী (Epilepsy) হল নিউরোলজিক্যাল ডিসঅর্ডার। স্নায়ুজনিত সমস্যার কারণে এই রোগ হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই জিনগত কারণে এই সমস্যা দেখা যায়। সদ্যোজাত থেকে শুরু করে বয়স্কদেরও এই রোগ হতে পারে (National Epilepsy Day 2022)। মৃগী ধরা পড়লেই আতঙ্ক শুরু হয় রোগী ও তার পরিবারের। মৃগীর খিঁচুনি মারাত্মক,  বাচ্চাদেরও হয়। বিশেষজ্ঞ ডাক্তারবাবুরা বলছেন, মৃগী ধরা পড়লে প্যানিক না করাই ভাল। এতে রোগীর মনের ওপর চাপ বাড়ে। এখনকার সময় মৃগী বা এপিলেপ্সির ওষুধ বেরিয়ে গেছে। কাজেই রোগ হারিয়ে সুস্থ জীবনে ফেরা সম্ভব।

epilepsy

কেন হয় মৃগী?

মৃগী (National Epilepsy Day 2022) মূলত মস্তিষ্কের স্নায়ুজনিত সমস্যা। পরিবারে এরকম ইতিহাস থাকলে, গর্ভকালীন জটিলতা বা প্রি-ম্যাচিয়োরড শিশুদের ক্ষেত্রে শরীরে ক্যালসিয়াম কম থাকলে বা হঠাৎ শরীরে সুগারের মাত্রা কমে গেলে মৃগী হতে পারে। গর্ভকালীন সময়ে মাথার আঘাতজনিত কারণে, জন্মের পরই জন্ডিসের মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ার জন্যও এ রোগ হয়ে থাকে। তাছাড়া ছোট বেলায় কোনও কারণে মস্তিষ্কে ইনফেকশনের কারণে পরে খিঁচুনি হতে পারে (Epilepsy)।

বয়স্কদের ক্ষেত্রে মাথায় গুরুতর আঘাত লেগে থাকলে, টিউমর বা স্ট্রোকের কারণে এপিলেপ্সি হতে পারে। মানুষের মস্তিষ্কে অসংখ্য স্নায়ুর জাল থাকে। এই স্নায়ু মিলেমিশে সার্কিট তৈরি করেছে। স্নায়ুর সার্কিট থেকে সিগন্যাল মস্তিষ্ক ও সারা শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে পৌঁছয়। এইভাবে সারা শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সঞ্চালন নিয়ন্ত্রণ করে স্নায়ু। যদি স্নায়ুর সার্কিটে কোনও গন্ডগোল হয় বা অতিরিক্ত ‘স্পার্কিং’ হয়, তখন মৃগী রোগ হতে দেখা যায়। পেশির খিঁচুনি শুরু হয়। তবে জিনগত কারণেও মৃগী হতে দেখা যায়।

Epilepsy

মৃগীর প্রকারভেদ আছে

এই রোগ মোটামুটি দু’ধরনের হতে পারে। প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি। প্রাইমারি এপিলেপ্সিতে ব্রেনের গঠন স্ট্রাকচারে কোনও ড্যামেজ হয় না। এক্ষেত্রে স্নায়ুর সার্কিটে ইলেকট্রিকাল ইমপাল্স তৈরিতে কোনও সমস্যা হলে মৃগী হয়। আর সেকেন্ডারি হল মাথায় চোটের কারণে যখন ব্রেন ড্যামেজ হয়। মাথায় টিউমার হলে, দুর্ঘটনার কারণে চোট পেলে বা শরীরে হঠাৎ সোডিয়ামের পরিমাণ কমে গেলে হতে পারে সেকেন্ডারি এপিলেপ্সি।

কী কী লক্ষণ দেখে সতর্ক হবেন?

মৃগীর (Epilepsy) ক্ষেত্রে জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি একটা বড় লক্ষণ ঠিকই। তবে জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি হলেই মৃগী— তা কিন্তু নয়। খিঁচুনি যদি ১০-১৫ মিনিটের বেশি স্থায়ী হয়, ঘন ঘন হয় ও শরীরের কোনও একটি পাশে খিঁচুনি হতে থাকে তাহলে সতর্ক হতে হবে। রোগী যে কোনও সময়ে এপিলেপ্সির শিকার হতে পারেন। তবে সব ক্ষেত্রেই যে তিনি মাটিতে পড়ে গিয়ে ছটফট করবেন— এমনটা না-ও হতে পারে। এপিলেপ্সির কারণে সাময়িক অন্যমনস্কতাও আসতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাচ্চাদের ক্ষেত্রে একটু বেশি সতর্কতা প্রয়োজন। এমন হলে শিশুর মস্তিষ্কের এমআরআই ও ইইজি করিয়ে রাখতে হবে। মৃগী থাকলে তা ধরা পড়বে সহজেই।

Epilepsy

চিকিৎসা আছে, চিন্তা নেই

রোগীর সমস্যাটি কোন পর্যায়ে রয়েছে, সেটা বোঝার জন্য এমআরআই এবং ইইজি করার পরামর্শ দেওয়া হয়। ডায়াগনসিস প্রক্রিয়া শেষ হলে রোগের মাত্রা বুঝে রোগীকে ওষুধ দেওয়া হয়। এপিলেপ্সির ওষুধ আছে। প্রায় ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রেই রোগ নিরাময় সম্ভব। মৃগী রোগকে জয় করার সেরা উপায় হল মনোবল বাড়ানো। এ ক্ষেত্রে রোগীর পরিবারের সদস্যদের সবচেয়ে বেশি সচেতন থাকতে হবে। এই রোগকে হারিয়েও যে সুস্থ জীবনযাপন করা সম্ভব।

সঠিক সময়ে চিকিৎসা ও নিয়ম করে ওষুধ খেলে মৃগী (Epilepsy) নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। এই রোগ ছোঁয়াচে নয়, তাই মৃগী হলে সেই শিশুকে অবহেলা করা ঠিক নয়।

শিশু সুস্থ থাকলেও নিয়ম করে কয়েক মাস অন্তর চিকিৎসকের কাছে যান, রুটিন পরীক্ষাগুলো করিয়ে রাখুন। জ্বর কোনও ভাবেই বাড়তে দেওয়া যাবে না। তাই জ্বরের ওষুধ বাড়িতে রেখে দিন। শিশুর স্বাভাবিক ঘুমে যেন কোনও প্রকার ঘাটতি না হয়। খিঁচুনি হওয়ার সময় শিশুকে নির্দিষ্ট একটা পাশ ফিরিয়ে শুইয়ে দিন। ১০-১৫ মিনিটের বেশি খিঁচুনি থাকলে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।

খিঁচুনি আক্রান্ত রোগী যখন তখন জ্ঞান হারাতে পারে এবং জ্ঞান ফিরে পাওয়ার পরও কিছু সময়ের জন্য তার মানসিক বিভ্রম হতে পারে। তাই পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় আসার আগে তার পরিচর্যা করতে হবে।