আবহাওয়া বদলেই কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বাড়ে, ওষুধ নয় সমাধান হবে ঘরোয়া উপায়েই

গুড হেলথ ডেস্ক

গোড়ায় গণ্ডগোল কিন্তু সেই পেট। দিনের শুরুটা যদি পেট বাবাজির মুখ ভার থাকে, তাহলে সারাদিনই মেঘ জমবে। আর পেট খোলসা করতে গেলে কথাই নেই। কেউ যেন সজোরে চাবুক কষাবে মলদ্বারে। তীব্র যন্ত্রণা। কোষ্ঠকাঠিন্য নিয়ে নাকাল মানুষদের সংখ্যা বড় কম নয়। আর কোষ্ঠকাঠিন্য (constipation) নিয়ে কেউ সচরাচর খোলাখুলি আলোচনা করেন না। ফলে সমাধানসূত্র খুঁজে বের করতেও অনেকটাই দেরি হয়ে যায়। মনে রাখবেন, আপনার ত্বক ও চুলের সমস্যার জন্যও কিন্তু কোষ্ঠকাঠিন্য অনেকাংশে দায়ী। তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই সমস্যা থেকে মুক্তির রাস্তা খুঁজে বের করুন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দৈনিক জীবনে খুব সাধারণ কিছু পরিবর্তন আনলেই এই সমস্যা দূর হবে। মুঠো মুঠো ওষুধও খেতে হবে না।

constipation

ছোট বাচ্চাদের মধ্যেও কোষ্ঠকাঠিন্যের (constipation)  সমস্যা ইদানীং বেশিই দেখা যাচ্ছে। যার কারণ তাদের খাওয়ার অভ্যাস। ফাইবারের বদলে জাঙ্ক ফুডে আসক্তি বেশি। তা সে যাই হোক, অনেক সময়েই বাচ্চাদের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয় না। চাপ দিয়ে মলত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শরীর তার নিয়ম মেনেই কাজ করবে। মলদ্বারে বেশি চাপ পড়া মানেই পাইলসের মতো উটকো রোগও এসে হানা দেবে।

 Constipation

তিন ধরনের কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা যায়–নরম্যাল ট্রানজিট একদিন-দু’দিনের মতো সমস্যা। তবে সচেতন না হলে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। স্লো ট্রানজিট– একটু একটু করে মাথাচাড়া দেয় কোষ্ঠকাঠিন্য। পেট সাফ না হওয়ার সমস্যা লুকিয়ে গেলে শিকড় গেড়ে বসে পাকাপাকিভাবে। ধীরে ধীরে মলের সঙ্গে রক্ত বেরোতে দেখা যায়। ক্রনিক-ছ’মাসের বেশি লাগাতার এই সমস্যা চললে তাকে বলা হয় Outlet defecation syndrome (ODS)। ডাক্তারের কাছে গিয়ে সঠিক চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।

দীর্ঘদিন ধরে কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগতে থাকলে শরীরের ক্ষতি হতে পারে। প্রথম থেকে সতর্ক না হলে এই রোগ খিদে কমিয়ে দেয়। খাবারে অনীহার দরুন ঘাটতি পড়ে পুষ্টিতে। সেই সঙ্গে পেটের যন্ত্রণা হয়ে উঠতে পারে নিত্যসঙ্গী। হতে পারে অর্শ, আলসারও।

সমাধান কীসে?

ফাইবার আপনার কোষ্ঠ বা মলকে নরম রাখে। তাই প্রচুর পরিমাণে ফাইবার জাতীয় খাবার খেতে হবে। ফল, শাবসবজি, যেকোনও দানাশস্য, বাদাম খেতে হবে।

যদি আপনার শরীরে জলের জোগানে ঘাটতি থাকে, তা হলে কিন্তু কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বাড়তে পারে। বিশেষ করে ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার খেলে জলের পরিমাণ বাড়াতেই হবে, কারণ ফাইবার জল শোষণ করেই কার্যকর হয়ে ওঠে।

প্রোটিন ডায়েট শরীরের পক্ষে উপকারি। কিন্তু বেশি প্রোটিন খেতে হলে সঙ্গে ফাইবারের মাত্রা বাড়ান। প্রতিদিন সন্ধ্যায় কয়েকটা আমন্ড ও অঙ্কুরিত ছোলা খান। মুগের দানাও খেতে পারেন। কালো বা সবুজ মুগের দানা তেল ছাড়া কড়ায় টেলে নিয়ে রেখে দিন। এগুলিতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে।

Diet Chart For Constipation

প্রতিদিনের ডায়েটে পেঁপে, ব্রকোলি, গাজর, বিট, বিনস্ রাখুন।

রাতে ৩-৫ গ্রাম ত্রিফলা চূর্ণ ভিজিয়ে সকালে খালি পেটে খান। দীর্ঘ দিন অম্বলের সমস্যাতেও ভাল ফল পাবেন। মুখের দুর্গন্ধ দূর হবে। প্রতিদিন একটা করে ফল খান। কোষ্ঠকাঠিন্যের (constipation) অসুখ থাকলে বেদানা এড়িয়ে চলুন। তার বদলে আপেল, পেয়ারা, কলা খান।

পৌষ্টিকনালী থেকে টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে মুসাম্বির রস। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতেও এই রস কাজে দেয়। আনারসের মধ্যে থাকা উৎসেচক ব্রোমেলিন হজমে সাহায্য করে ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। লেবুতে থাকা ভিটামিন সি হজমে ও পেট পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।