ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য মারাত্মক হতে পারে ইনফ্লুয়েঞ্জা, কীভাবে সাবধান থাকবেন

গুড হেলথ ডেস্ক

অ্যাডেনোভাইরাসে শিশু মৃত্যুর হার চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে। তার মধ্যেই ছোঁয়াচে ইনফ্লুয়েঞ্জা (Influenza) হানা দিয়েছে। দেশের কয়েকটি রাজ্যে মারাত্মক ছোঁয়াচে ইনফ্লুয়েঞ্জারই এক উপপ্রজাতি (H3N2 Influenza A Virus) ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডায়াবেটিস, হার্টের রোগ থাকলে ইনফ্লুয়েঞ্জা মারাত্মক আকার নিতে পারে। প্রাণ সংশয়ের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস শরীরে স্ট্রেস কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। সর্দি-কাশি, জ্বরের সঙ্গেই মাথাযন্ত্রণা, ঝিমুনি, বমিভাব থাকে। ডিহাইড্রেশন দেখা দেয়। এর মধ্যে ডায়াবেটিস থাকলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বিগড়ে যায়। গ্লুকোজ লেবেল বাড়তে থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘন ঘন প্রস্রাব, ডিহাইড্রেশন রোগীকে আরও বেশি অসুস্থ করে তোলে।

ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস কর্টিসলের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। এই কর্টিসল ইনসুলিনের প্রভাব কমিয়ে দেয়, গ্লুকোজের মাত্রা কমা-বাড়া করতে শুরু করে। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এতটাই কমে যায় যে ক্রনিক স্টেজে চলে যেতে পারে রোগী। দেখা গেছে, নন-ডায়াবেটিক রোগীদের থেকে ডায়াবেটিক রোগীদের ফ্লু হলে হাসপাতালে ভর্তির শঙ্কা অনেকটাই বেড়ে যায়।

 H3N2 influenza virus

ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (ICMR) জানিয়েছে, ইনফ্লুয়েঞ্জার ‘এ’ প্রজাতির এক উপপ্রজাতি H3N2 ছড়িয়েছে দেশে। ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের অনেকগুলো ধরন আছে—টাইপ এ, টাইপ বি, এইচ১এন১ (নন-সোয়াইন ফ্লু)। বাংলায় তথা কলকাতা শহরে একবার এইচ১এন১ ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়েছিল। আইসিএমআর জানাচ্ছে, দেশের কয়েকটি রাজ্যে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের এইচ৩এন২ (H3N2 virus) উপপ্রজাতি ছড়িয়েছে। ইনফ্লুয়েঞ্জার এই সাবটাইপ সবচেয়ে বেশি ছোঁয়াচে ও বিপজ্জনক। পাখি ও অন্য স্তন্যপায়ী প্রাণিদের শরীরেও ছড়াতে পারে এই ভাইরাস। বহুবার জিনের বদল ঘটাতে পারে। বিজ্ঞানীদের দাবি, এর আগে এই উপপ্রজাতি তার জিনের বিন্যাসের বদল ঘটিয়েছিল। তাই এত ছোঁয়াচে হয়ে উঠেছে।

ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়ার পর মানব শরীরের নতুন শত্রু মারণ ছত্রাক, কীভাবে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে?

কীভাবে সতর্ক থাকবেন?

ডায়াবেটিসের (Diabetes) সঙ্গে ভাইরাল জ্বর হানা দিলে রোগীকে অনেক বেশি সতর্ক থাকতে হবে। এখন ছোট বাচ্চারাও ডায়াবেটিসের শিকার হচ্ছে, তাই বাবা-মায়েদের সাবধান থাকতে হবে। লাইস্টাইল ম্যানেজমেন্ট সবচেয়ে আগে দরকার। ডায়াবেটিস হলেও সাধারণ ব্যালেন্সড ডায়েটই মেনে চলতে বলা হয়। সারাদিনে যে খাবার আমরা খাই তাই নিয়ম মেনে ও সময়ে সময়ে খাওয়া। সঠিক পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফ্যাট খেতে হবে। ভাজাভুজি, তেল জবজবে খাবার একেবারে চলবে না। এ সময়ে শরীরে জলের অভাব দেখা দেয়। বেশি পরিমাণে জল খেতে হবে। যাঁদের জল বেশি খাওয়া বারণ, তাঁদের মেপে খেতে হবে।

এ সময়ে শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা ঠিক রাখার জন্য পর্যাপ্ত প্রোটিনও দরকার। স্যুপ খাওয়া ভাল। আদা-চায়ের মতো টোটকাও অনেক সময়ে কাজে দেয়। টানা গলা খুশখুশ থাকলে গরম জলে নুন দিয়ে দিয়ে কয়েক বার গার্গল করলে তা কমে যেতে পারে।

২-৩ দিনে জ্বর না কমলে রক্ত পরীক্ষা করানো দরকার। ডায়াবেটিস, রক্তচারপের রোগী, যাঁদের কেমো চলছে, রেনাল ফেলিওরের সমস্যা রয়েছে এমন রোগীদের ক্ষেত্রে ভাইরাল ফ্লু হলেও বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে। গোড়া থেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।