সচেতনতাই থ্যালাসেমিয়া রোখার দাওয়াই, কীভাবে রোগ ছড়ানো বন্ধ হবে?

থ্যালাসেমিয়ার (Thalassemia) মতো মারণ রোগের প্রধান কারণ সচেতনতার অভাব। সেই সঙ্গেই প্রয়োজন একটু সতর্কতারও। চিকিৎসকদের দাবি, থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্তরাও আর পাঁচজনের মতো বাঁচতে পারেন। বিয়ে করে ঘর সংসারও করতে পারেন। এই রোগ কীভাবে হয়, কীভাবে একে রোখা যায়, কতটা সচেতন হতে হবে, এইসব প্রশ্ন এখনও সেই তিমিরেই। থ্যালাসেমিয়া কীভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব সে নিয়ে সর্বস্তরেই প্রচার চলছে।

থ্যালাসেমিয়া (Thalassemia) একটি ব্লাড ডিজঅর্ডার যার ফলে শরীরে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যায়। প্রধানত তিন ধরনের থ্যালাসেমিয়া হয়। আলফা থ্যালাসেমিয়া, বিটা থ্যালাসেমিয়া ও থ্যালাসেমিয়া মাইনর। থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হলে রক্তে লোহিত রক্ত কণিকা ও হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ অতিরিক্ত মাত্রায় কমে যায়। যার ফলে রক্তাল্পতার সমস্যা দেখা দেয়। থ্যালাসেমিয়া একটি জিনগত রোগ। যদি বাবা ও মায়ের দু’জেনই থ্যালাসেমিয়ার বাহক হন, তা হলে সন্তানের থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি।

Thalassemia

বিটা থ্যালাসেমিয়ার ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের থেকে আসা দুটি জিনই ত্রুটিপূর্ণ হয়। যদি একটি জিন ত্রুটিপূর্ণ হয় তাহলে কিছুটা কম উপসর্গ দেখা যায়। একে বলা হয় বিটা থ্যালাসেমিয়া মাইনর। যদি দুটি জিন ত্রুটিপূর্ণ হয়, তাহলে মাঝারি থেকে মারাত্মক উপসর্গ দেখা যায়। একে বলে বিটা থ্যালাসেমিয়া মেজর।

কীভাবে থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধ সম্ভব

এই রোগকে বিদায় করতে হলে থ্যালাসেমিয়া বাহকের সঙ্গে যাতে কোনও ভাবেই আরেক জন বাহকের বিয়ে না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। সে জন্য স্কুল ও কলেজ স্তরের ছাত্রছাত্রীদের রক্তে থ্যালাসেমিয়ার বাহক রয়েছে কি না, তা জানা দরকার।

সচেতনতার মূলত দু’টি দিক। বিয়ের আগে পাত্র এবং পাত্রী— দু’জনেই থ্যালাসেমিয়া বাহক কি না, তা পরীক্ষা করা জরুরি। একই সঙ্গে দু’জনের মধ্যে এক জন যদি থ্যালাসেমিয়া বাহক না হন, তাহলে সুস্থ দাম্পত্য জীবন এবং সন্তানধারণে যে কোনও সমস্যা নেই তা প্রচার করা দরকার।

thalassemia

বিয়ের রেজিস্ট্রির সময়ে থ্যালাসেমিয়া (Thalassemia) ক্যারিয়ার টেস্টের সার্টিফিকেট জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা উচিত।

যদি দু’জন থ্যালাসেমিয়ার বাহকের বিয়ে হয়েও যায়, সে ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থায় ভ্রুণের রক্ত পরীক্ষা করানো সবচেয়ে আগে দরকার। স্বামী ও স্ত্রী দু’জনেই থ্যালাসেমিয়ার বাহক হলে গর্ভাবস্থায় ৮ থেকে ১২ সপ্তাহের মধ্যে ভ্রূণের পরীক্ষা করানো দরকার।

যদি কোন পরিবারের এক জন থ্যালাসেমিয়া বাহক হন তা হলে পরিবারের সকলেই রক্তপরীক্ষা করান।

গর্ভস্থ সন্তান থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত কি না, জানার জন্য কোরিয়োনিক ভিলাস স্যাম্পলিং, অ্যামনিওসেনটেসিস, ফিটাল ব্লাড স্যাম্পলি, এই পরীক্ষাগুলি করা প্রয়োজন।

থ্যালাসেমিয়া রোগীকে অবহেলা নয়, বরং সঠিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা উচিত।