হার্ট অ্যাটাক হবে কি? জানান দেবে যন্ত্র, বিস্ময় আবিষ্কার ভারতের বিজ্ঞানীদের

গুড হেলথ ডেস্ক

নিঃশব্দে হানা দিচ্ছে হার্ট অ্যাটাক। যন্ত্রণাহীন। রোগীকে বাঁচানোর সময়টুকু পাওয়া যাচ্ছে না। এক ঝটকায় সব শেষ। কার্ডিওলজিস্টরা বলছেন, এগুলো সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাকের (Silent Heart Attack) লক্ষণ। হার্ট অ্যাটাক বলে কয়ে আসে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই লক্ষণ বুঝতে পারেন না রোগী। বুঝতেই পারেন না আশু বিপদের কথা। প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে যেমন রক্তচাপ মাপার যন্ত্র, ডায়াবেটিস নির্ণয় করার যন্ত্র বেরিয়েছে, হার্ট অ্যাটাক (heart attack) বোঝার বা হৃদপিণ্ডের অবস্থা বোঝার তেমন কোনও যন্ত্র সাধারণ মানুষের নাগালে পৌঁছয়নি। হার্ট অ্যাটাক হবে কিনা, তা আগে থেকে বোঝার উপায়ও নেই তাই। এই প্রথমবার ভারতীয় বিজ্ঞানীরা এমন যন্ত্র আবিষ্কার করেছেন যা হার্ট অ্যাটাক হবে কিনা সেটা আগেভাগেই বলে দেবে।

যাঁদের উচ্চ রক্তচাপ বা রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি কিংবা যাঁদের স্থূলতার সমস্যা রয়েছে, তাঁদের হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি। হার্ট অ্যাটাক যে কোনও বয়সে, যে কোনও সময়ে হতে পারে। ডাক্তারবাবুরা বলছেন, হার্ট অ্যাটাক নানাভাবে হতে পারে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ‘সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক’(Silent Heart Attack) – এরও শিকার হন অনেকে। ইদানীংকালে হচ্ছেনও। এই প্রকারের অ্যাটাকে সব রকম উপসর্গ দীর্ঘ সময় ধরে আসে। এই উপসর্গগুলি আমরা অনেক ক্ষেত্রেই অন্য রোগের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলি। অনেক সময়ে এই ধরনের হার্ট অ্যাটাকে সে ভাবে কোনও ব্যথাও অনুভব করেন না রোগী। কিন্তু ভিতরে ভিতরে ঘটে যায় হার্ট অ্যাটাক। আচমকাই আসে আর সব তছনছ করে দিয়ে চলে যায়।

heart attack

সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাকের (Silent Heart Attack)  লক্ষণ কী কী?

বুকের বাঁ দিকে ব্যথা তো বটেই, অনেক সময়ে গোটা বুক জুড়েই চাপ ও অস্বস্তি হতে পারে। দীর্ঘসময় ধরে এমন হতে থাকলে সাবধান হতে হবে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমরা হজম বা গ্যাসের সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাই।

বেশিরভাগ হার্ট অ্যাটাকে বুকের মাঝখানে বা বাম দিকে অস্বস্তি হয় যা কয়েক মিনিটের বেশি স্থায়ী হয় কিংবা তারপর চলে যায় এবং আবার সেই ব্যথা কিছুক্ষণ পরে ফিরেও আসে।

পেটে ব্যথা, বদহজম, বুকজ্বালা এবং বমি বমি ভাব হার্ট অ্যাটাকের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। এক্ষেত্রে পেটের উপরের দিকের মাঝখানে ব্যথা হতে পারে এবং সাধারণত পেট ভারী লাগে। অনেক সময়ে বুকের পেশিতেও টান পড়ে, সঙ্গে শ্বাসকষ্টের সমস্যাও দেখা যায়। ঘাড়, কাঁধ, চোয়ালেও ব্যথা হতে থাকে, এমন হলে সাবধান হতে হবে।

Heart Attack

কী যন্ত্র আবিষ্কার হয়েছে?

মুম্বই আইআইটির গবেষকরা হার্ট অ্যাটাক বোঝার জন্য নতুন যন্ত্র আবিষ্কার করেছেন। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়েও এই নিয়ে গবেষণা চলছে। বুকের কাছে প্যাচের মতো আটকে দেওয়া হয় এই যন্ত্র। গবেষকদের দাবি, হার্টবিট, পালস রেট, শিরা ও ধমনীতে রক্তের প্রবাহ ও রক্তচাপ মেপে সেই যন্ত্র সঠিকভাবে বলতে পারে হার্টের অবস্থা কেমন। এই যন্ত্র বলে দিতে পারে, হার্টের ক্ষতির কোনও সম্ভাবনা আছে কিনা। কোনওরকম ব্লকেজ তৈরি হয়েছে কিনা তাও ধরতে পারে এই যন্ত্র।

বিজ্ঞানীদের দাবি, হৃৎপিণ্ডের শিরা ও ধমনীতে রক্তের প্রবাহ ও রক্তচাপ বিশ্লেষণ করে এই যন্ত্র নির্ণয় করতে পারে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার ঝুঁকি আছে কিনা। ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রামের মতো যন্ত্র যেখানে বিফল হয়, সেখানে সঠিকভাবে কাজ করতে পারে এই যন্ত্র। এই ডিভাইসকে মোবাইলের সঙ্গে সংযুক্ত করে ভবিষ্যতের জন্য ডেটা সঞ্চয় করেও রাখা যায়।

মুম্বই আইআইটির গবেষকরা আরও একটি যন্ত্র তৈরি করেছেন তাতে একটি সেন্সর আছে। কয়েক ফোঁটা রক্ত সিরিঞ্জে করে সেন্সরে ফেললেই ২০ মিনিটের মধ্যে হার্টের অবস্থা বলে দিতে পারবে সেই যন্ত্র। গবেষকরা বলছেন, হার্ট অ্যাটাকের পরবর্তী পর্যায়ে হার্টের অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখতেও কাজে দেবে ওই যন্ত্র। হার্ট অ্যাটাকের পরে মায়োগ্লোবিন নামে এক ধরনের প্রোটির বের হয়। হৃদযন্ত্রের অবস্থা যদি ফের খারাপ হয়, তাহলে এর মাত্রা ৮-১০ গুণ বেড়ে যায়। এই ডিভাইস সেই বদলটাই ধরতে পারে।  এই ডিভাইস সাধারণ মানুষের নাগালে আনার চেষ্টা চলছে।