Kidney Stone: ল্যাপারোস্কোপিতে বেরল ২০৬টি পাথর! কিডনি স্টোনের ঝুঁকি কাদের বেশি

গুড হেলথ ডেস্ক

পেটের ব্য়থাটা অস্বাভাবিক হয়ে উঠেছিল নালগোন্দার বাসিন্দা বীরমল্লার। ৫৬ বছরের বীরমল্লা যখন হাসপাতালে যান ডাক্তারেরা অনুমান করেছিলেন কিডনিতে পাথর (Kidney Stone) জমেছে। আলট্রাসোনোগ্রাফি করে যা দেখা গিয়েছিল তাতে চোখ কপালে উঠেছিল ডাক্তারবাবুদের। কিডনিতে থিকথিক করছে পাথর। সার্জারি করে যখন বের করা হয় তখন সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছিল ২০৬টিতে। দীর্ঘ ৬ মাস ধরে এই পাথরের বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছিলেন রোগী। আর কয়েক মাস দেরি হলে প্রাণ বাঁচানো সম্ভবই হত না।

হায়দরাবাদের অ্য়াওয়ার গ্লেনেগলস গ্লোবাল হাসপাতালে অস্ত্রোপচার হয়েছে বীরমল্লার। ইউরোলজিস্ট ডক্টর পুলা নবীন কুমার ল্য়াপারোস্কোপি বা কীহোল সার্জারি করে কিডনি থেকে ২০৬টি পাথর (Kidney Stone) বের করেন। ডাক্তারবাবু বলছেন, কিডনিতে একসঙ্গে এত পাথর জমার ঘটনা বিরল। ৬ মাস ধরে এই পাথর বয়ে বেড়াচ্ছিলেন রোগী। তাঁর অবস্থা ছিল সঙ্কটজনক। ল্য়াপারোস্কোপি সার্জারিতেই নিরাপদে স্টোন বের করে রোগীকে বাঁচানো হয়।

Kidney Stones

কীভাবে তৈরি হয় কিডনি স্টোন (Kidney Stone)? কাদের ঝুঁকি বেশি?

আমাদের রেচন অঙ্গ বৃক্ক বা কিডনিতে ক্যালসিয়াম জমে তৈরি হয় কিডনির স্টোন। এখনও পর্যন্ত সারা বিশ্বের ১-৫% মানুষ কিডনি স্টোনের শিকার। সংখ্যাটা উন্নত দেশে ২-৩% এবং উন্নয়নশীল দেশে ০.৫-১%। কিডনি স্টোন ছোট হলে অনেক সময় তা স্বতঃস্ফূর্তভাবে মূত্রের সঙ্গে বেরিয়ে যেতে পারে। কিন্তু বড় স্টোন অপসারণ করতে অপারেশন করার দরকার পড়ে।

নেফ্রোলজিস্টরা বলেন, কিডনির রোগ অনেকসময়েই জানান দিয়ে আসে না। চুপিসারে বাসা বাঁধে, একদিন আচমকাই বিস্ফোরণের মতো ছড়িয়ে পড়ে। তবে কিছু উপসর্গ দেখে সচেতন হওয়াই যায়। যেমন–কারও উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার সমস্যা থাকলে তার প্রভাব পড়ে কিডনিতেও। সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। হঠাৎ করে জাঁকিয়ে বসা অবসাদ, ঘুম ঘুম ভাব, মনঃসংযোগের সমস্যা, খিদে নষ্ট, অল্প পা ফোলা, শরীরে রক্ত কমে যাওয়া এইসব রোগের আগমন হলে আগেভাগেই সতর্ক হওয়া উচিত।

Kidney Stone

নেফ্রোলজিস্টরা বলেন, কিডনির সমস্যা হলে সবচেয়ে আগে প্রভাব পড়ে মূত্রে। কোমরে বা তলপেটে ব্যথা, মূত্রে জ্বালা, রঙের বদল হলে চিকিৎসকের দ্বারস্থ হওয়া উচিত। প্রায়ই যদি মূত্রথলি ও প্রস্রাবে সংক্রমণ হয় তাহলেও ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া দরকার।

৭০ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণরা, গর্ভবতী মহিলা, যাঁরা প্রচণ্ড মানসিক চাপে ভুগছেন তাঁদের কিডনিতে পাথর জমার প্রবণতা বেশি। প্রাণিজ প্রোটিন অর্থাৎ ডিম, দুধ, মাছ, মাংস বেশি যাঁরা খান, তাঁরাও রয়েছেন ঝুঁকিতে।

কিডনিকে ভাল রাখুন

কিডনির রোগীদের কাছে দুধ কিন্তু বিষের সমান। পাশাপাশি মাংসও ক্ষতিকর। প্রাণিজ প্রোটিন মূত্রে ইউরিক অ্যাসিড, ক্যালসিয়াম ও অক্সালেট মাত্রা বাড়ায় এবং সাইট্রেট মাত্রা কমায়। উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের তুলনায় প্রাণিজ প্রোটিনে বেশি সালফার থাকে, তাই এরা বেশি অ্যাসিড তৈরি করে। দুধে কিডনি পাথরের (Kidney Stones) পক্ষে অনুকূল উপাদান প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম থাকে। তাই কিডনি স্টোনের ঝুঁকি থাকলে প্রাণীজ প্রোটিন খাওয়া ছাড়ুন। নুন কম খান, অ্যালকোহলের মাত্রা কমান, বেশি করে জল খান। প্রতিদিন অল্প করে লেবুর রস মূত্রের সাইট্রেটের মাত্রা বাড়িয়ে ক্যালসিয়াম স্টোন তৈরির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে।