কম ঘুমোলে অ্যালঝাইমার্সের ঝুঁকি বাড়ে? রোজ রাত জাগলে এই মারাত্মক রোগও হতে পারে

গুড হেলথ ডেস্ক

আপনার ঘুম কি খুব পাতলা? রাতে বার বার ঘুম ভেঙে যায়? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাতভর যদি বার বার ঘুম ভাঙে (Irregular Sleeping) তাহলে সেটা ভাল লক্ষণ নয়। কম ঘুম (Lack of deep sleep) বা অনিদ্রার সমস্যা থাকলে তার থেকেই শরীরে বাসা বাঁধতে পারে নানা রোগ। ‘অল ইন্ডিয়া অফ মেডিক্যাল সায়েন্স’(এইমস)-এর গবেষকরা দাবি করেছেন, কম ঘুমোলে তার থেকে অ্যালঝাইমার্সের (Alzheimer’s) মতো মারাত্মক রোগের ঝুঁকি বাড়ে। স্লিপ অ্যাপনিয়া থেকে হতে পারে স্ট্রোক (Stroke)।

insomnia, sleep apnea

কম ঘুম বাড়ায় স্ট্রোক, অ্যালঝাইমার্সের ঝুঁকি

কম ঘুমোলে বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা দেখা দেয়— যেমন ডায়াবেটিস, হৃদযন্ত্রজনীত সমস্যা, ডিমেনশিয়া। নিয়মিত কম ঘুম হলে, তাতে মানসিক সমস্যাও হতে পারে। অবসাদ, অবসন্নতা ছাড়াও বাইপোলার ডিজর্ডারের প্রবণতাও বেড়ে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বয়সকালে ঘুম কমে যায়। কিন্তু এখন কমবয়সিরা এত বেশি সোশ্যাল মিডিয়া আর নেট মাধ্যমে ব্যস্ত যে ঘুমের সময়েই নেই তাদের। রাতভর ল্যাপটপ, মোবাইলে সিনেমা, সিরিজ দেখা, কানে হেডফোন গুঁজে গান শোনা ঘুমের সমস্যা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। স্লিপিং ডিসঅর্ডারের সমস্য়া এখন ঘরে ঘরে।

এইমসের বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা বলছেন, ঘুম সঠিক হলে নিয়ন্ত্রণে থাকে অনেক কিছু। রক্তচাপ থেকে, রক্তে শর্করার মাত্রা হোক কিংবা ওজন। এসবেরই ভারসাম্য বজায় রাখা যায় সঠিক ঘুমের মাধ্যমে। বয়স বাড়তে থাকলে ঘুমের (Sleep) সময় কমতে থাকে। বিশেষ করে ৩০ থেকে ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সীদের ৭ ঘণ্টা ঘুমই আদর্শ। তবে নিশ্ছিদ্র টানা ঘুম। তাহলেই শরীর ভাল থাকবে। এর বেশি ঘুম আলস্য বাড়াবে, মেদ বৃদ্ধির কারণ হবে।

ঘুমের মধ্যে কেন বন্ধ হয় শ্বাস, ‘দুষ্টু’ প্রোটিনকে কব্জা করে স্লিপ অ্যাপনিয়া সারাবেন বিজ্ঞানীরা

Alzheimer's disease

স্লিপ অ্যাপনিয়ায় আক্রান্ত ১৪০ জনকে নিয়ে একটি গবেষণা করা হয়েছিল। গবেষণায় অংশ নেওয়া প্রত্যেকেরই গড় বয়স ছিল ৭০। তাঁদের শারীরিক পরীক্ষা করার পর দেখা গিয়েছে, প্রত্যেকেই হার্টের রোগের নানা সমস্যায় ভুগছেন। সেই সঙ্গে অনেকেই আবার অ্যালঝাইমাইর্সের প্রাথমিক পর্যায়ে পৌঁছেছেন। রিপোর্টে জানা গেছে, ঘুমের ব্যাঘাত হলে শ্বাস-প্রশ্বাসের ক্ষতি হতে পারে। স্লিপ অ্যাপনিয়ায় আক্রান্ত প্রায় ৮৫ শতাংশ রোগীরাই জানেন না যে তাঁরা ব্রেন স্ট্রোকের ঝুঁকিতে রয়েছেন। এই কারণেই বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন স্লিপ অ্যাপনিয়া স্ট্রোকের ঝুঁকির কারণ।

শরীরের বাড়তি ওজনের সঙ্গেও স্লিপ অ্যাপনিয়ার ঘনিষ্ট যোগসূত্র রয়েছে। আমাদের নাক, গলা, আল জিভের পিছন দিয়ে অক্সিজেন ঢুকছে শ্বাসনালীিতে। আগেই বলেছি, বাতাস চলার পথ যদি মেদ জমে সরু হয়ে যায়, তাহলে অক্সিজেন শরীরে ভালভাবে ঢুকতে পারে না। তখন নাক ডাকা, শ্বাস নেওয়ার সমস্যা দেখা দেয়। স্লিপ অ্যাপনিয়া থেকে অ্যালঝাইমার্স ছাড়াও ডিমেনশিয়া এবং মানসিক নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।

স্লিপ অ্যাপনিয়া আছে কিনা তা কয়েকটা পরীক্ষা করে ধরা যায়। প্রথমেই আমরা রোগীকে জিজ্ঞাসা করি ঘুমের মধ্যে দমবন্ধ হয়ে আসে কিনা, কতবার ঘুম ভেঙে যায়, প্রতিবার ঘুম ভাঙার পরে কী ধরনের শারীরিক অস্বস্তি হয়, শ্বাসকষ্ট শুরু হয় কিনা ইত্যাদি। দেখবেন, স্লিপিং ডিসঅর্ডার থাকলে এমনিতেও সুন্দর টানা ঘুম হবে না। শরীরের ক্লান্তি বাড়বে, ঝিমুনি আসবে, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাবে। ঘুম ভেঙে উঠে বসে রোগী হাঁফাতে থাকবে, ঘাম হবে। এগুলো কিছু সাধারণ লক্ষণ যা দেখে আপনি বুঝতে পারবেন নিছকই নাক ডাকার সমস্যা নয়, কোনও না কোনওভাবে স্লিপিং ডিসঅর্ডার হচ্ছে যার কারণ স্লিপ অ্যাপনিয়াও হতে পারে। তখন বিন্দুমাত্র দেরি না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। তাছাড়া রোগীর আগে থেকেই থাইরয়েড, হাইপারটেনশন, ডায়াবেটিস বা ওবেসিটি থাকলে, রোগের ঝুঁকি অনেকটাই বাড়ে।