ডায়েট করেও ওজন বাড়ছে? কী খাচ্ছেন তার থেকেও জরুরি কখন খাচ্ছেন

গুড হেলথ ডেস্ক

ডায়েট (Diet) মানে হল ব্যালান্সড চার্ট। মানে যার শরীরে যতটা সয়, তাকে ঠিক ততটাই খাবার দেওয়া। ডায়েটে যেমন কী খাবেন তা গুরুত্বপূর্ণ, কখন খাবেন ও কতক্ষণ অন্তর খাবেন, তা মেনে চলাও সমান জরুরি। কিটো, ইন্টারমিটেন্ট এই ধরনের ডায়েট এক মাস বা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য করতে দেওয়া হয়। অনির্দিষ্ট কালের জন্য নিজের ইচ্ছেমতো এই ধরনের ডায়েট মানা যায় না। আপনি কখন কী খাচ্ছেন, তার উপর নির্ভর করে আপনার ওজন বাড়বে না কমবে। ভুল সময়ে (Meal Timing) ঠিক খাবার খেলে কিন্তু লাভের চেয়ে ক্ষতির আশঙ্কাই বেশি। সব খাবার সব সময়ে হজমও হয় না। তাই কোন সময়ে কী খাবেন, সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকাটা একান্ত প্রয়োজনীয়।

Meal Timing

সঠিক সময় (Meal Timing) না খেলে ওজন কমবে না

প্রতিটা মানুষের ক্ষেত্রে এক ডায়েট প্ল্যান কাজ করতে পারে না। আপনি কখন ঘুমোতে যান, কখন ওঠেন ঘুম থেকে, সারাদিনের রুটিন কেমন, তার উপরেও অনেক কিছু নির্ভরশীল ((Meal Timing))। অনেকে বলেন, সকালবেলা ব্রেকফাস্টের সময় বেশি করে কর্বোহাইড্রেট খাওয়া উচিত – এর পোশাকি নাম কার্ব লোডিং। সূর্যাস্তের পর থেকে ক্যালোরি খরচের হার এমনিতেই কমতে থাকে, তাই রাতের দিকে ভারী কিছু না খাওয়াই ভাল। নির্ধারিত সময়ে খেলে আপনার শরীরের স্ট্রেস কম হয়। ফলে শরীর বাড়তি ফ্যাট জমিয়ে রাখে না পরে খরচ করবে বলে।

যাঁরা ব্যায়াম করেন, তাঁরা ওয়ার্কআউটের আগে অতি অবশ্যই খানিকটা প্রোটিন খাবেন, তা ছাতু, ডিম, চিকেন, ছানা যা হোক কিছু হতে পারে। ব্যায়াম করার এক-দেড় ঘণ্টা আগে প্রোটিন খেলে মাসল মাস তৈরিতে তা কাজে লাগে, ফলে আপনি বাড়তি এনার্জি পাবেন ওয়ার্কআউটের সময়। ব্যায়াম শেষ হওয়ার পর ফের অল্প মাত্রায় প্রোটিন আর কার্বোহাইড্রেট খেতে পারেন।

Meal Timing

যদি খাওয়াদাওয়া ঠিকমতো হয় ((Meal Timing)), তা হলে সারাদিনের কখনওই এনার্জিতে ঘাটতি পড়বে না। ঠিক সময়ে না খেলেই দেখবেন বিকেলের দিকে ক্লান্তি লাগছে, খিদে পাচ্ছে। হুট করে ভাজাভুজি বা মিষ্টি কিছু একটা খেয়ে ফেললে সমস্যার সমাধান হবে না – চিনির কার্যকারিতা কমে গেলেই ফের খিদে পাবে। তাই জলখাবারের পর এবং বিকেলের দিকে এমন কোনও স্ন্যাক্সের বন্দোবস্ত রাখুন যা পেট ভরায়, কিন্তু বাড়তি ক্যালোরির বোঝা চাপায় না। সম্ভব হলে পুষ্টিবিদের সঙ্গে পরামর্শ করে ডায়েট প্ল্যান তৈরি করুন। ঘুম থেকে ওঠার দু’ ঘণ্টার মধ্যে ব্রেকফাস্ট খান, রাতে শুতে যাওয়ার দু’ ঘণ্টা আগে খান ডিনার। নিয়ম মেনে চললে ঘুম ভালো হবে, নিয়ন্ত্রণে থাকবে রক্তের শর্করাও।

আমরা ছোট থেকে যে পরিবেশে যা খেয়ে বড় হয়ে উঠেছি, আমাদের শরীরও সেভাবেই তৈরি হয়েছে। শরীরের গড়ন ও চাহিদাও সেই অনুযায়ী। কেউ যদি ছোট থেকে দু’বেলা ভাত খেয়ে বড় হন আর হঠাৎ ভাত খাওয়া বন্ধ করে দেন, তার বদলে শুধু সবজি ও মাংস সেদ্ধ খেতে থাকেন, তা হলে কিন্তু শরীর মেনে নেবে না। নানা রকম অসুখবিসুখ দেখা দেবে। কিছুদিন পরেই ডায়েট ভুলে বেশি করে জাঙ্ক ফুড খেয়ে ফেলবেন। তাই যা-ই খাবেন, পরিমিত ভাবেই খেতে হবে। সময়মতো খেতে হবে। ডায়েটের (Diet) আসল উদ্দেশ্য এটাই। মেদহীন, ছিপছিপে চেহারায় স্টাইল স্টেটমেন্ট মেনে চলার কথা বলে না ডায়েট, বরং রোগহীন সুস্থ শরীর ধরে রাখার নামই ডায়েট।