হামের প্রকোপ বাড়ছে মুম্বইতে, গত ৪৮ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে তিন শিশুর

গুড হেলথ ডেস্ক

হামের (Measles) প্রকোপ বেড়েই চলেছে মুম্বইতে। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের তথ্য বলছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় বহু শিশু আক্রান্ত হয়েছে। পরিস্থিতি ক্রমেই নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। আক্রান্ত এলাকাগুলিতে বাড়ি বাড়ি ঘুরে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে বিশেষজ্ঞের দল। স্বাস্থ্য দফতরের তরফ থেকে গাইডলাইনও দেওয়া হয়েছে।

ন্যাশনাল কোঅপারেটিভ ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের ইন্টিগ্রেটেড ডিজিজ সার্ভিল্যান্স প্রোগ্রাম (আইডিএসপি)-এর ডেপুটি ডিরেক্টর ডা. অনুভব শ্রীবাস্তবের নেতৃত্বে তিন বিশেষজ্ঞের টিম প্রতি এলাকায় ঘুরে ঘুরে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে। গোভান্দি এলাকায় গত ৪৮ ঘণ্টায় তিন শিশুর মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে।

বৃহন্মুম্বই পুরসভার (বিএমসি) রিপোর্ট বলছে, ২৬ থেকে ২৭ অক্টোবরের মধ্যে ৫ বছর, ৩ বছর ও ১৪ মাসের তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এখনও অবধি আক্রান্ত ২৯ জন শিশুর খোঁজ মিলেছে। সংখ্যাটা আরও বেশি বলেই মনে করা হচ্ছে। 

ডেঙ্গি ভাইরাস কোষ থেকে জল শুষে নিচ্ছে, রোগ কখন মারাত্মক হবে, কী চিকিৎসা জরুরি, বললেন ডাক্তারবাবু

Mumbai Measles Outbreak

হাম (Measles) হলে কী কী উপসর্গ দেখা যায় বাচ্চাদের?

প্রাথমিক ভাবে জ্বর, সর্দি, হাঁচি, সারা শরীরে ব্যথা হয়। তারপরে লালচে র‍্যাশ (Rashes) বের হতে শুরু করে। সারা গায়ে জলভর্তি ফোস্কার মতো বড় বড় র‍্যাশ দেখা যায়।

হামের প্রাথমিক লক্ষণ জ্বর। সেই সঙ্গেই সর্দি, হাঁচি লেগেই থাকে। চোখ লাল হতে শুরু করে, অনবরত চোখ দিয়ে জল পড়ে, চোখের পাতা ফুলে যায়। বাচ্চাদের এই সময় কাশি হয়, গলা বসে যায়। এই উপসর্গগুলি দু-তিন দিন থাকে। মুখের ভিতরে দানা দানা ভাব দেখা দেয় এবং আস্তে আস্তে তা সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

হালকা গোলাপি র‌্যাশ ৫-৭ দিনের মধ্যে হালকা বাদামি হতে হতে আস্তে আস্তে মিলিয়ে যায় (Measles)। সব মিলিয়ে রোগটা মোটামুটি সাত থেকে দশ দিন ভোগায়।

ডেঙ্গি হেমারেজিক ও শক সিন্ড্রোমেই মৃত্যু হচ্ছে, জ্বর কমতে শুরু করার পরেই বিপদটা বাড়ে

হামের (Measles) কারণে সাধারণত শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (Body Immune System) সাময়িকভাবে কমে যায়। সচেতন না হলে নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কাইটিস,  হাঁচি-কাশি, পেটের গোলমাল দেখা দিতে পারে। কোনও পুরনো বা জটিল রোগ থাকলে পক্স বা হামের কারণে তা আরও বাড়তে পারে। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে কোনও কোনও ক্ষেত্রে প্রাণহানির আশঙ্কাও থেকে যায়। তাই উপসর্গ দেখা দিলেই দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

মিসলস (Measles Vaccine) ভ্যাকসিন ৯ মাসের বাচ্চাদের দেওয়া হয়। এর পরে এম এম আর ভ্যাকসিন (MMR Vaccine) দিলে এই রোগ হয় না বললেই চলে। টিকাকরণ সঠিক সময় হলে বাচ্চাদের ভাইরাসের সংক্রমণ কম হয়। বিএমসি দাবি করেছে, যে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে তারা মিসলস ভ্যাকসিন নেয়নি।