ডোলো ৬৫০: জ্বরের ওষুধের বিক্রি বাড়াতে ডাক্তারদের হাজার কোটির ঘুষের অভিযোগ

গুড হেলথ ডেস্ক

জ্বরের ওষুধ প্যারাসিটামলের মতোই ডোলো ৬৫০-রও (Dolo 650) বেশ নাম আছে। ডাক্তারবাবুরা এই ওষুধও প্রেসক্রাইব করেন। বিশেষ করে করোনার সময় অ্যান্টিপাইরেটিক বা প্রতিরোধমূলক ওষুধ হিসেবে ডোলো ৬৫০-র বিক্রি বেড়েছিল বাজারে। এই ওষুধ যে কোম্পানি তৈরি করে সেই মাইক্রো ল্যাবসের বিরুদ্ধে হাজার কোটির দুর্নীতির অভিযোগ উঠল। অভিযোগ, এই ওষুধের বিক্রি বাড়াতে ডাক্তারদের নাকি কোটি কোটি টাকার সুবিধা পাইয়ে দিয়েছিল কোম্পানি। দুর্নীতি হয়েছে হাজার কোটি টাকারও বেশি।

জ্বর, গা ব্যথা, পেশিতে ব্যথা কমাতে প্যারাসিটামল ওষুধ দেন ডাক্তারবাবুরা।  এই প্যারাসিটামল যে ফর্মুলায় তৈরি ক্যালপল বা ডোলো ৬৫০ (Dolo 650) ওষুধও অনেকটাই সেই ফর্মুলায় তৈরি। কাজের ধরনও এক। কোভিডের সময় জ্বর, গায়ে হাত-পায়ে ব্যথা কমাতে ডোলো ৬৫০ ওষুধের বিক্রি বেড়েছিল। করোনা থেকে বাঁচতে প্রতিরোধমূলক ওষুধ হিসেবে এই ওষুধের চাহিদা বেড়েছিল দেশের বাজারে। ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশনের (NMC) রিপোর্ট বলছে, ডোলো ৬৫০ ওষুধের বিক্রি আরও বাড়াতে নানা কারচুপি করে এর প্রস্তুতকারক সংস্থা মাইক্রো ল্যাবস। অভিযোগ উঠেছে, ডাক্তাররা যাতে এই ওষুধই প্রেসক্রাইব করেন তার জন্য ডাক্তারদের কোটি কোটি টাকা উপহার দিয়েছিল এই সংস্থা।

করোনার সময়ে এমনিতেও অ্যান্টিবায়োটিক ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি জাতীয় ওষুধের দাম বেড়েছিল।  তবে প্যারাসিটামল গোত্রের ওষুধের দাম একটা নির্ধারিত মাত্রায় রাখার নির্দেশ দিয়েছিল নরেন্দ্র মোদী সরকার। প্যারাসিটামল ৬৫০ বা ডোলো ৬৫০ (Dolo 650)  জাতীয় ওষুধের দাম যাতে তার নির্ধারিত মূল্যের বেশি না হয় তার জন্য নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছিল। এনএমসি জানাচ্ছে, সেই সময় থেকেই বেআইনিভাবে এই ওষুধের মার্কেটিং করে মাইক্রো ল্যাবস।

ডোলো ওষুধ বিতর্কের জল গড়িয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত অবধি। ফেডারেশন অফ মেডিক্যাল অ্যান্ড সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভস অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া দেশে বিক্রি হওয়া ওষুধের ফর্মুলেশন এবং দাম নিয়ে জনস্বার্থ মামলা করেছে। সেন্ট্রাল বোর্ড অব ডিরেক্ট ট্যাক্সেস (সিবিডিটি) জানিয়েছে, ডোলো ৬৫০ ওষুধের নির্মাতারা তাদের ব্র্যান্ডের প্রচারের জন্য চিকিৎসক ও মেডিক্যাল পেশার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের হাজার কোটি টাকারও বেশি ঘুষ দিয়েছে। এই মামলার শুনানি চলছে বিচারপতি এএস বোপান্না এবং বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের বেঞ্চে। আইনজীবী সঞ্জয় পারেখ দাবি করেছেন, ওষুধের মূল্য নির্ধারণকারী কর্তৃপক্ষ ৫০০ মিলিগ্রাম প্যারাসিটামলের জন্য মূল্য নির্ধারণ করে থাকে। তবে যখন ওষুধের ডোজ ৬৫০ মিলিগ্রাম হয়, তখন তা নিয়ন্ত্রিত মূল্যের বাইরে চলে যায়। সেই জন্যই এর এত প্রচার এবং চিকিৎসকদের বাড়তি সুবিধা দেওয়া। তিনি আরও বলেছেন, বাজারে বিভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিক রয়েছে যেগুলির প্রয়োজন না থাকলেও সেগুলোর ফর্মুলা বদলে প্রচার করা হচ্ছে। ওষুধের ফর্মুলেশন নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি বিধিবদ্ধ কাঠামো থাকা উচিত বলেও জানিয়েছেন তিনি।