ভারতে মাঙ্কিপক্সের প্রজাতি আলাদা, ইউরোপ-আমেরিকার মতো ‘সুপার স্প্রেডার’ নয়: আইসিএমআর

গুড হেলথ ডেস্ক

ভারতে মাঙ্কিপক্স ভাইরাসের (Monkeypox) সংক্রমণ ছড়িয়েছে। তবে মহারাষ্ট্রে যতজন আক্রান্ত মনে হয়েছিল,সংখ্যাটা তার থেকে কম। বেশিরভাগেরই রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। দেশের সর্বোচ্চ চিকিৎসা সংক্রান্ত গবেষণা কেন্দ্র বা আইসিএমআর (ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট) জানিয়েছে, ইউরোপ, আমেরিকা ও বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলিতে মাঙ্কিপক্সের যে প্রজাতি ছড়িয়েছে তা সুপার-স্প্রেডার, ভীষণ সংক্রামক। কিন্তু ভারতে যে স্ট্রেন খুঁজে পাওয়া গেছে তা অতটা সংক্রামক নয়।

আইসিএমআর-ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি (আইসিএমআর-এনআইভি) মাঙ্কিপক্স ভাইরাসের জিনোম সিকুয়েন্স বা জিনের বিন্যাস বের করেছে। তাতে দেখা গেছে ভারতে মাঙ্কিপক্সের (Monkeypox) যে প্রজাতি খুঁজে পাওয়া গেছে তা অনেকটাই আলাদা। 

বিশ্বের ৭৫টি দেশে ২০ হাজারের বেশি মাঙ্কিপক্সে সংক্রমিতের খোঁজ মিলেছে। বেশিরভাগেরই শরীরে খুঁজে পাওয়া গেছে সংক্রামক বি১ (B1) স্ট্রেন। আবার ইউরোপ ও আমেরিকায় খুঁজে পাওয়া গেছে মাঙ্কিপক্সের এ২ (A2) স্ট্রেন। এই A2 স্ট্রেন অতি সংক্রামক এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

কফ-থুতু-লালারস ও দেহরসের মাধ্য়মে ছড়াতে পারে ভাইরাস। বিশেষ করে আক্রান্তের সঙ্গে সঙ্গম করলে বা আক্রান্তের চুম্বন-স্পর্শ থেকেও সংক্রমণের আশঙ্কা আছে। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) মতে, ফুসকুড়ি, শরীর থেকে নির্গত তরল (যেমন পুঁজ বা ক্ষত থেকে নির্গত রক্ত) এবং স্ক্যাবগুলি এক্ষেত্রে খুবই সংক্রামক ৷ এমনকী রোগীর বিছানাপত্র, পোশাকআসাক, খাওয়ার থালা থেকেও রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষত রোগের পর দুই থেকে চার সপ্তাহ পর্যন্ত ভাইরাস (Monkeypox) সবচেয়ে বেশি সংক্রামক থাকে ৷ 

আক্রান্ত ব্যক্তির জামা কাপড় বা তোয়ালে, বিছানা, বালিশ ব্যবহার করলেও রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে ৷ বিশেষজ্ঞ বলছেন, অনিয়ন্ত্রিত যৌনজীবন, একাধিক যৌনসঙ্গী থাকলে এবং অসুরক্ষিত যৌনজীবনে অভ্যস্ত হলে রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।