বাড়িতে বয়স্ক বাবা-মা আছেন, এই অসুখবিসুখের সময়ে কীভাবে যত্ন নেবেন

গুড হেলথ ডেস্ক

করোনার বাড়বাড়ন্তের সময়ে বয়স্করা খুব ভুগেছেন। এখন আবার ডেঙ্গি-ম্য়ালেরিয়া-নিউমোনিয়া-রেসপিরেটারি ভাইরাস দাঁত-নখ বসাচ্ছে। তার ওপর ঋতুবদলের এই সময়টা সর্দি-কাশি, জ্বর, নানা অসুখবিসুখ লেগেই থাকে। সুগার-প্রেসার, হাই কোলেস্টেরলের রোগীদের ভয় আরও বেশি। বাড়ির প্রবীণরা যাঁদের নানারকম কোমর্বিডিটি রয়েছে তাঁদের এই সময়টা অনেক বেশি যত্নে রাখতে হবে। তার জন্য কিছু নিয়ম মানতেই হবে।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এমনিতেই কমে আসে। কমতে থাকে শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা। ফলে শরীর নতুন প্যাথোজেনের সঙ্গে লড়াই করতে পারে না সাবলীলভাবে। তাই অল্পেই নানা রোগ ধরে যায় বয়স্কদের। তাছাড়া একটানা বাড়িতে থাকতে থাকতে তাঁদেরও মনের উপর চাপ পড়ে। শুধু শরীরের বিষয়টিই নয়, তাঁদের মনের ক্ষেত্রটিতেও সমান যত্ন প্রয়োজন।

senior citizen

কীভাবে আগলে রাখবেন বয়স্কদের?

১) মনের জোর, মানসিক স্বাস্থ্য ভেঙে পড়লে কিন্তু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যায়। তাই বাড়িতে থাকার সময়টুকু তাঁদের জন্য আনন্দদায়ক করে তুলতেই হবে। 

২) বয়স্করা ওষুধপত্র সময়মতো খাচ্ছেন কি না দেখুন। প্রয়োজনে তাঁদের ওষুধের ডোজ বাড়া-কমা নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন।

Elderly parents

৩) দানাশস্য বেশি রাখা দরকার ডায়েটে। প্রচুর পরিমাণে সবুজ শাক-সব্জি খাওয়াতে হবে। ফল চিবিয়ে খেতে সমস্যা হলে জুস করে খাওয়ান। রোজ অন্তত এক থেকে দুই রকমের ফল রাখতেই হবে ডায়েটে। ফ্রুট স্যালাড বানিয়ে দিতে পারেন। রাতের দিকে খাবার হাল্কা রাখাই ভাল। স্যুপ বা স্টু খুব উপকারি। সঙ্গে সব্জি, স্যালাড রাখতে হবে। বয়স্কদের জন্য বাদাম ও আখরোট খুব উপকারি। প্রতিদিন সকালে ৬-১০টি বাদাম ও ৩-৫টি আখরোট খাওয়া উচিত। বিভিন্ন ধরনের বেরি খাওয়া ভাল।

 Elder Care

৪) হাড়ের সমস্যা না থাকলে বা চিকিৎসকের বারণ না থাকলে বয়স্কদের ছাদে হাঁটাহাঁটি বা জগিং করতে হবে। 

৫) রোজ সকালে মর্নিং ওয়াক করার অভ্যাস থাকে অনেকের। বিকেল বা সন্ধের দিকেও হাঁটতে বেরোন বয়স্করা। হাঁটা শরীরের জন্য ভাল, তবে কীভাবে হাঁটছেন, কতটা সময় হাঁটছেন, সেই আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো মাথায় আছে কিনা সেটাও খেয়াল রাখতে হবে।

৬) সকালে হাঁটতে যাওয়ার আগে ভারী খাবার একদম দেবেন না। হাঁটতে যাওয়ার আগে বেশি পরিমাণে জল খাওয়া জরুরি যাতে শরীর হাইড্রেটেড থাকে। হাল্কা কিছু খাবার দিতে পারেন, ড্রাই ফ্রুটস থাকলে সেটা খেয়ে হাঁটতে গেলে বেশি ভাল।

elder Care

৭)  বাড়ির বয়স্কদের অতিরিক্ত চিন্তা, মন খারাপ করতে দেখলে কথা বলুন। একটু সময় নিয়ে তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করুন কী সমস্যা হচ্ছে। সম্ভব হলে একটু বেশি সময় তাঁদের সঙ্গে কাটান। ভাল বই পড়া, গান শোনা বা গাছেদের পরিচর্যা করার মধ্যেও বয়স্করা আনন্দ পান, এইসবের ব্যবস্থা থাকলেও ভাল।

৮)  খুব বেশি তাপমাত্রার ফারাক এঁরা সহ্য করতে পারেন না। তাই অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডা, কোনওটাই যেন না লেগে যায় তা দেখতে হবে।

৯) হাতের কাছে রাখতে হবে তাঁদের চিকিৎসার প্রয়োজনীয় উপাদান ও চিকিৎসকের ফোন নম্বর। কেউ ইনহেলার নিলে, সেটা জায়গামতো রাখতে হবে যাতে দরকারে হাতের কাছেই পাওয়া যায়। কোনও ক্রনিক অসুখ থাকলে তার চিকিৎসা বন্ধ করা যাবে না।

১০) প্রবীণরা যাতে নিজেদের পছন্দের মানুষদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন, গল্প করতে পারেন, সে ব্যবস্থা করে দেওয়া জরুরি।

১১) বয়স ৬০ পার হলেই প্রয়োজনীয় মেডিক্যাল টেস্ট করিয়ে নিন। কী কী টেস্ট করাবেন? ব্লাড সুগার টেস্ট, লিপিড প্রোফাইল টেস্ট, হাই ব্লাড প্রেশার, পিএসএ (PSA) টেস্ট, থাইরয়েড টেস্ট।