ওবেসিটি থেকেই সুগার-প্রেশার-কোলেস্টেরল, ওজন বাড়ানো মোটেই চলবে না

গুড হেলথ ডেস্ক

ওবেসিটি (Obesity) বাড়ছে। বাংলায় শহরাঞ্চল শুধু নয়, গ্রামাঞ্চলের মানুষজনও ওবেসিটির শিকার। ভুঁড়ি বাড়ছে, আর তার থেকে সুগার-প্রেশার-হাইপারটেনশন-কোলেস্টেরলের বাড়বাড়ন্ত। আইসিএমআরের সাম্প্রতিক সমীক্ষা বলছে, শহরের প্রতি দু’জনের মধ্যে একজনেরই ভুঁড়ি রয়েছে, যা রীতিমতো উদ্বেগজনক।

স্থূলত্বের কারণে শরীরে নানা রোগ বাসা বাঁধে। হার্টের ক্ষমতা কমেফুসফুসের কার্যকারিতা কমে। ফ্যাটি লিভারলিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হন অনেক রোগীই। অধিক স্থূলত্ব থেকে ডায়াবেটিসহৃদরোগলিভারখাদ্যনালির রোগ এমনকি হরমোন ক্ষরণেরও তারতম্য দেখা দেয়। শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। তাই ওজন বাড়ানো চলবে না কোনওভাবেই।

Obesity

ওবেসিটি কমাতে নজর দিন ডায়েটে

যে খাবারই খান, তা যেন প্রাকৃতিক ভাবে উৎপন্ন হয়। সোজা কথায় বললে, প্যাকেটজাত বা প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চেষ্টা করুন পাতে টাটকা ও প্রাকৃতিক খাবার রাখতে। প্রক্রিয়াজাত খাবারে অতিরিক্ত চিনি ও লুকনো ট্রান্স ফ্যাট মেদ জমায়।

Bad diet

আজকাল প্যাকেটজাত প্রসেসড মিট খাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। প্রসেসড মিট বেশি খেলে পাকস্থলিতে কিছু ক্ষতিকারক ব্যাকটিরিয়া দ্রুত গতিতে বাড়তে শুরু করে৷ যা মাংসের কারনিটিন নামের উপাদান ভেঙে গিয়ে ট্রাইমিথাইল্যামিন যৌগে পরিণত হয়। রক্তে শোষিত হয়ে, লিভারের বিপাক ক্রিয়ায় ভেঙে ট্রাইমিথাইল্যামিন-এন-অক্সাইডে পরিণত হয় যা হার্টের সূক্ষ্ম রক্তনালিতে চর্বি জমিয়ে ইসকিমিক হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। সব রকম খাবারই রাখতে হবে খাদ্যতালিকায়। তাতে যেমন প্রোটিন থাকবে, তেমনই ফ্যাট ও শর্করাও। সবই রাখতে হবে পরিমাণ মতো। সে ক্ষেত্রে ফ্যাট নিতে হবে প্রয়োজনীয় মাছ-মাংস বা রান্নায় যেটুকু তেল লাগছে তা থেকেই। বাড়তি ফ্যাটযুক্ত খাবার তালিকায় না রাখাই ভাল।

ওবেসিটি থেকে বাঁচতে নরম পানীয়ে লাগাম টেনেছেন অনেকেই, তবে প্রাণে ধরে ছেড়ে দিতে পারেননি। অনেকে আবার কৌশল করে ডায়েট পানীয় বেছে নিয়েছেন। বিপদ কিন্তু সবেতেই। মেদবৃদ্ধি শুধু নয়, নরম পানীয় হার্টের রোগের ঝুঁকি ৪৮ শতাংশ বাড়িয়ে দেয়। ডায়েট পানীয়ে ক্যালরির পরিমাণ কম থাকে ঠিকই, কিন্তু অ্যাডেড সুগার শরীরে ক্ষতি করে। ডায়েট পানীয়কে সংরক্ষণের জন্য প্রিজারভেটিভ যোগ করা হয়, যার থেকে অ্যালঝাইমার্সের মতো অসুখ হানা দিতে পারে।

 Eating junk food

আসলে এটা খাব না, ওটা খাব না শুনতে যেমন ভাল লাগে, কাজের বেলায় তা খুব একটা হয় না। ভাজাভুজি, নরম পানীয়, আইসক্রিম, চকোলেট দেখলেই মন ছোঁকছোঁক করে। আসলে মেদ ঝরাতে গেলে যে সব খাবারে নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দিতে হবে তেমনটা নয়। পরিমান মতো মেপে খেলেই কোনও অসুবিধা নেই। তবে এই পরিমাণের মাপকাঠি সবার কাছে এক রকম নয়। গণ্ডগোলটা তৈরি হয় সেখানেই। নিয়মিত শরীরচর্চা করলে যে কোনও খাবারই খাওয়া যায়, তবে হ্যাঁ কিছু খাবারে লাগাম টানতে হবে অবশ্যই। শুধুমাত্র রোগা হওয়ার জন্য নয়, শরীর ঠিক রাখার জন্যও বটে।