বাংলার শহরাঞ্চলে প্রতি দু’জনের মধ্যে একজনেরই ভুঁড়ি, বাড়ছে সুগার-প্রেশার: আইসিএমআর

গুড হেলথ ডেস্ক

পেটটা (Belly Fat) যেন ঠেলে বেরিয়ে আসছে। প্যান্টের বোতামও আঁটছে না। বেল্ট আঁটতে গেলেই হাঁসফাঁস দশা। উঠতে-বসতে শরীরটা যেন গড়িয়ে যাচ্ছে। বেশি হাঁটাচলা করলেই হাঁফ ধরছে। এখনকার চেনা ছবি এটাই। হাসি মজার ব্যাপার নয়। ওবেসিটি রীতিমতো চিন্তার কারণ হয়ে উঠছে (Obesity)। সম্প্রতি ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর) (ICMR) একটি সমীক্ষা চালিয়েছে, তাতে দেখা গেছে বাংলাতে পুরুষ ও মহিলাদের মধ্যে ওবেসিটি মারাত্মকভাবে বাড়ছে। শহরাঞ্চলে তো বটেই, গ্রামাঞ্চলগুলিও পিছিয়ে নেই।

 obese people

সমীক্ষা বলছে, রাজ্যের শহরগুলিতে প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষের অ্যাবডমিনাল ফ্যাট রয়েছে। মানে হল মেদের আধিক্য, ভুঁড়ি। রেশিও হল ২:১, মানে প্রতি দু’জনের মধ্য়ে একজনেরই ভুঁড়ি রয়েছে। গ্রামে এই রেশিও  ৩:১। অর্থাৎ গ্রামে প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন মানুষের ভুঁড়ি রয়েছে (Obesity)। আইসিএমআরের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিশ্রমবিমুখতা, এক জায়গায় বসে কাজ এবং জীবনযাত্রায় অসংযমই এর কারণ। আগে মানুষজন শারীরিক পরিশ্রম করতেন বেশি, এখন তা খুবই কম হয়। এমনকি গ্রামাঞ্চলগুলিতেও দেখা গেছে, আগের মতো অ্যাকটিভিটি কম। কায়িক পরিশ্রম কম হওয়ায় মেদের আধিক্য় বাড়ছে। তাছাড়া খাওয়াদাওয়ায় অনিয়ম, নেশার প্রকোপ তো রয়েছেই।

Obes

কেন বাড়ছে মেদ?

আইসিএমআরের সমীক্ষা আরও জানাচ্ছে, ওবেসিটি (Obesity) শুধু নয়, সুগার আর প্রেশারও এখন ঘরে ঘরে। ডায়াবেটিসে ভুগছেন বেশিরভাগ মানুষ। হার্টের অসুখ, হাইপারটেনশন, হাই কোলেস্টেরল ঘরে ঘরে। সমীক্ষায় উঠে এসেছে, বাংলার শহরাঞ্চলে প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজনের (১৯.১ শতাংশ) সুগার আছে। গ্রামীণ এলাকায় প্রতি আটজনের (১১.৪ শতাংশ) মধ্যে একজন সুগারের রোগী।

ব্যস্ত দিনে শরীরচর্চার (Fitness) সময় নেই। খিদে পেলেই ঝটাপট ফাস্ট ফুড অর্ডার দিয়ে ফেলছেন। পিৎজা. বার্গার যখন তখন পেটে চলে যাচ্ছে।

Obesity

হরমোনের তারতম্যেও ভুঁড়ি বাড়তে পারে। কখনও অ্যাড্রিনালিন, কখনও সেক্স হরমোন, কখনও বা শরীরে ইনসুলিনের মাত্রার ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। একটি হরমোনের কাজ অন্যটির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। একটির ক্ষরণের তারতম্য হলে অন্যটির কাজও ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ফলে মেটাবলিজম প্রক্রিয়াতে গণ্ডগোল হয়। তখন খাবার ঠিকমতো হজম হয় না, ফ্যাট বাড়তে থাকে।

প্রসেসড ফুডের মধ্যে খুব বেশি পরিমাণ রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট ও সুগার থাকে যা রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। সুগার যদি রক্তে চলে আসে এবং তা জারিত হয়ে এনার্জি তৈরি না হয়, তাহলেই মেদ হয়ে জমতে শুরু করে।

ওবেসিটির কারণেই লিভারের সমস্যা, ফ্যাটি লিভারের অসুখ দেখা দিচ্ছে ঘরে ঘরে। বিএমআই নির্ভর করে তাঁর উচ্চতা ও ওজনের হিসেবের উপরে। সাধারণ ভাবে বিএমআই-এর ঊর্ধ্বসীমা ধরা হয় ২৫। কিন্তু তা ৩০ ছাড়িয়ে গেলে ‘সিভিয়র ওবিসিটি’ বলে ধরা হয়। ফ্যাটি লিভারের রোগীর বিএমআই স্বভাবতই বেশি থাকে। নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারের সব থেকে বড় লক্ষণ মেদবাহুল্য। ভুঁড়ির বেড় যত বাড়বে হৃদযন্ত্রের ওপর তার প্রভাবও বেশি হবে।

ফ্যাটি লিভারের হাত ধরেই হানা দিতে পারে লিভার সিরোসিস। লিভার তার নিজস্ব কর্মক্ষমতা হারিয়ে মৃত্যুর দিকেও ঠেলে দিতে পারে।