জ্বর হলে প্যারাসিটামল খাচ্ছেন? কী ডোজে খেতে হবে, কতদিন?

গুড হেলথ ডেস্ক

এ বারের আবহাওয়ার জন্যই এত সব ঝামেলা। কখনও ভীষণ গরম আবার কখনও ঠান্ডা। সামলে চলতে না পারলেই মুশকিল। এই সময়ে ঘরে ঘরে জ্বর হচ্ছে। আর জ্বর হলেই প্রাথমিকভাবে প্যারাসিটামলের (paracetamol) ওপরেই বেশি ভরসা করি আমরা। তবে জানেন কি, প্যারাসিটামল কী ডোজে খেতে হবে এবং কতদিন? মুটো মুঠো ওষুধ খেলে কিন্তু ভালর থেকে খারাপ বেশি হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোভিড আসার পর থেকে প্যারাসিটামল ওষুধটি আমাদের ঘরে স্থায়ী আস্তানা বানিয়ে ফেলেছে। এখন তো আমরা সামান্য় কিছুতেই ওষুধ ওষুধ খেয়ে ফেলাটা একটা অভ্যাস বানিয়ে ফেলেছি। তবে প্যারাসিটামল (paracetamol) নিরাপদ ওষুধ, কিন্তু নির্দিষ্ট মাত্রায় খেতে হবে।

জ্বর হলে এখন প্যারাসিটামলই প্রাথমিকভাবে খাওয়ার কথা বলা হচ্ছে। ডাক্তারবাবুরা বলছেন,  জ্বর ১০১-এর বেশি হলে ভাল করে মাথা ধুইয়ে গা মুছতে হবে। জলপট্টি দেবেন। যে করে হোক জ্বরটা নামাতে হবে। এতে না কমলে কিন্তু ডাক্তার দেখাতে হবে। তখন অ্যন্টিবায়োটিক খেতে হতে পারে।

 paracetamol

তিন দিন পর জ্বর না কমলে কিছু রক্ত পরীক্ষা করতে হবে। বুকে কফ বসলে চেষ্ট এক্স-রে করাতে হবে। বিশেষ করে বয়স্কদের। সেই রিপোর্ট দেখে তার পর ডাক্তার অ্যান্টিবায়োটিক দেবেন। নিজে নিজে অ্যান্টিবায়োটিক খাবেন না।

৩ গ্রামের বেশি প্যারাসিটামল খাবেন না। অর্থাৎ আপনি যদি ৬৫০ করে প্যারাসিটামল খান, তবে তা যেন দিনে ৩০০০-এর উপরে না যায়। ৩ গ্রামের হিসাবটা করেই একজন রোগীকে ওষুধ খেতে বলে থাকেন চিকিৎসকেরা। তাই যতবার খুশি খাওয়া চলবে না। এতে রোগীরই ক্ষতি। ডাক্তারবাবুরা বলছেন, গায়ে জ্বর থাকলে প্যারাসিটামল খেতে হবে। অর্থাৎ এসওএসের মতো।

অ্যান্টিবায়োটিক খেতে হলে সঙ্গে সঙ্গে ভিটামিন খেলে বেশি ভাল হবে। আর খাওয়াদাওয়াটাও ভাল করে করতে হবে। এক বারে অনেকটা না খেয়ে একটু একটু করে বারে বারে খান। যা মুখে ভাল লাগে, তাই খান। তেল-মশলা না খেলেই হল।

এই সময় ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়ার উপদ্রব বেড়েছে, তাই মাস্ক পরে রাস্তায় বেরনো উচিত।  পাশাপাশি বাড়িতে পার্সোনাল হাইজিনটা খেয়াল রাখতে হবে। যার হয়েছে তার থেকে দূরে থাকতে হবে। বিশেষ করে বাচ্চা আর বয়স্কদের। বাইরের জোলো হাওয়া লাগতে দেবেন না। মাঝে মাঝে বৃষ্টি হলে দরজা-জানলা বন্ধই রাখুন। তখন আর বাড়ি ফিরে স্নান না করাই ভাল। করলেও ঈষদুষ্ণ জলে স্নান করুন।