Shanghai Lockdown: লকডাউনে বন্ধ সাংহাই বন্দর, ওষুধের কাঁচামালের জোগান কমতে পারে ভারতে

গুড হেলথ ডেস্ক

করোন বাড়ছে চিনে। নতুন করে লকডাউন জারি হয়েছে সাংহাইতে (Shanghai Lockdown)। বর্তমানে সাংহাই ও শেনঝেন দুটি বন্দরই বন্ধ রয়েছে। ফলে ওষুধের আমদানিতে টান পড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

ওষুধ ও তার কাঁচামালের ব্যাপারে চিনের ওপর নির্ভরশীল বিশ্বের অনেক দেশই। ভারতও তাদের মধ্যে একটি। বিশ্বের বাজারে তৃতীয় বৃহত্তম ওষুধ সরবরাহকারী দেশ হল ভারত। ওই ওষুধ তৈরির প্রায় ৭০ শতাংশ উপাদান, কাঁচামালই আসে চিন থেকে। লকডাউনের কারণে চিনের দুটি বৃহত্তম সমুদ্র বন্দর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চিন্তা অনেকটাই বেড়েছে।

অ্যান্টিবায়োটিক, ভিটামিন, স্টেরয়েড, অ্যান্টি-ডায়াবেটিক, হৃদরোগের ওষুধ, ব্যথার ওষুধের মতো নানা ধরনের ওষুধের উপাদানের (অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রিডিয়েন্টস বা ‘এপিআই’) জন্য মূলত চিনের উপর নির্ভর করে ভারত। কিন্তু চিনে নতুন করে লকডাউন জারি হওয়ায় সে দেশের অধিকাংশ ওষুধ ও কাঁচামালের কারখানায় উৎপাদন বন্ধ। পাশাপাশি বন্ধ সমুদ্র বন্দরগুলিও।

Heart Attack: গরমে হিট স্ট্রোকের থেকেও বড় ভয় হার্ট অ্যাটাক, কারা সাবধান হবেন

ম্যানকাইন্ড ফার্মার একজিকিউটিভ চেয়ারম্যান আরসি জুনেজা বলছেন, সমুদ্রপথে আমদানি বন্ধ। লকডাউন না ওঠা অবধি চিন থেকে ওষুধ তৈরির কাঁচামাল নিয়ে আসা সম্ভব নয়। অ্যান্টিবায়োটিক, ডায়াবেটিস ও কার্ডিওভাস্কুলার ওষুধের বেশিরভাগ কাঁচামালই চিন থেকে নিয়ে আসে ভারত।

ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলি জানাচ্ছে, যে সব ওষুধের উপাদান চিন থেকে আমদানি করা হয়, তার মধ্যে বেশিরভাগই বন্ধ হয়ে গেছে। ভারতে যত অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হয়, তার ৯০ শতাংশ আসে চিন থেকে। ৯০-এর দশক পর্যন্ত এর অনেকটাই ভারতে তৈরি হত। তার পর চিন এত কম দামে তা দিতে শুরু করে যে, ভারতের কারখানাগুলি একে একে বন্ধ হয়ে যায়। ভারতে প্রতি বছর ওষুধের যা কাঁচামাল আমদানি হয় তার ৭০ শতাংশ আসে চিন থেকে।

ফার্মাসিউটিক্যাল এক্সপোর্ট প্রোমোশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান দীনেশ দুয়া বলছেন, চিন থেকে ওষুধের যত কাঁচামাল আসে তার ২০-৩০ শতাংশ কার্গো ফ্লাইটে নিয়ে আসে ভারত, বাকি ৭০ শতাংশ আসে সমুদ্রপথে। কিন্তু লকডাউনের কারণে সে পথ এখন বন্ধ। ফলে প্যারাসিটামল, অ্যান্টি-অ্যাসিড (র‍্যান্টিডিন), অ্যান্টি-ডায়াবেটিক (মেটাফরমিন), অ্যান্টিবায়োটিক (সিপ্রোফ্লোক্সাসিন, অফ্লোক্স্যাসিন) , ভিটামিন (অ্যাসকরবিক অ্যাসিড), অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধের ভাঁড়ারে টান পড়তে পারে।