ঘুমের মধ্যে কেন বন্ধ হয় শ্বাস, ‘দুষ্টু’ প্রোটিনকে কব্জা করে স্লিপ অ্যাপনিয়া সারাবেন বিজ্ঞানীরা

গভীর ঘুমের মধ্যেই দম বন্ধ হয়ে আসে। শ্বাসের গতি অনিয়মিত হয়ে যায়। কখনও আচমকা দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হতে পারে রোগীর। স্লিপিং ডিজঅর্ডার থাকলে শ্বাসপ্রক্রিয়া (Sleep Apnea) বাধা পায়। শ্বাস নিতে ও ছাড়তে সমস্যা হয়। অনেকে ঘুমিয়ে নাক ডাকেন। নাক ডাকার সময়েও আচমকা দম বন্ধ হয়ে আসতে পারে। শ্বাসজনিত এই সমস্যাকেই বলে অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া। বিশ্বজুড়ে স্লিপ অ্যাপনিয়া নিয়ে সচেতনতার প্রচার হচ্ছে। শারীরিক এই সমস্যাকে অবহেলা করতে বারণ করছেন ডাক্তারবাবুরা।

ঘুমিয়ে পড়ার পর এমনিতেই ঘাড় ও গলার পেশি শিথিল থাকে, সুতরাং হঠাৎ করে যদি শ্বাস প্রক্রিয়া বাধা পেয়ে শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায় তাহলে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা থাকে। অথবা দমবন্ধ হয়ে মৃত্যুও হতে পারে। স্লিপ অ্যাপনিয়াতেই মৃত্যু হয়েছিল সুর সম্রাট বাপ্পি লাহিড়ীর। মেদবাহুল্য, শ্বাসযন্ত্রের রোগ থাকলে স্লিপ অ্যাপনিয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। 

Sleep Apnea

স্লিপ অ্যাপনিয়া (Sleep Apnea) সারানোর তেমন কোনও চিকিৎসা পদ্ধতি নেই। সাধারণত সি-প্যাপ থেরাপি করেন ডাক্তারবাবুরা। মুখোশের মতো দেখতে যন্ত্রটা ঘুমনোর সময় পরে থাকতে হয়। সি-প্যাপ পরা থাকলে শ্বাসনালীর বাধা কাটিয়ে অক্সিজেন স্বাভাবিকভাবে ঢুকতে পারে। শ্বাসকষ্টের সমস্যা কমে। রোগীর ঘুমের মধ্যে হার্ট ফেলিওরের সম্ভাবনা অনেক কমে যায়। কিন্তু আর কীভাবে এর চিকিৎসা করা যায়, সে নিয়ে গবেষণা চলছে। তাতেই গবেষকরা খুঁজে পেয়েছেন এমন একধরনের প্রোটিন যাকে নিয়ন্ত্রণ করে শ্বাসজনিত এই অসুখকে বাগে আনা সম্ভব।

দুষ্টু প্রোটিনকে ঘায়েল করবেন বিজ্ঞানীরা

জন হপকিনস মেডিসিনের গবেষক লেনিস কিম বলেছেন, TRPM7  নামে একধরনের প্রোটিন আছে যা শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি নিয়ন্ত্রণ করে (Sleep Apnea)। এই প্রোটিনই ঘুমের মধ্যে শ্বাসের কমা-বাড়া নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ‘জার্নাল অব ফিজিওলজি’ মেডিক্যাল জার্নালে এই গবেষণার খবর ছেপেছেন বিজ্ঞানীরা। 

Central sleep apnea

ওবেসিটি রয়েছে এমন ইদুরের শরীরের এই প্রোটিনের গতিবিধি পরীক্ষা করেছেন বিজ্ঞানীরা। তাতে দেখা গেছে, ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হওয়ার কারণই হচ্ছে এই প্রোটিন।

কোন চ্যানেলের মধ্যে এই প্রোটিনের গতিবিধি রয়েছে, সেটা চিহ্নিত করে প্রোটিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ  করে স্লিপ অ্যাপনিয়ার (Sleep Apnea) সমস্যা কমানো যেতে পারে বলে দাবি বিজ্ঞানীদের। 

বিজ্ঞানীরা বলছেন, পলিসমনোগ্রাফি করে দেখা হয় রোগীর স্লিপ অ্যাপনিয়া আছে কিনা। এক্ষেত্রে রোগীকে কয়েক ঘণ্টার জন্য ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়। সে সময় দেখা হয়, শরীরে কতটা অক্সিজেন ঢুকছে, কতবার ঘুম ভাঙছে রোগীর, দম আটকে যাচ্ছে কিনা, কীভাবে নাক ডাকার আওয়াজ হচ্ছে ইত্যাদি। স্লিপ এন্ডোস্কোপি করেও দেখা যায়। সেক্ষেত্রে রোগীকে অজ্ঞান করে এন্ডোস্কোপ ঢুকিয়ে দেখা হয়, শ্বাসনালীর কোথায় বাধা তৈরি হয়েছে। সেই মতো চিকিৎসা শুরু করা হয়। সেক্ষেত্রে যদি প্রোটিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তাহলে পাকাপাকিভাবে স্লিপ অ্যাপনিয়ার সমস্যা থেকে রেহাই পাবে রোগী।

এরই পাশাপাশি ওজন কমানোর পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে। স্লিপ অ্যাপনিয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হতে পারে ওবেসিটি। তাই নিয়মিত যোগব্যায়াম, পুষ্টিকর খাবার জরুরি। ওজন কমালে স্লিপ অ্যাপনিয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমে।
থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে টেস্ট করিয়ে ডাক্তারের পরামর্শ মতো ওষুধ খেতে হবে, ডায়াবেটিসের রোগীদেরও তাই। হাই ব্লাড-প্রেশার থাকলে সঠিক ডায়েট মেনে চলতেই হবে। ধূমপান নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে, অ্যালকোহলের নেশা কমিয়ে ফেলাই ভাল।