পুরুষদের স্পার্ম কাউন্ট কমছে বিশ্বজুড়ে, বাড়ছে বন্ধ্যত্ব, উদ্বেগের কথা জানাল হু

গুড হেলথ ডেস্ক

স্পার্ম কাউন্ট (Sperm Count) কমছে। বন্ধ্যত্বের শিকার হচ্ছে পুরুষরা। বিশ্বজুড়ে সমীক্ষায় দেখা গেছে, পুরুষদের শুক্রাণুর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে কমতে শুরু করেছে। ইরেকটাইল ডিসফাংশনের (Erectile dysfunction) মতো শারীরিক সমস্যাও বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। চিন্তার কথা জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)।

দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকা, আফ্রিকা, এশিয়ায় এই সমীক্ষা চালানো হয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশ-উপমহাদেশেও সমীক্ষা চলছে। নিউ ইয়র্ক, জেরুজালেম, ডেনমার্ক, ব্রাজিল, ইজরায়েলের গবেষকরা একসঙ্গে সমীক্ষা চালিয়েছেন। তাতেই এই ভয়ঙ্কর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। 

Sperm count

কেন কমছে স্পার্ম কাউন্ট (Sperm Count) ?

গবেষণা বলছে, রোজকার কাজের চাপ, স্ট্রেস, আর তার মোকাবিলায় ধূমপান শুক্রাণুর ক্ষতি করে পুরুষদের বন্ধ্যত্বের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। খুব বেশি জাঙ্ক ফুড খেলেও একই সমস্যা। পাশাপাশি পুরুষের শারীরিক সম্পর্কের অক্ষমতা (Male Infertility) বাড়ছে।

গবেষকরা বলছেন, অনেক কারণ থাকতে পারে–

একজন পুরুষের ওজন যত বেশি, প্রজননজনিত প্রতিবন্ধকতা তাঁর ক্ষেত্রে তত বেশি। গবেষণা বলছে, একজন পুরুষের বিএমআই ইনডেক্স ৩০ বা তারও বেশি হলে স্পার্ম কাউন্ট কমতে থাকে (Male Infertility)। বেশি ওজন যুক্ত পুরুষের ফার্টিলিটি কেন কমে এ বিষয়ে মতভেদ আছে। গবেষকদের একাংশের মত, বাড়তি ওজন ও মেদ জননাঙ্গের কাছে জমা হয়ে শারীরিক তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে, যাতে স্বাস্থ্যকর শুক্রাণুর সংখ্যা ও গতিশীলতা বা গতিবেগ কমে যায়।

Significant decline in sperm counts

কারণ আরও আছে। মানসিক চাপ ও টেনশন অন্যতম কারণ। ইনফার্টিলিটি বা ইরেকটাইল ডিসফাংশনে যাঁরা ভোগেন তাঁদের বেশিরভাগকেই দেখা গেছে, লাইফস্টাইল ম্যানেজমেন্ট ঠিকমতো নেই। দিনে ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা কাজ করেন। বাড়ি ফিরেও ডেডলাইন নিয়ে কাজ করেন। সঠিক সময় খাওয়া নেই, পর্যাপ্ত ঘুম নেই, দিনভর শরীরে ক্লান্তি থাকে। ডেডলাইনের চক্করে তাঁদের মাথায় কাজ ছাড়া আর কিছুই থাকে না। মানসিক চাপ ডেকে আনতে পারে অনিদ্রা ও হরমোনের ভারসাম্যের সমস্যা। ফলে সমস্যা দেখা দিতে পারে যৌনজীবনেও।

নিয়মিত ধূমপানের (Smoking) প্রভাব পড়ে শুক্রাশয়ে। শুক্রাণু দুর্বল হয়। ধূমপানের ফলে শরীরে ক্যাডমিয়াম ও জিঙ্কের মতো ক্ষতিকর ধাতু ঢোকে, এই ধাতুগুলো শুক্রাশয়ের ওপর প্রভাব ফেলে। ধূমপান করলে স্পার্ম কাউন্ট (Sperm Count) কমে যেতে পারে। চেন স্মোকারদের পরবর্তী সময়ে ইরেকটাইল ডিসফাংশন, সহবাসে অক্ষমতা আসতে পারে।

মদ্যপান ও অস্বাস্থ্যকর খাওয়ার অভ্যাস শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমিয়ে দিতে পারে। 

ছোটবেলায় যৌনাঙ্গে আঘাত লাগলে তার থেকে পরবর্তী সময়ে সমস্যা আসতে পারে।বেশ কিছু ওষুধ স্পার্ম কাউন্ট কমায়। তাই ডাক্তারকে না জানিয়ে নিজে নিজে ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস ছাড়তে হবে।

বহুগামিতা ও অসংযমী জীবনযাপনও বড় কারণ। এখনকার সময় জীবনযাপনে অসংযমই বেশি। তাই স্পার্ম কাউন্টও কমে যাচ্ছে আশঙ্কাজনকভাবে।

স্পার্ম কাউন্ট ও স্পার্ম কোয়ালিটি বা গুণমান গ্রহণযোগ্য মাত্রায় থাকলে ইরেকটাইল ও ইজাকুলেটারি সমস্যায় ভোগা পুরুষদের সাহায্য করা সম্ভব। সমস্যার কারণ বিচার করে হয় অস্ত্রোপচার ও ইকসি (আই সি এস আই) আই ভি এফ-এর মাধ্যমে স্পার্ম পুনরুদ্ধার করে প্রেগন্যান্সি অথবা ওষুধ প্রয়োগে পুরুষটির ইরেকশন করানো যেতে পারে। রেট্রোগেড ইজাকুলেশনের সমস্যায় ওষুধ দিতে গতিমুখ পাল্টে দিতে পারলে স্বাভাবিক ভাবে ইজাকুলেশন হতে শুরু করে। যদি তাতে কাজ না হয় তবে মূত্র থেকে স্পার্ম পুনরুদ্ধারের পর আলাদা করে রাখা হয় এবং ইন্ট্রা-ইউটেরাইন ইনসেমিনেশনের সাহায্য নেওয়া হয়।