জন্মেই হাইপারটেনশন? সদ্যোজাতর বিরল অসুখ সারাবে এই হরমোন

গুড হেলথ ডেস্ক

হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপ (Hypertension) এই সময়ের অন্যতম লাইফস্টাইল ডিজিজ। এই মুহূর্তে ভারতের প্রতি তিন জন প্রাপ্তবয়স্কের এক জন উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যায় আক্রান্ত। প্রতি বছর এই সমস্যায় দেশে আড়াই লক্ষের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। প্রাপ্তবয়স্কদের হাইপারটেনশনের ( hypertension in newborns) সমস্যা নতুন নয়, কিন্তু সদ্যোজাতের হাইপারটেনশন বিরলের মধ্যে বিরলতম। এখনকার সময়ে বাচ্চারাও উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুগছে। ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরে সদ্যোজাতের শরীরে অক্সিজেন কম পৌঁছলে এই রোগ হতে পারে।

পুণের ডাক্তাররা জানাচ্ছেন, এখন ছোট বাচ্চারাও উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভোগে। তবে সদ্যোজাতের হাইপারটেনশন বিরল ঘটনাই বটে। হয়ত পাঁচশো জন শিশুর মধ্যে একজনের হতে পারে। বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর শিশুদের ‘হাইপক্সিয়া’, ‘হাইপোটেনশন’ এবং ‘পারসিসটেন্ট পালমোনারি হাইপারটেনশন’ (persistent pulmonary hypertension (PPHN) এর মতো রোগ হতে পারে। হরমোন দিয়ে এর চিকিৎসা সম্ভব। পুণের গবেষকদের দাবি, ‘ভ্যাসোপ্রেসিন’ নামে এক ধরনের হরমোন আছে যা দিয়ে হাইপারটেনশনের থেরাপি সম্ভব। বিশেষ করে সদ্যোজাতের ‘পারসিসটেন্ট পালমোনারি হাইপারটেনশন’-এর চিকিৎসা এই হরমোন দিয়ে করা সম্ভব।

 PPHN

রক্তচাপ কেন বাড়ে (Hypertension)?

যে কোনও সুস্থ মানুষের স্বাভাবিক রক্তচাপ হওয়া উচিত ১৩০/৮০।  সেটা বয়স বা লিঙ্গ নির্বিশেষে সকলেরই জন্যই প্রযোজ্য। কিন্তু যদি এই রিডিং বদলে ১৪০ বা তার বেশি হয়ে যায় তখনই চিন্তার কারণ রয়েছে। প্রেশার যদি ১৪০/৯০এর বেশি হয়, তখন  রক্তচাপ বেড়েছে বলা যায়।  হাইপার টেনশন (হাই ব্লাড প্রেশার) ও হাইপো টেনশন (লো ব্লাড প্রেশার)-এর মধ্যে হাইপার টেনশনের সমস্যাই বেশি দেখা যায়।

হাইপারটেনশন (Hypertension) তখনই হয়, যখন শরীরের রক্তজালকগুলোর মধ্যে চাপ বাড়ে। আমাদের হৃদপিণ্ড হল পাম্পিং মেশিন। যে তার ছন্দে সঙ্কুচিত ও প্রসারিত হয়ে সারা শরীরে রক্ত সঞ্চালন করেন। এই রক্ত শরীরের নানা কোষে, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে ছড়ায় রক্তজালকের মাধ্যমে। কোনও কারণে যদি এই জালকের প্রাচীরে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়, তখন হৃদপিণ্ড স্বাভাবিকভাবে রক্ত সঞ্চালন করতে পারে না। তখনই বুকে ব্যথা, বুক ধড়ফড় ইত্যাদি নানা লক্ষণ দেখা যায় রোগীর। রক্তচাপ বিপদসীমা ছাড়ালে শরীরে অন্যান্য অঙ্গগুলো বিকল হতে শুরু করে।

কিছুদিন আগে দ্য ল্যানসেটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, হাইপারটেনশনের (World Hypertension Day 2022) নিরিখে ভারত অনেকটাই এগিয়ে। এ দেশের ২০ কোটির বেশি মানুষ ভোগেন হাইপারটেনশনে। এ দেশে হাইপারটেনশনে ভোগা ৪০-৬০ শতাংশ রোগীরই কিডনির অসুখে ভুগছেন। চিন্তার ব্যাপার হল, উচ্চ রক্তচাপে ভোগা বেশিরভাগ রোগই জানেন না তাঁদের শরীরে চুপিসাড়ে বাসা বেঁধেছে কিডনির রোগ। আর যেখানে সদ্যোজাত শিশুদেরও ( hypertension in newborns) এই রোগ ধরা পড়ছে, সেখানে বিপদ আরও বেশি। হাইপারটেনশন সরাসরি কিডনিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

মুকেশ আম্বানি সারাদিনে কী কী খান, ওয়ার্কআউট না করেই ১৫ কেজি ওজন ঝরিয়েছেন

ভ্যাসোপ্রেসিন হল অ্যান্টিডাইইউরেটিক হরমোন বা ADH যা আর্জিনিন নামেও পরিচত। এটি একটি পেপটাইড হরমোন। এর কাজ হল, শরীরে জল ধরে রাখা ও রক্তজালককে সংকোচন করা। শরীরে ইলেকট্রোলাইটের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণ করে এই হরমোন। পুণের গবেষকরা বলছেন, এই হরমোন দিয়ে সদ্যোজাত শিশু হাইপারটেনশনের থেরাপি হতে পারে।

গবেষকরা বলছেন, প্রসবের পরেই যদি শিশুর হাইপারটেনশন ধরা পড়ে তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়। চ্যানেলের মাধ্যমে নাইট্রিক অক্সাইড (Nitric Oxide) পাঠানো হয় শরীরে যাতে হার্টের উপর চাপ কমে যায়, রক্ত সঞ্চালন কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে। সদ্যোজাতের  ‘পারসিসটেন্ট পালমোনারি হাইপারটেনশন’ হলে অক্সিজেন এতটাই কমে যায় যে হাইপক্সিয়া দেখা দেয়। মস্তিষ্কের কাজকর্মের জন্য অক্সিজেনের দরকার হয়। এই অক্সিজেন বয়ে নিয়ে যায় রক্তবাহী ধমনী ও হিমোগ্লোবিন। যদি অক্সিজেন মস্তিষ্কে পৌঁছনো বন্ধ হয়ে যায় তাহলে ব্রেন ড্যামেজ হতে শুরু করে। ব্রেন ডিসঅর্ডার তো বটেই, রোগীর প্রাণ সংশয়ের ঝুঁকিও থেকে যায়।