বাচ্চার ঘন ঘন ‘মাসল পেন’ মোটেই ভাল নয়, কী সমস্যা হচ্ছে বলছেন বিশেষজ্ঞরা

গুড হেলথ জেস্ক

৩-১৪ বছরের বাচ্চাদের মধ্যে এই ধরনের ব্যথা দেখা যায়। তাই বাচ্চা পায়ে ব্যথা, টান ধরা বললে তাকে অজুহাত ভেবে এড়িয়ে যাবেন না। সমস্যা গভীরও হতে পারে। ছোটদের এই ধরনের হাতে-পায়ে ব্যথা নাগাড়ে চলতে থাকলে তাকে গ্রোথ পেন ( muscle pain) বলেন ডাক্তারবাবুরা। অনেক সময় পায়ের হাড়েও সমস্যা দেখা দিতে পারে, সে কারণেও ব্যথা হয়। তাই ব্যথার সঠিক কারণ না জানা অবধি, অবহেলা করা ঠিক হবে না। ব্যথা বাড়াবাড়ি রকম বেশি হলে ডাক্তার দেখানো অবশ্যই উচিত।

Growing Leg Pain

গ্রোথ পেন কি ক্ষতিকর?

বাচ্চাদের বেড়ে ওঠার সময়ে বা গ্রোয়িং স্টেজে এই ধরনের ব্যথা বেশি হয়। বেশি খেলাধূলা করলে বা ছোটাছুটি করলে ব্যথা বাড়ে। সব বাচ্চার গ্রোথ পেন ( muscle pain) হয় তা কিন্তু নয়, তবে অনেকের ক্ষেত্রে গ্রোথ পেন বেশি হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক বাচ্চারাই ৩ থেকে ১৪ বছর বয়সে এমন গ্রোথ পেন হতে দেখা যায়। একটা নির্দিষ্ট বয়সের পরে ব্যথা চলেও যায়। তবে চিন্তার ব্যাপার হল, যদি হাড়ের গঠনে কোনও সমস্যা থাকে বা হাড়ে টিউমার বাসা বাঁধে তাহলে সমস্যা গুরুতর। তাই গ্রোথ পেনের জন্য ব্যথা, নাকি অন্য রোগের কারণে, সেটা আগে পরীক্ষা করে দেখা দরকার।

গ্রোথ পেন সাধারণত পায়ের কাফ মাসলেই হয়। তা ছাড়া থাই বা হাঁটুর পিছনের অংশেও শিরায় টান ধরার মতো ব্যথা হতে পারে। এই ধরনের ব্যথা দুই পায়েই হয়। অল্টারনেটলি বা একসঙ্গেও দু’পায়ে হতে পারে। অনেক বাচ্চার পায়ের হাড় বা জয়েন্টের চারপাশে ব্যথা হয়। রাতভর চিনচিনে ব্যথা হতে দেখা যায়। তাই রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে পায়ের ব্যায়াম বা লেগ স্ট্রেচ করার মতো কিছু ব্যায়াম করলে ভাল। এতে পায়ে রক্ত সঞ্চালন ভাল হয়।

 Growing Pains

লক্ষণ কী কী?

জয়েন্টের জায়গাগুলোতে র‍্যাশ হতে পারে। জ্বালাপোড়ার মতো ব্যথা হতে পারে।

ঘন ঘন জ্বর আসতে পারে বাচ্চাদের। শরীর দুর্বল হতে থাকবে। স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ শক্তি কমে যাবে।

জয়েন্টগুলোতে ফোলাভাব দেখা দেবে, লাল হয়ে যেতে পারে।

খিদে কমবে, শরীরে অস্বস্তি দেখা দেবে।

অস্থিসন্ধি স্টিফ বা শক্ত হতে থাকবে। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার পরে উঠতে সমস্যা হবে। চলাফেরা করলে ব্যথা হবে। দৌড়োবার সময় হাঁটুতে ব্যথা হতে পারে।

হাত-পায়ের নমনীয় ভাব চলে যাবে। গাঁটে গাঁটে অসহ্য ব্যথা শুরু হবে।

ডাক্তারের কাছে যাওয়ার আগে ঘরে কী কী করবেন বাবা-মায়েরা

আগে বাড়িতেই বাচ্চার পায়ের যত্ন নিতে পারেন। ব্যথা ক্রনিক হতে থাকলে তখন ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

গরম জলে সেঁক দিলে সবচেয়ে বেশি আরাম পাবে বাচ্চা। কখনও গরম জলে সামান্য নুন ফেলে দিয়ে বাচ্চাকে হাঁটু অবধি পা ডুবিয়ে থাকতে বলবেন। এতে পায়ের আরাম হবে। জয়েন্টে ব্যথা থাকলেও কিছুটা আরাম পাবে বাচ্চা।

হট প্যাড দিয়েও আরাম পাবে বাচ্চা।

পায়ে হাল্কা করে ম্যাসাজ করে দিলে রক্ত সঞ্চালন ভাল হবে, ব্যথা হবে না।

কখনওই জোরে জোরে হাত-পা টিপবেন না বা ম্যাসাজ করবেন না।

ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে কোনও ওষুধ খাওয়াবেন না।