কোন ব্লাড গ্রুপের ডায়েট কেমন? আপনারটা মিলিয়ে নিন

গুড হেলথ ডেস্ক

ওজন কমানোর জন্য লো ক্যালরি ডায়েট (Diet) মেনে চলতে হবে। এই মিথের পিছনে আমরা সকলেই ছুটি। কিন্তু লো ক্যালরি ডায়েট ঠিক কাকে বলে? ঠিক কতটা ক্যালরি আমাদের প্রয়োজন প্রতি দিন? তা হলে জেনে রাখুন এর কোনও নির্দিষ্ট হিসেব নেই। বেশ কিছু বিষয়ের ওপর নির্ভর করে দৈনন্দিন ক্যালরির পরিমাণ। রোজ আমরা কী খাচ্ছি, কতটা খাচ্ছি, সেই খাবার থেকে শরীরে কতটা পুষ্টি উপাদান যাচ্ছে আর কতটা খারাপ জিনিস ঢুকছে, তার সঠিক পরিমাণ বের করে সুষম খাবারের তালিকা তৈরি করার নামই ডায়েট (Blood Type Diet)।

আমরা জানি উচ্চতা, ওজন, শারীরিক অবস্থা, কোনও অসুখবিসুখ আছে কিনা ইত্যাদি দেখে ডায়েট চার্ট করেন পুষ্টিবিদরা। তবে গবেষকরা বলছেন, শুধু উচ্চতা-ওজন অর্থাৎ বিএমআই ইনডেক্স দেখে নয়, রক্তের গ্রুপ দেখেও ডায়েট চার্ট দেওয়া উচিত। রক্তের গ্রুপ যেমন, ডায়েটও (blood type diet) হবে তেমনই। তাহলেই নাকি শরীর বেশি সুস্থ হবে এবং ডায়েটে কাজও হবে বেশি।

ধরুন, যার রক্তের গ্রুপ A+ তার ডায়েট (blood type diet) একরকম হবে, যার O+ তার ডায়েট কিন্তু আলাদা হওয়া উচিত। অর্থাৎ গবেষকদের মতে, রক্তের শ্রেণিবিন্যাস বা ব্লাড গ্রুপ দেখে ডায়েট ঠিক করা উচিত।

ও+, ও-, এ+, এ-, বি+, বি-, এবি+ এবং এবি- প্রতিটি ব্লাড গ্রুপের থাকে আলাদা আলাদা বৈশিষ্ঠ্য। মাথায় রাখতে হবে যে কিছু কিছু রক্তের গ্রুপে আবার রোগের আশঙ্কা থাকে বেশি। এই যেমন এ, বি এবং এবি গ্রুপের রক্তের হার্টের অসুখ বেশি হয়।

আবার দেখা গেছে, রক্তের শ্রেণিবিন্যাস চিহ্নিত করে যে এবিও (ABO) জিন, তার উপরে নির্ভর করে কোন ব্যক্তির শরীরে সংক্রমণ চট করে ধরে নেবে, আর কার শরীরে সংক্রমণের ঝুঁকি তেমনভাবে নেই।  এই এবিও জিন (আলফা ১-৩-এন-অসিটাইলগ্যালাকটোসামিনাইলট্রান্সফারেজ এবং অলফা ১-৩ গ্যালাকটোসিল ট্রান্সফারেজ) হল প্রোটিন-কোডিং জিন। এই জিন এবিও ব্লাড গ্রুপ (ABO Blood Group) নির্ধারণ করে। রক্তের এই শ্রেণিবিন্যাস নির্ভর করে লোহিত রক্ত কণিকা বা এরিথ্রোসাইটের উপর। লোহিত রক্তকণিকার সারফেসে উপস্থিত অ্যান্টিজেন এ বা অ্যান্টিজেন বি-এর উপস্থিতি বা অনুপস্থিতির উপরেই নির্ভর করে রক্তের গ্রুপ টাইপ এ, টাইপ বি, টাইপ এবি বা টাইপ ও।

মার্কিন বিজ্ঞানীদের একটা গবেষণা বলছে, রক্তের গ্রুপ যদি ‘এ’ (A) হয়, তাহলে ব্রেন স্ট্রোকের (Brain Stroke) আশঙ্কা আছে। যদি লাইফস্টাইলে অনিয়ম বাড়তেই থাকে তাহলে এই রক্তের গ্রুপের লোকজনদের কম বয়সেই স্ট্রোক হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ‘এ’ রক্তের গ্রুপ হলে কমবয়সে স্ট্রোকের ঝুঁকি ১৮ শতাংশ, আর ‘ও’ রক্তের গ্রুপ হলে স্ট্রোকের সম্ভাবনা ১২ শতাংশ। তাই এই গ্রুপের রক্ত যাঁদের, তাঁদের খাওয়াদাওয়া একটু বুঝেশুনেই করতে হবে।

জেনে নিন কোন ব্লাড গ্রুপের ডায়েট (blood type diet) কেমন হবে?

ব্লাড গ্রুপ A— রক্তের গ্রুপ অনুযায়ী ডায়েটকে বলে ব্লাড টাইপ ডায়েট (Blood Type Diet)। রক্তের গ্রুপ A টাইপ হলে মাংস থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন। বরং আপনি খেতে পারেন নানা ধরনের বিনস ,হোল গ্রেইন, ফল, সবজি। এই খাবারগুলি আপনাকে সুস্থ থাকতে সাহায্য করবে। মাথায় রাখতে হবে যে এই গ্রুপের রক্ত থাকা মানুষ খুব বেশি সংবেদনশীল হন।

এছাড়া ওজন কমাতে চাইলে খেতে হবে সি ফুড, নানা সবজি, অলিভ তেল, সয়াবিন ইত্যাদি। তবে দুগ্ধজাত খাবার, গমের জিনিস কম খাওয়াই ভাল।

 Blood Type Diet

ব্লাড টাইপ B— বি টাইপের রক্ত বহু মানুষের রয়েছে। এবার মাথায় রাখতে হবে যে এই ব্লাড গ্রুপের ডায়েট কেমন হবে। মাংস থেকে শুরু করে দুগ্ধজাত খাবার, সি ফুড, দানা শস্য, সবই খেতে পারেন এই রক্তের গ্রুপ থাকলে। বেশি করে খাবেন সবুজ শাকসব্জি, ডিম। তবে খাওয়া যাবে না চিকেন, ভুট্টা, পিনাট, গম ইত্যাদি।

ব্লাড টাইপ O— হাই প্রোটিন ডায়েট এই ব্লাড গ্রুপের জন্য ভাল। বেশি করে মাছ, মাংস খান। এছাড়া খেতে পারেন সবজি ও ফল। নানা ধরনের শস্য, বিনস জাতীয় খাবার কম খেতে হবে। সি ফুড, রেড মিট, ব্রকোলি, পালংশাক খেতে পারেন। দুগ্ধজাত খাবার, ভুট্টা, সব ধরনের ডেয়ারি প্রোডাক্ট কম খাওয়াই ভাল।

ব্লাড টাইপ AB—  দুগ্ধজাত খাবার, টোফু, মাছ, বিভিন্ন ধরনের ডাল, সব্জি ও ফল এই ব্লাড গ্রুপের ডায়েটে থাকা উচিত। ওজন কমাতে চাইলে খেতে পারেন টোফু, সি ফুড, নানারকম সবুজ শাকসব্জি। এছাড়া চিকেন, বিনস কম খাওয়াই ভাল (Blood Type Diet)।

ব্লাড টাইপ ডায়েট নিয়ে এখন নানা গবেষণা চলছে। ভবিষ্যতে এই ডায়েটের পদ্ধতি নিয়ে আরও বিস্তারিত গবেষণামূলক তথ্য পাওয়া যাবে।

এই ব্লাড গ্রুপ থাকলে কম বয়সে স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি! হাইরিস্কে কারা?