সাপে কাটলে ওঝা নয় ডাক্তার দেখান, প্রাথমিক চিকিৎসা কী

গুড হেলথ ডেস্ক গুড হেলথ ডেস্ক

বর্ষার সময় সাপের উপদ্রব বাড়ে। বিশেষ করে গ্রামবাংলায় এই সময় সাপের ছোবলে (Snake Bite) রোগী মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ে। বিষধর সাপ কাটলে (Snake Bite) তার চিকিৎসা অতি দ্রুত হওয়া দরকার। বেশিরভাগ সময়েই দেখা যায়, সাপে কাটা রোগীকে দীর্ঘক্ষণ ফেলে রাখা হয়। অথবা কোনও ওঝা বা তান্ত্রিকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। ডাক্তারবাবুরা বলছেন, সাপে কাটলে দেরি না করে ডাক্তার দেখান। সাপে কাটা রোগীকে আট ঘণ্টার মধ্যে ‘এএসভি’ (অ্যান্টি স্নেক ভেনম) দেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু বহু ক্ষেত্রেই সময়ের মধ্যে সেটি দিতে না পারায় রোগীর প্রাণসংশয় হয়।

চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, সাপে কাটা রোগীকে অবশ্যই ‘এএসভি’ দিতে হবে। নিউরোটক্সিন বিষ ধীরে ধীরে তাঁর প্রভাব বাড়ায়। সাপে কাটা রোগী সময় মত হাসপাতালে এলে সে ক্ষেত্রে ১০-৩০ ভায়েল এএসভি দিয়ে তাঁদের বাঁচানো যায়। এ ক্ষেত্রে প্রায় তিনগুণের বেশি এএসভি লাগে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাপে কাটা রোগীকে বাঁচানোর একমাত্র উপায় হল দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া। এখন প্রায় সব হাসপাতালেই সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসার মতো পরিকাঠামো আছে। জেলাস্তরেও আছে। শুধু সঠিক সিদ্ধান্ত, সময়ের মধ্য়ে পদক্ষেপ নিলে রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হতে পারে। তার আগে রোগীর প্রাথমিক চিকিৎসাটুকু সেরে রাখলে বিপদের ঝুঁকি আরও কমে।

Snake Bites

সাপে কাটলে প্রাথমিক চিকিৎসা কী?

১) সাপে কাটা (Snake Bite) রোগীকে ৮ ঘণ্টার মধ্যে ‘এএসভি’ (অ্যান্টি স্নেক ভেনম) দিতে হবে। বেশি দেরি হলে রোগীর প্রাণ সংশয় হতে পারে।

২) গোখরো, শঙ্খচূর, কালাচের মতো সাপ কামড়ালে বেশি দেরি করা চলবে না। অ্যান্টি স্নেক ভেনম নিতে যত সময় লাগবে তার আগে ‘ভ্যারেসপ্লেডিব মিথাইল’ ট্যাবলেট খেয়ে নিলে ঝুঁকি এড়ানো যাবে।

৩) ডাক্তাররা বলছেন, বিষধর সাপে কামড়ানোর ১০০ মিনিটের মধ্যে পরিমাণ মতো ওষুধ দিলে রোগীকে বাঁচানো যেতে পারে। ওটাই প্রাইম টাইম। তাই একেবারেই দেরি করা চলবে না।

৪) যে জায়গায় সাপ ছোবল দেবে শরীরের সেই অংশটা বেশি নাড়াচাড়া করবেন না। ক্রেপ ব্যান্ডেজ বা হাল্কা কাপড় দিয়ে ভাল করে বাঁধা যেতে পারে। ঠিক যে ভাবে হাত-পা ভেঙে গেলে ব্যান্ডেজ করা হয়। বাঁধন এমনভাবে দিতে হবে, যেন তা খুব আঁটসাঁট বা ঢিলে কোনওটাই না হয়। খুব বেশি শক্ত করে বাঁধলে আক্রান্ত অঙ্গে রক্ত চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। যেহেতু মাংসপেশির সংকোচনে বিষ দ্রুত শরীরে ছড়িয়ে পড়ে, তাই সাপে কাটার জায়গা বেশি নড়াচড়া করা উচিত নয়।

৫) পিঠে বা পায়ে সাপে কামড়ালে রোগীকে শুইয়ে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। বেশি হাঁটাচলা করা রোগীর পক্ষে বিপজ্জনক হতে পারে।

৬) সাপের ছোবলের জায়গায় ক্ষতের মুখ ভাল করে অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে মুছিয়ে দিতে হবে। ক্ষতের জায়গায় জরিবুটি, গোবর বা ওই জাতীয় জিনিস লাগালে সংক্রমণ ছড়াতে শুরু করবে।

কনুইয়ের ব্যথায় কাবু, টেনিস এলবোর চিকিৎসা কী