এইসব কাফ সিরাপ খেলে মরফিনের মতো নেশা হয়! এই রাসায়নিকই চরম ক্ষতিকর

গুড হেলথ ডেস্ক

আফ্রিকার গ্যাম্বিয়ায় কাফ সিরাপ (cough syrup) খেয়ে শিশু মৃত্যুর ঘটনার পরেই হইচই পড়ে যায় বিশ্বে। ভারতে তৈরি চারটি কাশির ওষুধের ওপরেই অভিযোগের আঙুল ওঠে। নড়েচড়ে বসে কেন্দ্রও। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে তড়িঘড়ি নোটিশ জারি করে নিষিদ্ধ করা হয় সেইসব কাশির ওষুধ। যে যে ব্র্যান্ডের কাফ সিরাপ নিষিদ্ধ করা হয় সেগুলির ওপর তদন্ত শুরু করে সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যানডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন বা সিডিএসসিও। তদন্তে উঠে আসে চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। কী এমন আছে এইসব কাফ সিরাপে যা মানুষের শরীরে জন্য চরম ক্ষতিকর!

এখন প্রশ্ন হল, সর্দি-কাশি হলেই আমরা ঘন ঘন কাফ সিরাপ (cough syrup)  খেয়ে ফেলি। বাচ্চাদেরও খাওয়াই। ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়ার প্রয়োজন মনে করি না। বিপদটা সেখানেই। আমরা যেসব কাফ সিরাপ ঘন ঘন খাই তার মধ্যেও নানারকম উপাদান থাকে যা মাত্রাতিরিক্ত শরীরে ঢুকলে বিপদ হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু কাফ সিরাপে কোডেইন ( codeine ) নামক এক ধরনের উপাদান থাকে যা শরীরে ঢুকলে নেশার মতো বোধ হয়। স্নায়ুগুলো ঝিমিয়ে পড়তে থাকে। চিন্তাভাবনা গুলিয়ে যায়। ব্রেন সেলগুলোকে কব্জা করে ফেলে এই ধরনের রাসায়নিক উপাদান।

Cough medicine

প্রোমেথাজি়ন ওরাল সলিউশন, কফেক্সমালিন বেবি কাফ সিরাপ, মেকফ বেবি কাফ সিরাপ এবং মাগরিপ এন কোল্ড সিরাপ নামের চারটি কাশির সিরাপের সঙ্গে আফ্রিকার ওই শিশুমৃত্যুর ঘটনার যোগ রয়েছে বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল। এইসব ব্র্যান্ডের কাফ সিরাপেও ওই কোডেইন নামক রাসায়নিক ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোডেইন দেওয়া কাফ সিরাপ অনেকটা মরফিনের মতোই। ১০০ মিলিলিটার কোডেইন দেওয়া কাফ সিরাপ খেলে শরীরে যে প্রভাব পড়ে তা ৩০ মিলিগ্রাম মরফিন ট্যাবলেটের সমান।

শরীরে কোডেইন ঢুকলে কী হতে পারে?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটা নির্দিষ্ট মাত্রার ডোজ আছে সব ওষুধেরই। কিন্তু খাওয়ার সময় সেটা আমরা মাথায় রাখি না। বাচ্চা হোক বা প্রাপ্তবয়স্ক, শরীরের অবস্থা, ওজন, বয়স সব দেখেই ওষুধের ডোজ নির্ধারিত হয়। শরীর কতটা খারাপ হলে কী ডোজে ওষুধ খেতে হবে সেটা ডাক্তারই বলে দিতে পারেন। কিন্তু সর্দি-কাশির ওষুধ বা কাফ সিরাপ (cough syrup)  আমরা ডাক্তারকে না জিজ্ঞেস করেই ইচ্ছামতো ঢেলে খেতে শুরু করে দিই। অজান্তে তার ফলও হয় মারাত্মক।

Codeine Cough Syrup

আর যদি সেই কাফ সিরাপে কোডেইন থাকে তাহলে এর প্রভাব দ্রুত পড়তে শুরু করে। এই ধরনের উপাদান কাশি কমায় না বা হাঁপানির টান কমাতেও এর কোনও কার্যকরী ভূমিকা নেই। উল্টে নিয়মিত কোডেইন শরীরে ঢুকতে থাকলে হার্ট রেট বেড়ে যায়। চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হতে থাকে, ক্লান্তি, ঝিমুনি হয়, হ্যালুসিনেশন হতে থাকে। যদি কোডেইন দেওয়া কাফ সিরাপের ডোজ বেশি হয়, তাহলে কথা জড়িয়ে যেতে পারে, চিন্তাভাবনা গুলিয়ে যায়, রক্তচাপ আচমকা বেড়ে যেতে পারে।

কোডেইন শুধু নয়, অনেক কাফ সিরাপেই ডাইইথিলিন গ্লাইসল কিংবা ইথিলিন গ্লাইসল নামে এক ধরনের রাসায়নিক থাকে। এই জাতীয় রাসায়নিক শরীরে ঢুকলে মস্তিষ্ক ও ফুসফুসের ক্ষতি করতে পারে। কিডনি এবং শরীরের স্নায়ুতন্ত্রেও ক্ষতি করে এই উপাদানটি। ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশনের ন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ মেডিসিনের একটি গবেষণাপত্র বলছে, কাশির ওষুধে ডাইইথিলিন গ্লাইসল বা ইথিলিন গ্লাইসল নামে যে দুটি রাসায়নিক আছে বলে মনে করা হচ্ছে সেগুলি স্বাদে মিষ্টি। একবার খেলে বার বার খাওয়ার ইচ্ছা হয়, অনেকটা নেশার মতো। অধিক মাত্রায় দীর্ঘদিন ধরে শরীরে গেলে স্নায়ুকোষের কাজ নষ্ট হতে শুরু করে। মারাত্মকভাবে মস্তিষ্কের ক্ষতি হয়। বমি, ডায়রিয়া, মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া এইসব উপসর্গ দিয়ে শুরু হয়, শেষে রোগী কোমাতেও চলে যেতে পারে বা রোগীর মৃত্যু হতে পারে।

কাজেই সর্দি-কাশি হলেই ঘন ঘন কাফ সিরাপ (cough syrup)  খাওয়ার অভ্যাস বন্ধ করুন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া বাচ্চাদেরও খাওয়াবেন না।