Acidity: জামাইষষ্ঠীর চর্ব-চোষ্যের পরে চোঁয়া ঢেকুর, গ্যাস-অম্বল সামলাবেন কী করে

গুড হেলথ ডেস্ক

কথাতেই আছে- চর্ব চোষ্য লেহ্য পেয়। জামাইষষ্ঠী মানেই বাঙালি বাড়িতে সাজো সাজো রব। যেন এক মহাযজ্ঞের আয়োজন। কাঁসার থালার (হালে কাঁচের প্লেট) চারপাশে সাজানো হরেক রকম ব্যঞ্জন। অথবা সন-ইন-ল’কে নিয়ে সপরিবার ভূরিভোজ নামীদামি রেস্তোরাঁয়। তারিয়ে তারিয়ে রসাস্বাদন করতে গিয়ে কখন যে পেট রসাতলে যেতে থাকে তা বোঝেন কতজনে! গলা অবধি ঝালেঝোলে অম্বলে খেয়ে তারপর গলা জ্বালায় (Acidity) হাঁসফাঁস করাটা মোটেও কাজের কথা নয়। যে খাবারই পরিবেশন করুন বা খান না কেন, বুঝে না খেলেই সুস্থ শরীর ব্যস্ত হবে।

এলাহি আয়োজনে বাদ পড়ে না কিছুই। একইসঙ্গে মুরগি-মটন, ইলিশ-চিংড়ি, পার্শে-পাবদার সঙ্গেই নানারকম তরকারি, মুড়িঘণ্ট, ভাজাভুজি, শেষ পাতে আবার চাটনি, পায়েস বা দই, মিষ্টি, আম-লিচু বাদ যায় না কিছুই (Acidity)। নানা ধরনের গুরুপাক খাবার একসঙ্গে খেলে বদহজমের ঝুঁকি থাকে। শরীরে অস্বস্তি হয়, পরের দিন অসুস্থ হয়ে পড়ার ভয় থাকে। শুধু জামাই-ই নয়, বাড়ির সবাই এর জন্যেই তা প্রযোজ্য (Acidity)।

 Acidity

পেট ভরে খান ক্ষতি নেই, কিন্তু এর পরের ধাক্কাটা সামলানোই যা ঝক্কি। ভূরিভোজ তো পেটে গেল, এবার? অম্বল-বুক জ্বালা, অ্যাসিডিটি, পেট গুরগুর, পেট খারাপ বাদ যায় না কিছুই। যাদের আবার কোলেস্টেরল বেশি, হজমের সমস্যা আছে বা  ডায়াবেটিসের ফাঁস গলায় লাগিয়ে ঘুরছেন, তাঁদের অবস্থা আরও তথৈবচ। তখন মুঠো মুঠো ওষুধ খাও রে, ডাক্তার-বদ্যি ডাকো রে, সে হরেক জ্বালা!

জামাইষষ্ঠীর পরে অম্বল-বুক জ্বালা সামলাবেন কী করে?

গাদাগুচ্ছের হজমের ওষুধ খাওয়া একেবারেই ভাল অভ্যাস নয়। তার চেয়ে বরং একটু রয়েসয়ে খেলে এবং ভূরিভোজের পরে কিছু নিয়ম মানলে অম্বলের সমস্যা অনেকটাই কম হবে (Acidity)।

 Acidity and Heartburn

জলের ভারসাম্য রক্ষা করতে না পারলে গ্যাস-অম্বলকেও পরাস্ত করা যাবে না। বরং জলই পারে অন্ত্রের কাজকর্মকে ঠিক ভাবে পরিচালিত করতে। তাই জলের অভাব ও তেল-মশলার পর জল খেয়ে নেওয়া এই সব ভুলই ডেকে আনে বদহজমের ঝঞ্ঝাট।

Sigmoid Gangrene: পেটে প্লাস্টিক, পচে গিয়েছিল কোলন, বিরল অসুখ সারাল বোলপুরের হাসপাতাল

ভরপেট খাওয়ার ঘণ্টাখানেক পরে জল খান। মাছ-মাংস ভরপুর খাওয়ার পরে শরবত, কোল্ড ড্রিঙ্কস না খাওয়াই ভাল।

ডুবো তেলে পাঁচ থেকে দশ রকম ভাজা খেয়ে হাঁসফাঁস করছেন। এর পরে কোলার বদলে বরং লেবু-জল খেয়ে নিন (Acidity)।

ঘন ঘন অ্যাসিড কমানোর ওষুধ পিপিআই খেলে তা আদতে ক্ষতি। এর প্রভাবে কোনও ভারী খাবার খেলে অ্যাসিডের অভাবে প্রোটিন হজমে বিঘ্ন ঘটে৷ খাবার নীচে নামার প্রক্রিয়া ধীর হয়ে পেট ভার, খাবার গলায় উঠে আসা, বমি, বদহজম ইত্যাদি হতে পারে। খেয়ে উঠেই গপাগপ অ্য়ান্টাসিড খেয়ে ফেলবেন না।

খাবার পরেই ভাতঘুম দেবেন না। বরং একটু হাঁটাচলা করে নিন। অন্তত ৪৫ মিনিট সোজা হয়ে বসুন, পারলে হেঁটে আসুন।

একদিন অস্বাভাবিক খেয়ে ফেলেছেন, এরপর একটু বুঝে খান। পরপর দু’দিন অন্তত হাল্কা খান। পাতলা মাছের ঝোল, ডালের জল খেতে পারেন। ভাত এক কাপের বেশি নেবেন না। প্রচুর গ্রিন স্যালাড খান। শশার রস পেট ঠান্ডা রাখে। পরের দুই থেকে তিন দিন বেশি ভাজাভুজি একদম নয়। পারলে মিষ্টি খাওয়া কিছুদিনের জন্য বন্ধ করুন। কেক-পেস্ট্রি-রোল-চাউমিন দেখলে চোখ বন্ধ করে থাকবেন।

খাবার পরে মৌরী-মিছরির জল খান, এতে পেট ঠান্ডা থাকবে। ঘণ্টা খানেক আগে ভিজিয়ে রাখবেন।

প্রয়োজন মনে করলে সকালে চা খাওয়ার পর প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর ৪০ মিলিগ্রাম খেয়ে নিতে পারেন।

ভূরিভোজের সঙ্গে নিকোটিন সমেত একগাদা রাসায়নিকের প্রভাবে শারীরিক অসুবিধের ঝুঁকি বাড়ে। ক’টা দিন অন্তত সিগারেট-অ্যালকোহলে রাশ টানুন।

নেহাত যদি অম্বল হয়ে যায়, সে ক্ষেত্রে ম্যাগনেশিয়াম হাইড্রক্সাইড জাতীয় ওষুধ খান। ক্রনিক সমস্যা থাকলে ডাক্তারের কাছে যান। প্রয়োজনে গ্যাস্ট্রোস্কোপি করিয়ে নেবেন। ভাল খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সুস্থ থাকাও কিন্তু জরুরি।